লোডশেডিং বা ফ্রিজ খারাপ? গরমে ৪ ঘণ্টাতেই পচে যায় তরকারি, টকে যায় দুধ-ভাত। টেনশন নেই। ঠাকুরমার জমানার ৫টা টোটকা মানলেই ফ্রিজ ছাড়াই ১২-২৪ ঘণ্টা তাজা থাকবে খাবার। নুন, ভিনিগার, সরষের তেল থেকে মাটির হাঁড়ি – ঘরোয়া জিনিসেই আছে মুশকিল আসান। ফুড পয়জনিং থেকে বাঁচতে জেনে নিন নিয়মগুলো।

গরমেও নষ্ট হবে না তরকারি! ফ্রিজ ছাড়াই খাবার তাজা রাখা যায়। কারেন্ট নেই ৬ ঘণ্টা। ফ্রিজ বন্ধ। আর ওদিকে সকালে রান্না করা মাছের ঝোল, ডাল, ভাত থেকে টক গন্ধ বেরোচ্ছে। গরমে এই সিনটা ঘরে ঘরে কমন। ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ব্যাকটেরিয়া ডবল স্পিডে বংশবিস্তার করে। ফলে খাবার নষ্ট, পেট খারাপ, বমি। কিন্তু আমাদের ঠাকুরমা-দিদিমারা তো ফ্রিজ ছাড়াই খাবার রাখতেন। কীভাবে? জেনে নিন ৫টা ম্যাজিক টোটকা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

*১. নুন আর হলুদের কারিশমা: ব্যাকটেরিয়ার যম*

তরকারি রান্নার পর এক চামচ সরষের তেল আর হাফ চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। নামানোর আগে সামান্য নুন ছড়িয়ে দিন। নুন-হলুদ দুটোই প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ। ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে দেয় না। এভাবে রাখলে ডাল-তরকারি ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ভালো থাকে। খাওয়ার আগে আবার ফুটিয়ে নেবেন।

*২. ভিনিগার বা লেবুর রস: টক জিনিসের অ্যাসিড গার্ড*

মাছ, মাংস বা ডিমের কারিতে ১ চামচ সাদা ভিনিগার বা ২ চামচ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে দিন। অ্যাসিডিক মিডিয়ামে ব্যাকটেরিয়া বাঁচে না। খাবারের স্বাদও চট করে নষ্ট হয় না। চাইনিজ রান্নায় এই টেকনিক বহু পুরনো। তবে দুধের কোনো আইটেমে ভুলেও দেবেন না, ফেটে যাবে।

*৩. মাটির হাঁড়ি বা কোল্ড ওয়াটার বাথ: গরিবের ফ্রিজ*

আগের দিনে মাটির জালায় জল ঠান্ডা থাকত কেন? মাটির হাঁড়ি বাষ্পীভবনের মাধ্যমে ভিতর ঠান্ডা রাখে। তরকারির বাটিটা একটা বড় গামলায় বসান। গামলায় ঠান্ডা জল দিন যাতে বাটির অর্ধেক ডুবে থাকে। উপরে ভিজে সুতির কাপড় ঢাকা দিন। ৪-৫ ঘণ্টা পর পর জল পাল্টান। এটা ‘জিরো এনার্জি ফ্রিজ’। ২৪ ঘণ্টা খাবার ভালো থাকবে।

*৪. ভাত-ডালের জন্য শুকনো লঙ্কা আর তেজপাতা*

ভাতের হাঁড়িতে ২টো শুকনো লঙ্কা আর ২টো তেজপাতা ফেলে রাখুন। ডালের ক্ষেত্রেও তাই। শুকনো লঙ্কার অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ ফাঙ্গাস ধরতে দেয় না। আর তেজপাতা পোকা আসতে দেয় না। ভাত বেড়ে দেওয়ার পর হাঁড়ির মুখে পাতলা সুতির কাপড় বেঁধে দিন। ঢাকনা দেবেন না, ভাপ জমে তাড়াতাড়ি নষ্ট হবে।

*৫. দুধ বাঁচাতে জ্বাল দেওয়া মাস্ট*

কাঁচা দুধ গরমে ২ ঘণ্টাও টেকে না। দুধ কিনেই ভালো করে ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। তারপর ঠান্ডা করে মাটির পাত্রে রাখুন। ৪-৫ ঘণ্টা পর পর আবার গরম করুন। এভাবে ১ দিন আরামসে রাখতে পারবেন। আরেকটা ট্রিক: দুধে ১ চিমটে খাবার সোডা ফেলে জ্বাল দিন। সহজে কাটবে না।

*কী কী ভুল করবেন না?*

১. গরম খাবার গরম অবস্থায় ঢাকা দেবেন না। ভাপে ব্যাকটেরিয়া হয়। ঠান্ডা করে ঢাকুন।

২. বার বার কড়াই থেকে হাতা দিয়ে তুলে খাবেন না। প্রতিবার হাতের ব্যাকটেরিয়া যায়। একবারে বেড়ে নিন।

৩. পচা গন্ধ বের হলে বা উপর সাদা সর পড়লে রিস্ক নেবেন না। ফেলে দিন।

*শেষ কথা:*

ফ্রিজ একটা সুবিধা, কিন্তু বাধ্যতা নয়। আমাদের পূর্বপুরুষরা এই টোটকাগুলো মেনেই গরম কাটাতেন। লোডশেডিংয়ের দেশে এই হ্যাকগুলো জানা থাকলে খাবার নষ্ট হবে না, পকেটও বাঁচবে। তবে মনে রাখবেন, ২৪ ঘণ্টার বেশি কোনো রান্না করা খাবার ফ্রিজ ছাড়া না রাখাই ভালো।

*বিঃদ্রঃ* বাসি খাবার খেয়ে ডায়রিয়া, বমি বা ফুড পয়জনিং হলে দ্রুত ডাক্তার দেখান। এই টিপসগুলো সাময়িক সমাধান, চিরস্থায়ী নয়।