এখন রকমারি পদ রান্না না করে, দু’একটি পদেই ভোজন সেরে ফেলা যেতে পারে। তাই বলে স্বাদহীন, সেদ্ধ রান্না খেতে হবে, তার কোনও মানে নেই। তবে ঘরের সাপ্তাহিক মেনু থেকে এখন কিছু পদ আপাতত সরিয়ে রাখাই ভাল। সেই বুঝে বাজারের তালিকাতেও করে ফেলুন কিছু কাটছাঁট।

গ্যাস বাঁচাতে হেঁশেলের মেনুকার্ডে ছোট ছোট পরিবর্তন আনুন। মাংস কষা, ধোঁকার ডালনা, বা বেশি সিদ্ধ করার পদ এড়িয়ে চলুন । পরিবর্তে, ভাতের সাথে সেদ্ধ, বাটিচচ্চড়ি, মোচা বা পালংশাকের ঘণ্ট, মাছের ঝোল এবং দ্রুত সিদ্ধ হয় এমন সবজি রান্না করুন। প্রেসার কুকার ব্যবহার করুন এবং ঢাকা দিয়ে রান্না করুন।

গ্যাসের সাশ্রয় করতে এখন একটু বুদ্ধি করে না চললেই নয়। বাজার থেকে যে মাছ, মাংস, শাকসব্জি আনা হয়, সেই সব নিয়ে রোজ কী বানাবেন, সেই ভাবনা অনেকের কাছেই বেশ বিরক্তির। তার উপর এখন আবার কী ভাবে গ্যাসের খরচ কম করবেন, সেই ভাবনাও মাথায় রাখতে হবে।

গ্যাস বাঁচাতে যে মেনুগুলো সাশ্রয়ী:

* ভাত ও সেদ্ধ: ভাতের সাথে ডিম, আলু বা যেকোনো সবজি সিদ্ধ করে নিন। এটি সবচেয়ে কম গ্যাসে হয়

* বাটিচচ্চড়ি: মাছ বা সবজির বাটিচচ্চড়ি কম সময়ে এবং কম গ্যাসে তৈরি হয়

* শাক-সবজি: পালংশাক, লাউশাক বা দ্রুত সিদ্ধ হয় এমন সবজি (পটোল, করলা, ঝিঙে) রান্না করুন

* ডাল: ভিজিয়ে রাখা ডাল প্রেসার কুকারে ২-৩ টি সিটিতেই সিদ্ধ হয়ে যায়, যা গ্যাস বাঁচায়।

* দ্রুত তৈরি পদ: ওমলেট, পনিরের রসা, বা ভাতের সাথে মাছের ঝোল

* পায়েস: চিঁড়ের পায়েস বা সিমাইয়ের পায়েস, যা চালের পায়েসের চেয়ে কম সময় নেয়

যেগুলো রান্না করলে গ্যাস বেশি অপচয় হয় (বর্জনীয়):

* কষা মাংস বা কষা তরকারি: দীর্ঘক্ষণ ধরে কষালে গ্যাসের অপচয় হয়

* ধোঁকার ডালনা: ধোঁকা তৈরি এবং ঝোল ফোটানো—দুটোতেই অনেক গ্যাস খরচ হয়

* শক্ত ডাল বা শস্য: মুখ ডাল বা অড়হর ডাল যা সিদ্ধ হতে বেশি সময় নেয়।

* পুরভরা পদ: পটলের দোলমা বা অন্য কোনো পুরভরা তরকারি, কারণ এতে রান্নার সময় বেশি লাগে

* খোলা পাত্রে রান্না: ঢাকা ছাড়া রান্না করলে তাপ বেরিয়ে যায়।

গ্যাস সাশ্রয়ের বিশেষ টিপস:

* প্রেসার কুকার: ডাল, চাল, বা সবজি সিদ্ধ করার জন্য প্রেসার কুকার সবচেয়ে সেরা, এতে ২০-৩০% গ্যাস বাঁচে ।

* ঢাকা দিয়ে রান্না: রান্নার পাত্র সবসময় ঢাকা দিয়ে রাখুন, এতে খাবার তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয় ।

* আগে থেকে প্রস্তুতি: রান্না শুরু করার আগে শাক-সবজি কেটে, মশলা গুছিয়ে রাখুন, যাতে অযথা গ্যাসে আঁচ না পড়ে।

* ভিজিয়ে রাখা: চাল বা ডাল রান্নার অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগে ভিজিয়ে রাখুন।

* ফ্রিজের খাবার: ফ্রিজ থেকে বার করা খাবার অন্তত আধ ঘণ্টা বাইরে রেখে তারপর রান্না করুন।

এই ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনি আপনার মাসের গ্যাসের খরচে অনেকটাই সাশ্রয় করতে পারবেন।