তাপমাত্রার হেরফের বুঝে ব্যবস্থা নিন এবং সংক্রমণ যাতে না ছড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। নিয়মিত সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম আর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে বেশিরভাগ সর্দি-কাশি বা ছোটখাটো ভাইরাল সংক্রমণ সহজেই এড়ানো যায়

ঋতু পরিবর্তনের সময় (বিশেষ করে গরম থেকে বর্ষা বা শীতের শুরুতে, এবং শীত গিয়ে গরমে প্রবেশের সময়) শিশুদের সর্দি-কাশি, জ্বর ও অ্যালার্জি থেকে বাঁচাতে নিয়মিত হাত ধোয়া, পুষ্টিকর খাবার, এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি । বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ৬ মাস পর্যন্ত কেবল বুকের দুধ খাওয়ানো, ফ্লু ভ্যাকসিন নেওয়া, এবং অসুস্থ ব্যক্তি বা জনাকীর্ণ স্থান এড়িয়ে চলাই হলো প্রধান সুরক্ষা কবচ।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী বিস্তারিত সুরক্ষাবিধি:

পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি:

• হাত ধোয়া: শিশু এবং নিজের হাত সাবান দিয়ে বারবার ধুয়ে ফেলুন, কারণ হাত দিয়েই ভাইরাস নাক-চোখে প্রবেশ করে।

* পরিবেশ পরিষ্কার: খেলনা, বোতল ও বাচ্চার খেলার জায়গা নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করুন।

* আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরত্ব: পরিবারে কেউ অসুস্থ থাকলে তার থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখুন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে পুষ্টি:

• বুকের দুধ: প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ালে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

* ভিটামিন সি ও পুষ্টিকর খাবার: ভিটামিন সি যুক্ত ফল (লেবু, কমলা), শাকসবজি ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার শিশুকে দিন ।

* পর্যাপ্ত জল: শরীর আর্দ্র রাখতে কুসুম গরম জল বা তরল খাবার খাওয়ান।

আবহাওয়া অনুযায়ী পোশাক:

• হঠাৎ ঠান্ডা লাগা এড়াতে লেয়ার করে বা হালকা গরম পোশাক পরান।

* এসি থেকে সাধারণ তাপমাত্রায় বের করার সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন।

বাসস্থান ও সতর্কতা:

• জনাকীর্ণ স্থান বর্জন: অসুস্থতার মরসুমে শপিং মল, মেলা বা ভিড় এড়িয়ে চলুন।

* টিকাকরণ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফ্লু বা নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন সময়মতো দিন।

* ধুলোবালি থেকে সতর্কতা: ঘর পরিষ্কার রাখুন যাতে এলার্জি না হয়।

সর্দি-কাশির প্রাথমিক ঘরোয়া সমাধান:

• স্যালাইন ড্রপ: নাক বন্ধ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে স্যালাইন নেজাল ড্রপ ব্যবহার করুন।

* গরম ভাপ: খুব বেশি বন্ধ নাক হলে হালকা গরম জলের ভাপ বা বাষ্প দেওয়া যেতে পারে।

কখন দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন?

* শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা দ্রুত শ্বাস নিলে।

* টানা ৩ দিনের বেশি জ্বর থাকলে বা তীব্র জ্বর এলে।

* শিশু খুব ক্লান্ত হয়ে পড়লে বা কিছুই না খেলে।

* কাশি ৩ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে।

দ্রষ্টব্য: যেকোনো ওষুধ দেওয়ার আগে অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।