খুশকি মানেই শুকনো চামড়া উঠছে, এটা ভুল। খুশকি মূলত ২ রকম: ১. ড্রাই ড্যানড্রাফ, ২. অয়েলি ড্যানড্রাফ। ড্রাই হলে ছোট ছোট সাদা গুঁড়ো ঝরে, স্ক্যাল্প টানে, শীতে বাড়ে। অয়েলি হলে হলদে, বড়, তেলতেলে আঁশ হয়, স্ক্যাল্প লালচে, চুল আঠা আঠা লাগে, গরমে বাড়ে। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

চিরুনি দিলেই কাঁধে সাদা গুঁড়ো। হাত দিলেই নখে চামড়া। বিরক্ত হয়ে অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু কিনলে। কিন্তু ২ সপ্তাহ পর খুশকি ডাবল, সঙ্গে চুল উঠছে। কারণ তুমি ড্রাই স্ক্যাল্পে সেবোরিক ডার্মাটাইটিসের শ্যাম্পু দিয়েছ। বা উল্টোটা। আগে আয়নায় দেখো, তোমারটা কোন টিমে।

* টিম ‘ড্রাই ড্যানড্রাফ’: মরুভূমি স্ক্যাল্প

১. দেখতে কেমন: ছোট, সাদা, শুকনো গুঁড়োর মতো। কাঁধে, জামায় ঝরে পড়ে। ফুঁ দিলেই উড়ে যায়।

২. ফিল কেমন: মাথার তালু টানটান লাগে, চুলকায়। বিশেষ করে শ্যাম্পুর পর। স্ক্যাল্পে কোনো লাল ভাব নেই।

৩. কখন বাড়ে: শীতকালে, AC-তে বেশি থাকলে, গরম জলে মাথা ধুলে। কারণ স্ক্যাল্পের ন্যাচারাল তেল ধুয়ে যায়।

৪. আসল কারণ: ডিহাইড্রেশন, হার্শ শ্যাম্পু, কম জল খাওয়া, এগজিমা। ফাঙ্গাসের হাত নেই। এটা শুধু শুকনো চামড়া।

৫. ভুল করলে কী হবে: কিটোকোনাজল, জিঙ্ক পাইরিথিওন দেওয়া স্ট্রং অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু দিলে স্ক্যাল্প আরও শুকিয়ে খড়ি হয়ে যাবে। চুল ভাঙবে।

টিম ‘অয়েলি ড্যানড্রাফ’: তেলের খনি

১. দেখতে কেমন: বড় বড়, হলদে বা অফ-হোয়াইট, তেলতেলে আঁশ। চুলের গোড়ায় চটার মতো লেগে থাকে। নখ দিয়ে চাপলে উঠে আসে।

২. ফিল কেমন: স্ক্যাল্প লালচে, ভেজা ভেজা, খুব চুলকায়। চুল শ্যাম্পুর ১ দিন পরেই তেলতেলে, নেতিয়ে পড়ে। বাজে গন্ধ হতে পারে।

৩. কখন বাড়ে: গরমে, ঘাম হলে, স্ট্রেসে, রাতে শ্যাম্পু না করে ঘুমালে।

৪. আসল কারণ: এর নাম সেবোরিক ডার্মাটাইটিস। মাথায় সবার স্ক্যাল্পেই Malassezia নামে ফাঙ্গাস থাকে। যাদের সেবাম মানে তেল বেশি বের হয়, সেই তেল খেয়ে ফাঙ্গাস বেড়ে যায়। তখন স্কিন ইনফ্লেমড হয়ে তাড়াতাড়ি চামড়া ছাড়ে।

৫. ভুল করলে কী হবে: নারকেল তেল মাখলে, ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু দিলে ফাঙ্গাসের ভোজ বাড়বে। খুশকি, চুলকানি, চুল পড়া তিনটেই বাড়বে।

* ১০ সেকেন্ডের টিস্যু টেস্ট: বাড়িতে বসে চেক করুন

১. কখন করবে: শ্যাম্পু করার ২৪ ঘণ্টা পর। সকালে ঘুম থেকে উঠে।

২. কীভাবে: একটা সাদা টিস্যু নাও। মাথার সিঁথির কাছে চেপে ধরো। হালকা ঘষো।

৩. রেজাল্ট:

- টিস্যুতে তেলের ছাপ + হলদে আঁশ : যাদের স্ক্যাল্প তেলতেলে তাদের লাগবে কিটোকোনাজল 2%, সেলেনিয়াম সালফাইড, জিঙ্ক পাইরিথিওন শ্যাম্পু। সপ্তাহে ২-৩ বার।

- টিস্যু শুকনো + সাদা গুঁড়ো: যাদের ড্রাই তাদের জন্য সালফেট-ফ্রি, হাইড্রেটিং শ্যাম্পু। সাথে কন্ডিশনার। সপ্তাহে ২ বার শ্যাম্পু, রোজ কন্ডিশনার শুধু লেংথে। সপ্তাহে ১ বার নারকেল তেল বা অ্যালোভেরা।

- লাল চাকা, মোটা আঁশ, রক্ত বেরোচ্ছে: এটা ড্যানড্রাফ না। সোরিয়াসিস বা একজিমা হতে পারে। ডাক্তার দেখান।

দুই টিমের জন্য কমন ভুল

১. রোজ শ্যাম্পু: ড্রাই হলে আরও শুকাবে। অয়েলি হলে স্ক্যাল্প ভাববে ‘তেল কমে গেছে’, আরও তেল ছাড়বে। ২-৩ দিন গ্যাপ দাও।

২. গরম জল: দুই টিমের শত্রু। হালকা গরম বা ঠান্ডা জল ইউজ করো।

৩. নখ দিয়ে চুলকানো: ইনফেকশন হবে। আঙুলের ডগা দিয়ে হালকা মাসাজ করো।

খুশকি নিয়ে ডাক্তার দেখাতে লজ্জা নেই। ৫০% মানুষের জীবনে একবার হয়। কিন্তু ভুল ট্রিটমেন্টে পার্মানেন্ট হেয়ার ফল হতে পারে। ৪ সপ্তাহ শ্যাম্পু ইউজের পরও না কমলে, বা স্ক্যাল্প খুব লাল, রস বের হলে একজন ডার্মাটোলজিস্ট বা স্কিন স্পেশালিস্টের সাথে অবিলম্বে কথা বলুন। নিজে থেকে স্টেরয়েড লোশন লাগাবেন না।