Health News: একটানা ‘স্ক্রিন টাইম’ আর বারে বারে ফোনের দিকে তাকানো— এই দুই অভ্যাসই ক্ষতিকর। তবে দ্বিতীয়টির পাল্লা কিছু বেশি। কিছু সময় অন্তরই যদি ফোনে চোখ রাখেন, তা হলে সেটি যে কেবল চোখের ক্ষতি করছে, তা নয়। এক আশ্চর্য বদলও ঘটতে থাকে মস্তিষ্কে। 

Health News: দিনে ৮০-৯০ বারের বেশি ফোনে চোখ রাখা বা আনলক করা মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা, একাগ্রতা এবং স্মৃতিশক্তি মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিতে পারে। এই অভ্যাস ‘ডোপামিন’ নামক হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, কাজের মনোযোগ কমায় এবং উদ্বেগ বাড়ায়। ঘন ঘন ফোন দেখার ফলে মস্তিষ্কের ‘টাস্ক-সুইচিং’ ক্ষমতা নষ্ট হয়, ফলে কাজ থেকে মনোযোগ সরতে সময় লাগে না।

মস্তিষ্কে যেসব বড় পরিবর্তন ঘটে:

* ডোপামিন আসক্তি ও উদ্বেগ: প্রতিবার ফোনের নোটিফিকেশন দেখলে মস্তিষ্ক থেকে ডোপামিন নিঃসৃত হয়, যা সাময়িক ভালো লাগা দিলেও পরে আসক্তি তৈরি করে। যখনই ফোন হাতের কাছে থাকে না, তখন উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটি বেড়ে যায়।

* একাগ্রতা হ্রাস (Broken Focus): ঘন ঘন ফোনের দিকে তাকালে মস্তিষ্ক বারবার কাজের মোড় ঘোরাতে (Switching) বাধ্য হয়, ফলে দীর্ঘক্ষণ একটি কাজে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়।

* কাজের স্মৃতি বা 'ওয়ার্কিং মেমরি' কমে যাওয়া: গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে ১০০-১১০ বারের বেশি ফোন আনলক করেন, তাদের নতুন কিছু শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি কমে যেতে শুরু করে।

* মানসিক ক্লান্তি: অবিরাম নোটিফিকেশন চেক করা মস্তিষ্ককে ক্লান্ত করে ফেলে, যা কাজের উৎপাদনশীলতা (Productivity) ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।

শারীরিক ও চোখের প্রভাব:

* ডিজিটাল আই সিনড্রোম: দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের পলক পড়া কমে যায়, যা চোখ শুকনো (Dry eyes), ঝাপসা দৃষ্টি এবং মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

* মায়োপিয়া ঝুঁকি: বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ঘন ঘন ফোন ব্যবহারের ফলে মায়োপিয়া বা দূরের দৃষ্টি কমে যাওয়ার সমস্যা বাড়ছে।

এর থেকে বাঁচার উপায়:

* ফোনের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা।

* ২০-২০-২০ নিয়ম মানা (প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকানো)।

* শোয়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে ফোন থেকে দূরে থাকা।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।