রান্নাঘরে পড়ে থাকা পচা ডিম দেখেই নাকে রুমাল দিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেন তো? দাঁড়ান! পচা ডিম খাওয়া বিপজ্জনক হলেও বাগান, গাছ, এমনকি ঘরের কিছু কাজে দারুণ কাজে লাগে। এতে থাকা নাইট্রোজেন, সালফার, ক্যালসিয়াম গাছের ‘সুপারফুড’। তবে ব্যবহারের সময় গ্লাভস-মাস্ক মাস্ট। কীভাবে নিরাপদে ব্যবহার করবেন, রইল ৫টি জোগাড়।
ফ্রিজ খুলে ডিম ফাটাতেই বিকট গন্ধ! ‘ডিম থেরাপি’ ট্রেন্ডের যুগে ভালো ডিম দিয়ে ফেসপ্যাক-হেয়ারপ্যাক চলছে। কিন্তু পচা ডিম? এক্সপার্টরা বলছেন, খাবার না হলেও ওয়েস্ট না করে ‘রিসাইকেল’ করুন। প্রাক্তন শাসক দলের নেতা মন্ত্রীদের লক্ষ্য করে প্রায়ই উড়ে আসছে দুর্গন্ধযুক্ত পচা ডিম (Egg)। এমনকি বিক্রেতারাও স্বীকার করছেন, পচা ডিমও এখন বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তবে পচা ডিম যে শুধু ছোড়ার কাজেই লাগে, তা কিন্তু নয়।

সতর্কতা প্রথমে:
পচা ডিমে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া থাকে। তাই ১. সরাসরি হাতে ধরবেন না, গ্লাভস পরুন। ২. শিশু-পোষ্যের ধারে কাছে ফাটাবেন না। ৩. ফাটানোর পর হাত-জায়গা ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন। খাওয়া বা রান্নার কাজে একদম ব্যবহার করবেন না।
পচা ডিমের ৫টি নিরাপদ ব্যবহার:
১. জৈব সার হিসেবে গাছের জন্য:
পচা ডিমের ভেতর নাইট্রোজেন, ফসফরাস, সালফার প্রচুর। টমেটো, গোলাপ, লঙ্কা গাছ দারুণ ভালোবাসে।
কীভাবে: ডিমটা মাটিতে ১ ফুট গর্ত করে পুঁতে দিন। ওপরে মাটি চাপা দিন। ২ মাসে ডিকম্পোজ হয়ে গাছের খাবার হয়ে যাবে। সরাসরি গাছের গোড়ায় ঢালবেন না, পোকা-গন্ধ হবে।
২. কম্পোস্ট বিনের অ্যাক্সিলারেটর:
বাড়িতে কম্পোস্ট করেন? পচা ডিম কম্পোস্ট প্রসেস ২ গুণ স্পিড আপ করে। ব্যাকটেরিয়া অ্যাক্টিভ হয়।
টিপস: ডিম ফাটিয়ে খোলা-কুসুম আলাদা করে দিন। খোলা গুঁড়ো করে দিলে ক্যালসিয়াম পাবে গাছ। গন্ধ ঢাকতে ওপরে শুকনো পাতা-কাগজ চাপা দিন।
৩. ইঁদুর-পোকা তাড়াতে :
পচা ডিমের গন্ধে ইঁদুর, বেড়াল, খরগোশ আসে না। বাগানের সবজি বাঁচাতে কাজে দেয়।
কীভাবে: একটা ছোট বাটিতে পচা ডিম রেখে বাগানের কোণে রাখুন। ৩-৪ দিন পর পাল্টে দিন। তবে বাড়ির বারান্দায় রাখবেন না, নিজেই টিকতে পারবেন না গন্ধে।
৪. DIY ফার্টিলাইজার স্প্রে:
পাকা চাষীরা ‘ফিশ ইমালশন’-এর মতো ‘এগ ইমালশন’ বানায়।
রেসিপি: ১টা পচা ডিম + ১ লিটার জল + ১ চামচ চিনি। ১ সপ্তাহ ঢাকা দিয়ে রোদে রাখুন। রোজ ঢাকনা খুলে গ্যাস বের করবেন। ৭ দিন পর ছেঁকে নিয়ে ১:১০ অনুপাতে জলে মিশিয়ে গাছে স্প্রে করুন। পাতা সবুজ হবে।
৫. খোলা দিয়ে ঘর সাজান:
কুসুম ফেলে দিয়ে খোলাটা ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকান। তারপর গুঁড়ো করে গাছের টবে দিন। ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটায়। আর আস্ত খোলা অ্যাক্রেলিক রং করে মোমবাতি স্ট্যান্ড, ছোট প্ল্যান্টার বানাতে পারেন।
কখন ডাস্টবিনই বেস্ট?
ডিম ৩ সপ্তাহের বেশি পচে গেলে, বা ফেটে গন্ধে বাড়ি ম ম করলে আর রিস্ক নেবেন না। কাগজে মুড়ে প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলুন।
শেষ কথা:
খাবার নষ্ট করা পাপ। পচা ডিম খাওয়া যাবে না, কিন্তু ফেলেও দেবেন না। একটু বুদ্ধি খাটালেই ওয়েস্ট থেকে বেস্ট বানানো যায়। তবে সেফটি ফার্স্ট - গ্লাভস ছাড়া হাত দেবেন না।
