Health News: ‘বাচ্চাকে মোবাইল দিলেই অটিজম হবে’ – এই মেসেজ দেখে ভয় পাচ্ছেন? শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোবাইল থেকে অটিজম হয় না। অটিজম জন্মগত। তবে দিনে ৪-৫ ঘণ্টা স্ক্রিন দেখলে ‘ভার্চুয়াল অটিজম’-এর মতো উপসর্গ আসতে পারে। কথা দেরিতে বলা, ডাকলে না তাকানো – এগুলো আসল অটিজম নয়। পার্থক্য কী, কখন ডাক্তার দেখাবেন? রইল সব উত্তর।

Health News: খাওয়ানোর সময় মোবাইল, কান্না থামাতে মোবাইল। ২ বছরের বাচ্চার হাতেও ইউটিউব। এর মাঝেই হোয়াটসঅ্যাপে ভাইরাল – ‘মোবাইলই বাচ্চার অটিজমের কারণ’। বাবা-মায়েরা আতঙ্কে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

প্রথমে বুঝুন: অটিজম কী?

কলকাতার পেডিয়াট্রিক নিউরোলজিস্ট ডাঃ সুমনা বসু বলছেন, “অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার বা ASD হল ব্রেনের বিকাশের ধরন আলাদা হওয়া। এটা জন্মগত। জিনগত কারণ, গর্ভাবস্থার কিছু জটিলতা এর বড় কারণ।”

তাহলে মোবাইল কি অটিজম তৈরি করে?

সোজা উত্তর: না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO, আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স AAP, ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স IAP – সবাই বলছে, আজ পর্যন্ত কোনও গবেষণায় প্রমাণ হয়নি যে মোবাইল দেখলে অটিজম হয়। অটিজম থাকলে ১২-১৮ মাস বয়সেই লক্ষণ দেখা যায়, মোবাইল দেন বা না দেন।

তাহলে সমস্যাটা কোথায়? ‘ভার্চুয়াল অটিজম’ কী?

ডাঃ বসু জানালেন, “০-৩ বছর বয়স ব্রেন তৈরির সময়। এই সময় বাচ্চা মানুষের মুখ দেখে, কথা শুনে, খেলে শেখে। একে বলে সার্ভ অ্যান্ড রিটার্ন।”

“যখন দিনে ৪-৫ ঘণ্টা বাচ্চা শুধু স্ক্রিন দেখে, তখন সে মানুষের সাথে মেশা শেখে না। ফলে কথা দেরিতে বলে, নাম ধরে ডাকলে তাকায় না, একা খেলতে চায়। এই উপসর্গগুলো দেখতে অটিজমের মতো। একে বলে ভার্চুয়াল অটিজম বা স্ক্রিন থেকে হওয়া অটিস্টিক লাইক বিহেভিয়ার।”

আসল অটিজম আর ভার্চুয়াল অটিজমের তফাৎ:

১. কারণ: আসল অটিজম জন্মগত, জিনগত। ভার্চুয়াল অটিজম হয় অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম আর মানুষের সাথে কম মেশার জন্য।

২. চোখের যোগাযোগ: আসল অটিজমে বাচ্চা জন্ম থেকেই চোখে চোখ কম রাখে। ভার্চুয়াল অটিজমে আগে ঠিক ছিল, স্ক্রিন আসক্তির পর চোখে তাকানো কমেছে।

৩. ভালো হওয়ার সম্ভাবনা: আসল অটিজমে থেরাপি লাগে, পুরো সারে না, ম্যানেজ করতে হয়। ভার্চুয়াল অটিজমে স্ক্রিন ১০০% বন্ধ করে দিলে ৩-৬ মাসে ৮০% বাচ্চা স্বাভাবিক হয়ে যায়।

অতিরিক্ত মোবাইল থেকে কী কী ক্ষতি হয়?

১. স্পিচ ডিলে: ২ বছরে ৫০টা শব্দ বলার কথা। স্ক্রিন দেখলে বাচ্চা শুধু শোনে, বলার সুযোগ পায় না। ফলে কথা দেরিতে শুরু হয়।

২. সোশ্যাল স্কিল নষ্ট: বন্ধুদের সাথে মিশতে পারে না, শেয়ার করতে শেখে না। জেদ, রাগ, ট্যানট্রাম বাড়ে।

৩. ঘুমের সমস্যা: স্ক্রিনের নীল আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন কমায়। রাতে ঘুম আসে না, মেজাজ খিটখিটে থাকে।

৪. চোখ ও মনোযোগের ক্ষতি: ছোট বয়সে মায়োপিয়া, অ্যাটেনশন ডেফিসিট হতে পারে।

৫. স্থূলতা: বসে বসে দেখে, ছুটোছুটি করে না। ওবেসিটি, ভিটামিন ডি-র অভাব হয়।

কতক্ষণ মোবাইল দেখা সেফ? WHO কী বলছে:

১. ০-২ বছর: জিরো স্ক্রিন টাইম। শুধু দাদু-দিদার সাথে ভিডিও কল চলতে পারে।

২. ২-৫ বছর: দিনে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা। তাও বাবা-মার সাথে বসে ভালো এডুকেশনাল কিছু। একা ছেড়ে দেবেন না।

৩. ৫ বছরের উপর: দিনে ২ ঘণ্টার বেশি নয়। পড়াশোনার জন্য ল্যাপটপ আলাদা হিসাব।

কখন ডাক্তার দেখাবেন? ৫টা রেড ফ্ল্যাগ:

আপনার বাচ্চার বয়স ১৮ মাস থেকে ৩ বছরের মধ্যে হলে এই লক্ষণগুলো দেখুন:

১. নাম ধরে ডাকলে তাকায় না

২. আঙুল দিয়ে কিছু দেখায় না বা চায় না

৩. চোখে চোখ রেখে হাসে না

৪. ‘টা টা’, ‘বাই বাই’ করে না

৫. ২ বছরে একটাও অর্থপূর্ণ শব্দ বলে না

এই লক্ষণ থাকলে ভয় পাবেন না। কিন্তু দেরি না করে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বা ডেভেলপমেন্টাল পেডিয়াট্রিশিয়ানের সঙ্গে কথা বলুন। উনি পরীক্ষা করে বলবেন এটা ভার্চুয়াল অটিজম নাকি আসল ASD। দরকারে স্পিচ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি শুরু হবে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।