কম খরচে ঘরের অন্দরসজ্জা বদলাতে চান? তাহলে মাত্র ১০০ টাকায় তুলসী গাছ লাগানো একটা দারুণ উপায় হতে পারে। বাড়ির নানা কোণায় তুলসী গাছ লাগিয়ে আপনি ঘরকে আরও ফ্রেশ, পজিটিভ আর আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন।
ঘরকে সুন্দর করে সাজাতে এবং পজিটিভ এনার্জিতে ভরিয়ে তুলতে তুলসী গাছের চেয়ে ভালো কিছু হয় না। ভারতীয় বাড়িতে ধর্ম এবং স্বাস্থ্য, দুই দিক থেকেই তুলসীর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হলো, আপনি মাত্র ১০০ টাকার বাজেটেও বাড়ির বিভিন্ন কোণায় তুলসী গাছ লাগিয়ে একটা ছোট্ট সবুজ অন্দরসজ্জা তৈরি করতে পারেন। যদি কম খরচে ঘরকে সতেজ, সুন্দর আর পজিটিভ ভাইব দিতে চান, তাহলে এই ২০টি জায়গা ও আইডিয়া আপনার খুব কাজে আসবে।
১০০ টাকায় তুলসী বাগান কীভাবে করবেন
আপনি বাজার থেকে তুলসীর বীজ বা ১০ টাকায় পাওয়া যায় এমন ছোট চারা কিনে আনতে পারেন। এই চারাগুলো থেকেই পরে আরও অনেক গাছ তৈরি করা সম্ভব। পুরোনো কাপ, বোতল, কৌটো বা ভাঙা টবকে প্ল্যান্টার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। সামান্য মাটি, রোদ আর জল পেলেই আপনার ছোট্ট তুলসী বাগান তৈরি হয়ে যাবে। তুলসী বাতাস শুদ্ধ করতে সাহায্য করে এবং ঘরে পজিটিভ এনার্জি বাড়ায়। কম বাজেটে ঘরকে সবুজ ও সুন্দর করে তোলার জন্য তুলসী দিয়ে বাগান করা একটি পারফেক্ট আইডিয়া।
বাড়ির এই ২০টি জায়গায় তুলসী গাছ লাগান
১. লিভিং রুমের কোণ: লিভিং রুমের খালি কোণায় একটি মাঝারি আকারের তুলসী গাছ রাখুন। এমন জায়গায় রাখুন যেখানে হালকা রোদ আসে। একটি ছোট স্ট্যান্ড বা কাঠের টুল ব্যবহার করলে এটি একটি সুন্দর ডেকর পিসের মতো দেখাবে।

২. জানলার ধার (উইন্ডো সিল): তুলসী গাছের জন্য এটি সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা। রোজ ৩-৪ ঘণ্টা রোদ পেলে গাছ সুস্থ থাকে। ছোট ছোট টব সারিবদ্ধভাবে রেখে একটি মিনি গার্ডেনের মতো লুক দিতে পারেন।
৩. রান্নাঘরের প্ল্যাটফর্ম: রান্নাঘরে একটি ছোট তুলসী গাছ রাখলে প্রয়োজনে তাজা পাতা সহজেই পাওয়া যায়। খেয়াল রাখবেন, এটিকে গ্যাস থেকে একটু দূরে রাখতে হবে এবং দিনে কিছুক্ষণ রোদ অবশ্যই পাওয়া চাই।
৪. ব্যালকনির রেলিং: রেলিংয়ে হ্যাঙ্গিং পটে তুলসী লাগানো এখন খুব ট্রেন্ডি। এখানে হাওয়া এবং রোদ দুটোই ভালোভাবে পাওয়ায় গাছ দ্রুত বাড়ে।
৫. বেডরুমের জানলা: বেডরুমের জানলার কাছে ছোট তুলসী গাছ রাখলে ঘরের বাতাসের মান ভালো হয়। এটি হালকা সতেজ ভাবও দেয়, তবে বেশি জল দেবেন না যাতে স্যাঁতস্যাঁতে ভাব না বাড়ে।
৬. স্টাডি টেবিল: স্টাডি টেবিলে একটি ছোট টব রাখুন। এতে মন সতেজ থাকে এবং ফোকাস বাড়ে। শুধু খেয়াল রাখবেন, এটি যেন মাঝে মাঝে সরাসরি রোদ পায়।
৭. পুজোর জায়গায় সাজান: পুজোর স্থানে তুলসী রাখা সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়। এখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মিত জল দেওয়ার দিকে খেয়াল রাখুন।

৮. সদর দরজায় লাগান: মূল দরজার কাছে তুলসী রাখলে ঘরে পজিটিভ শক্তির প্রবেশ ঘটে। এমনভাবে রাখুন যাতে যাওয়া-আসার পথে রোদ ও হাওয়া পায়।
৯. সিঁড়ির কোণ: সিঁড়ির প্রতি ২-৩টি ধাপের পর ছোট টব রেখে আপনি একটি সবুজ সজ্জা তৈরি করতে পারেন। শুধু খেয়াল রাখবেন সেখানে যেন কিছুটা আলো পৌঁছায়।
১০. বাথরুমের জানলা: যদি বাথরুমে জানলা থাকে এবং রোদ আসে, তাহলে একটি ছোট তুলসী গাছ রাখা যেতে পারে। এতে স্যাঁতস্যাঁতে জায়গাও ফ্রেশ লাগে।
১১. দেওয়ালে ঝোলানো টব: দেওয়ালে হ্যাঙ্গিং পট লাগিয়ে ভার্টিকাল গার্ডেন বানান। এটি ছোট বাড়ির জন্য সেরা এবং জায়গাও বাঁচে।
১২. পুরোনো মগ বা কাপ: পুরোনো চায়ের কাপে তুলসী লাগানো একটি খুব ক্রিয়েটিভ এবং বাজেট-ফ্রেন্ডলি আইডিয়া। এগুলো ছোট আলংকারিক গাছের মতো দেখতে লাগে।
১৩. প্লাস্টিকের বোতলের প্ল্যান্টার: পুরোনো বোতল কেটে তাতে মাটি ভরে তুলসী লাগান। এটিকে দেওয়ালে বা গ্রিলে ঝুলিয়ে একটি ইউনিক গার্ডেনিং স্টাইল তৈরি করতে পারেন।
১৪. ডাইনিং টেবিলের মাঝে: ছোট তুলসী গাছ সেন্টারপিস হিসেবে খুব সুন্দর লাগে। এটি একটি প্রাকৃতিক সজ্জার কাজ করে।
১৫. জানলার গ্রিল: গ্রিলে ছোট ছোট টব লাগিয়ে একটি গ্রিন ওয়াল এফেক্ট তৈরি করা যেতে পারে। এটি বাইরে থেকেও খুব আকর্ষণীয় দেখায়।
১৬. ছাদের কোণ: ছাদে ২-৩টি তুলসীর টব রেখে একটি মিনি গার্ডেন বানান। এখানে भरपूर রোদ পাওয়ায় গাছ দ্রুত বাড়ে।
১৭. টুল বা সাইড টেবিল: ছোট টুলের উপর তুলসী গাছ রেখে আপনি একটি ডেকোরেটিভ ফোকাস পয়েন্ট তৈরি করতে পারেন। এর পাশে আলো বা মোমবাতি রেখে আরও সুন্দর লুক দিন।
১৮. বুকশেলফ: বুকশেলফে ছোট তুলসীর টব রাখলে অন্দরসজ্জা খুব ফ্রেশ এবং ইউনিক লাগে। শুধু জল কম দেবেন যাতে বই নষ্ট না হয়।
১৯. হ্যাঙ্গিং বাস্কেট: ছাদ থেকে ঝোলানো বাস্কেটে তুলসী লাগান। এটি মডার্ন এবং স্টাইলিশ গার্ডেনিংয়ের একটি অংশ।
২০. জানলার বাইরের তাক: জানলার বাইরে ছোট তাক বানিয়ে তাতে তুলসীর টব রাখুন। এতে বাইরে থেকেও বাড়িকে সবুজ ও সুন্দর দেখায়।


