পড়ার চাপ, মোবাইল-গেমে আসক্তি, একাকীত্ব - শৈশবেই বাসা বাঁধছে অবসাদ ও বিষণ্ণতা। ছোটদের ওষুধ নয়, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন ১৫ মিনিটের ৫টি সহজ যোগাসনই হতে পারে শিশুদের মন ভাল রাখার সেরা দাওয়াই।
আগে ভাবা হতো, অবসাদ শুধু বড়দের হয়। কিন্তু এখন ছবিটা বদলে গেছে। ৮ থেকে ১৪ বছরের শিশুদের মধ্যেও বাড়ছে Depression, Anxiety। অতিরিক্ত পড়ার চাপ, বাবা-মায়ের প্রত্যাশা, বন্ধুদের সাথে মিশতে না পারা, আর সবচেয়ে বড় কারণ - দিনে ৪-৫ ঘণ্টা মোবাইল স্ক্রিন।
মনোবিদরা বলছেন, শিশুরা মুখে বলতে পারে না, কিন্তু তাদের আচরণে বোঝা যায় - স্কুলে যেতে না চাওয়া, সারাক্ষণ রেগে থাকা, খেতে না চাওয়া, রাতে ঘুম না হওয়া, বা একা একা ঘরে বসে থাকা। এই সময়ে বকাঝকা নয়, দরকার মনের যত্ন। আর সেই যত্নের সেরা উপায় হতে পারে যোগাসন। যোগাসনে মস্তিষ্কে হ্যাপি হরমোন সেরোটোনিন ও ডোপামিন বাড়ে, যা মনকে শান্ত করে।
ছোটদের মন ভাল রাখার ৫টি ম্যাজিক যোগাসন:
১. বালাসন (Child's Pose) - নিরাপত্তার অনুভূতি দেয়:
বাচ্চারা যখন খুব ভয় পায় বা কাঁদে, তখন গুটিয়ে শুয়ে পড়ে। বালাসন ঠিক সেই ভঙ্গি। হাঁটু মুড়ে বসে সামনের দিকে ঝুঁকে কপাল মাটিতে ঠেকানো। এই আসনে নার্ভাস সিস্টেম শান্ত হয়, বুকের চাপ কমে, শিশুরা নিরাপদ বোধ করে। রাতে ঘুমানোর আগে ২ মিনিট করলে ঘুম ভাল হয়।
২. ভুজঙ্গাসন (Cobra Pose) - আত্মবিশ্বাস বাড়ায়:
পেটের ভরে শুয়ে বুক ওপরে তোলা। দেখতে সাপের ফণার মতো। এই আসনে বুকে ও ফুসফুসে অক্সিজেন বেশি যায়, মেরুদণ্ড শক্ত হয়। যেসব বাচ্চা কুঁজো হয়ে থাকে, আত্মবিশ্বাস কম, তাদের জন্য এটি দারুণ। মন খুলে যায়, হীনমন্যতা কমে।
৩. বৃক্ষাসন (Tree Pose) - মনোযোগ বাড়ায়:
এক পায়ে দাঁড়িয়ে অন্য পা হাঁটুর ওপরে রেখে হাত জোড় করে দাঁড়ানো। মোবাইলে আসক্ত, অমনোযোগী বাচ্চাদের জন্য সেরা আসন। শরীরের ব্যালেন্স রাখতে গিয়ে মন এক জায়গায় স্থির হয়। ফলে পড়ায় মনোযোগ, ধৈর্য বাড়ে এবং চঞ্চলতা কমে।
৪. মার্জারিআসন (Cat-Cow Pose) - রাগ ও জেদ কমায়:
হামাগুড়ি দিয়ে বসে বিড়ালের মতো পিঠ ওপরে-নিচে করা। এই আসনে মেরুদণ্ডে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং পেটের গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য কমে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেট পরিষ্কার থাকলে মনও ভাল থাকে। রাগী ও জেদি বাচ্চাদের জন্য এটি খুব কার্যকর।
৫. শবাসন ও ভ্রামরী প্রাণায়াম - ঘুম ও শান্তির জন্য:
সব শেষে ৩ মিনিট চোখ বন্ধ করে শবাসনে শুয়ে থাকা এবং ভ্রমরের মতো গুনগুন শব্দ করে শ্বাস ছাড়া। এই প্রাণায়ামে মস্তিষ্ক ঠান্ডা হয়, দুশ্চিন্তা কমে। যে বাচ্চারা রাতে ঘুমায় না বা দুঃস্বপ্ন দেখে, তাদের জন্য এটি মহৌষধ।
বাবা-মায়েরা কী করবেন?
- বাচ্চাকে যোগাসন করতে জোর করবেন না, খেলার ছলে করুন। যেমন - "চলো, আজ গাছ হই, সাপ হই।"
- দিনে ১৫ মিনিটই যথেষ্ট, সকালে বা সন্ধ্যায় পড়ার আগে করান।
- যোগাসনের সাথে সাথে দিনে অন্তত ১ ঘণ্টা মোবাইল ছাড়া বাইরে খেলতে দিন, তার সাথে গল্প করুন।
মনে রাখবেন, ছোটদের অবসাদ বড় হওয়ার আগেই আটকাতে হবে। ওষুধ নয়, একটু সময়, একটু যোগাসনই ফিরিয়ে দিতে পারে আপনার সন্তানের হাসিমুখ।


