জামার খুঁট বা টিস্যু দিয়ে চশমা মোছেন? এই ভুলেই লেন্সের কোটিং নষ্ট হয়ে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে চশমা। জানেন কি ভুলভাবে চশমা মুছলে বাড়তে পারে চোখের পাওয়ারও? কোন ৫ জিনিস দিয়ে ভুলেও চশমা মোছা উচিত নয়, জানুন সঠিক নিয়ম।

Eye Glass: চোখে চশমা থাকলে দিনে অন্তত ১০ বার চশমা মুছতে হয়। কিন্তু আমরা ৯০% মানুষই চশমা মোছার সময় এমন কিছু জিনিস ব্যবহার করি, যা ধীরে ধীরে লেন্সের বারোটা বাজিয়ে দেয়। ফলে লেন্সে সূক্ষ্ম দাগ পড়ে, কোটিং উঠে যায়, আর ঝাপসা দেখার কারণে চোখে অতিরিক্ত চাপ পড়ে পাওয়ার বেড়ে যায়।

এই ৫ জিনিস দিয়ে ভুলেও চশমা মুছবেন না:

১. জামা, শাড়ির আঁচল বা গামছা:

এটা সবচেয়ে বড় ভুল। আমাদের জামাকাপড়ে ধুলো, বালি লেগে থাকে। শুকনো কাপড় দিয়ে মুছলে সেই ধুলো লেন্সের উপর ঘষা খায় এবং লেন্সে হাজার হাজার মাইক্রো স্ক্র্যাচ তৈরি করে। একবার কোটিং নষ্ট হলে আর ঠিক হয় না।

২. টিস্যু পেপার, টয়লেট পেপার বা খবরের কাগজ:

অনেকেই ভাবেন টিস্যু নরম, তাই ভালো। কিন্তু সাধারণ টিস্যু পেপার আসলে কাঠের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি, এর ফাইবার খুব রুক্ষ। খবরের কাগজ তো আরও খারাপ। এগুলো লেন্সের অ্যান্টি-গ্লেয়ার, ব্লু-কাট কোটিং তুলে দেয়।

৩. সাবান, হ্যান্ডওয়াশ বা বাসন মাজার সাবান:

অনেকে চশমা চকচকে করতে বাসন মাজার লিকুইড বা বেশি ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলেন। এই ধরনের সাবানে অ্যামোনিয়া, ব্লিচ থাকে যা লেন্সের কোটিংকে পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়।

৪. মুখের গরম ভাপ দিয়ে মোছা:

চশমা ঘোলা হলে মুখ দিয়ে ‘ফুঁ’ দিয়ে ভাপ লাগিয়ে জামায় মোছা খুব সাধারণ অভ্যাস। কিন্তু মুখের লালায় অ্যাসিড থাকে, যা লেন্সের ক্ষতি করে এবং এতে ব্যাকটেরিয়াও লেন্সে থেকে যায়, ফলে চোখে ইনফেকশন হতে পারে।

৫. অ্যালকোহল, স্যানিটাইজার বা কাচ পরিষ্কারের স্প্রে:

চশমার লেন্স আর ঘরের কাচ এক নয়। কাচ পরিষ্কারের স্প্রেতে অ্যামোনিয়া থাকে এবং স্যানিটাইজারে ৭০% অ্যালকোহল থাকে, যা পাওয়ার লেন্সের কোটিং গলিয়ে দেয়।

তাহলে সঠিক নিয়ম কী?

- প্রথমে চশমাটি ঠান্ডা জলের নিচে ধরুন, যাতে ধুলো-বালি ধুয়ে যায়।

- তারপর এক ফোঁটা মাইল্ড লেন্স ক্লিনার বা pH নিউট্রাল বেবি শ্যাম্পু দিয়ে হালকা হাতে ধুয়ে নিন।

- সবশেষে চশমার সঙ্গে যে মাইক্রোফাইবার কাপড় দেওয়া হয়, শুধু সেটা দিয়েই মুছুন। এই কাপড়টি সপ্তাহে একবার ধুয়ে নিন।

- চশমা সবসময় বক্সে রাখুন, কখনও লেন্স নিচের দিকে করে রাখবেন না।

একটি ভালো লেন্সের দাম ২০০০-৩০০০ টাকা। সামান্য ভুলে সেটি নষ্ট না করে আজ থেকেই সঠিক নিয়ম মানুন।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।