লাউ ৯৫% জল। তাই গরমে শরীর হাইড্রেটেড রাখে আর পেট ঠান্ডা করে। পুড়িয়ে ভর্তা করলে স্মোকি ফ্লেভার আসে, বেগুনের মতোই টেস্টি। তেল-মশলা নেই, পেঁয়াজ-রসুনও না। তাই গ্যাস-অম্বলের ভয় নেই। কাঁচা সর্ষের তেল, ধনেপাতা আর কাঁচা লঙ্কা দিয়ে মাখলেই রেডি। গরম ভাতে এই ভর্তা অমৃত। ১০ মিনিটে বানাও, প্রেসার কুকার লাগবে না।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বেগুন ভর্তা তো অনেকেই খান নিরামিষের দিন হোক বা আমিষের দিন হোক রুটি দিয়ে বেগুন ভর্তা বা গরম গরম ভাতে বেগুন ভর্তা সকলেই খান কিন্তু লাউ দিয়ে ভর্তা কখনো বানিয়ে দেখুন যেমনি শরীর ঠান্ডা রাখে তেমনি খেতেও সুস্বাদু।

কেন গরমে লাউ পোড়া ভর্তা? বেগুনের থেকে কী বেটার

বেগুন পোড়া খেতে ভালো, কিন্তু অনেকের গ্যাস-অম্বল হয়। বেগুনের বীজ আর খোসা হজম হতে টাইম নেয়। লাউ একদম উল্টো। লাউ সহজপাচ্য, ফাইবার আছে কিন্তু পেট ভার করে না। আয়ুর্বেদে লাউকে ‘ঠান্ডা’ সবজি বলে। লিভার ডিটক্স করে, ইউরিন ইনফেকশন কমায়, ব্লাড প্রেসার কন্ট্রোল করে। আর পোড়ানোর পর যে স্মোকি ফ্লেভারটা আসে, সেটা বেগুনের চেয়ে কোনো অংশে কম না। উপরে এক চামচ ঘি দিলে স্বাদ আর পুষ্টি দুটোই ডাবল। একাদশী বা নিরামিষ দিনের জন্য পারফেক্ট। পেঁয়াজ-রসুনের ঝাঁজ নেই, তাই বাচ্চা থেকে বয়স্ক সবাই খেতে পারবে।

১০ মিনিটে লাউ পোড়া ভর্তা: স্টেপ বাই স্টেপ রেসিপি

উপকরণ লাগবে হাতেগোনা। একটা মাঝারি কচি লাউ নাও, ৫০০ গ্রাম মতো। খোসা না ছাড়িয়ে ভালো করে ধুয়ে নাও। গ্যাসের উপর একটা স্ট্যান্ড বসিয়ে লাউটা রাখো। মিডিয়াম আঁচে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পোড়াও। ৮-১০ মিনিট লাগবে। খোসা কালো হবে, ফেটে ফেটে যাবে। একটা কাঁটা ঢুকিয়ে দেখো, নরম হয়ে গেছে কিনা। নেমে গেলে ঠান্ডা হতে দাও।

এবার খোসা ছাড়িয়ে নাও। হাতেই উঠে আসবে। লাউটা একটা বাটিতে নিয়ে চটকে মেখে নাও। জল বেরোবে, ওটা ফেলো না। ওতেই টেস্ট। এবার দাও 2 চামচ কাঁচা সর্ষের তেল, স্বাদমতো নুন, 2-3টে কাঁচা লঙ্কা কুচি, আর মুঠো ভর্তি ধনেপাতা কুচি। চাইলে 1 চামচ ভাজা শুকনো লঙ্কা গুঁড়ো দিতে পারো, দারুণ স্মোকি হবে। ভালো করে মেখে নাও। উপরে 1 চামচ ঘি ছড়িয়ে গরম ভাতে সার্ভ করো। চাইলে একটু ভাজা বাদাম গুঁড়ো দিতে পারো, ক্রাঞ্চ আসবে।

টেস্ট ৩ গুণ বাড়ানোর ৪টে সিক্রেট টিপস

প্রথমত, লাউ কেনার সময় কচি আর হালকা ওজনের লাউ নেবে। ভারী লাউয়ে বীজ বেশি, পানসে লাগবে। দ্বিতীয়ত, পোড়ানোর সময় গায়ে কাঁটা দিয়ে ৪-৫টা ফুটো করে দাও। ভিতর অব্দি তাপ যাবে, তাড়াতাড়ি সেদ্ধ হবে। তৃতীয়ত, ভর্তা মাখার পর ১০ মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখো। নুন, তেল, লঙ্কার ফ্লেভার লাউয়ের মধ্যে ঢুকে যাবে। টেস্ট ডাবল হবে। চতুর্থত, এক্সট্রা টুইস্ট চাইলে নামানোর আগে অল্প পোস্ত বাটা বা নারকেল কোরা মিশিয়ে দাও। একদম অনুষ্ঠান বাড়ির স্বাদ আসবে। আর পেঁয়াজ খেলে, একটা পেঁয়াজ কুচি করে কাঁচা সর্ষের তেলে হালকা কচলে ভর্তায় মিশিয়ে দাও। স্বর্গ।

কার জন্য বেস্ট? কখন খাবে না:

গরমে যাদের পেটের গোলমাল, IBS, আলসার, পাইলস আছে, তাদের জন্য এই ভর্তা ওষুধের মতো কাজ করবে। তেল-মশলা নেই, তাই বুক জ্বালা করবে না। ডায়াবেটিসের রোগীরাও খেতে পারবে, সুগার বাড়ায় না। ওজন কমাতে চাইলে রাতের বেলা রুটির সাথে এই ভর্তা খাও। পেট ভরবে, ক্যালোরি কম।

তবে যাদের ঠান্ডা লেগে আছে, সর্দি-কাশি, বা লাউ খেলে পেট খারাপ হয়, তারা এড়িয়ে চলো। লাউ খুব ঠান্ডা, তাই বেশি ঠান্ডা লাগলে কফ বেড়ে যেতে পারে। আর তেতো লাউ কখনো খাবে না। তেতো লাগলে ফেলে দাও। তেতো লাউ টক্সিক হয়।

বেগুন পোড়া পুরনো হল। এই গরমে লাউ পুড়িয়ে দেখো। খরচ কম, ঝামেলা কম, শরীরের জন্য ভালো। মা-ঠাকুমার হারিয়ে যাওয়া রেসিপি। আজ দুপুরেই বানিয়ে ফেলো।

লাউ কেনার সময় অবশ্যই চেখে দেখুন তেতো কিনা। তেতো লাউ শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাবার গ্রহণ করুন। এটি সাধারণ রেসিপি, মেডিকেল অ্যাডভাইস নয়।