IRCTS Ticket Booking Tips: পুজো-দিওয়ালি এলেই শিয়ালদা-নিউ জলপাইগুড়ির সব ট্রেনের ওয়েটিং ১৫০+। দার্জিলিং, গ্যাংটক যাওয়ার প্ল্যান ভেস্তে যায় টিকিটের অভাবে। কিন্তু রেলের নিয়ম জানলে এই রুটেও কনফার্ম টিকিট পাওয়া সম্ভব। ‘সিক্রেট রুট’ বা বোর্ডিং স্টেশন চেঞ্জ ট্রিক ব্যবহার করে ৯০% ক্ষেত্রে WL 50-ও কনফার্ম হয়ে যায়। কীভাবে বুক করবেন, রইল স্টেপ বাই স্টেপ গাইড।

IRCTS Ticket Booking Tips: অক্টোবর মাস মানেই উত্তরবঙ্গ। কিন্তু IRCTC খুললেই দেখা যায় দার্জিলিং মেল, কাঞ্চনকন্যা, পদাতিক এক্সপ্রেস - সব ফুল। তৎকালেও হাত লাগে না। কিন্তু রেলকর্মী ও রেগুলার ট্রাভেলাররা বলছেন, সরাসরি NJP সার্চ না করে ‘সিক্রেট রুট’ ধরুন, টিকিট মিলবেই।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

‘সিক্রেট রুট’ ট্রিক ১: বোর্ডিং স্টেশন চেঞ্জ:

উত্তরবঙ্গের বেশিরভাগ ট্রেন হাওড়া/শিয়ালদার পর বর্ধমান, বোলপুর, রামপুরহাট, নিউ ফারাক্কা, মালদা টাউন হয়ে যায়। দেখা যায় SDAH থেকে NJP ওয়েটিং 80, কিন্তু SDAH থেকে বর্ধমান সিট খালি। আবার বর্ধমান থেকে NJP ওয়েটিং 5।

ট্রিক: IRCTC-তে ‘From: SDAH, To: NJP’ সার্চ না করে ‘From: SDAH, To: MLDT/Malda Town’ বা ‘From: SDAH, To: NFK/New Farakka’ সার্চ করুন। সেখানে সিট থাকলে টিকিট কেটে নিন। বোর্ডিং স্টেশন SDAH-ই রাখবেন। TTE-কে বললেই হবে আপনি মালদা থেকে উঠবেন না। রুল অনুযায়ী ট্রেন ছাড়ার ১ ঘণ্টা পর সিট ফাঁকা থাকলে TTE অন্য প্যাসেঞ্জারকে দিতে পারে, তাই চার্ট বেরোনোর পর NJP পর্যন্ত এক্সটেনশন করিয়ে নিন।

‘সিক্রেট রুট’ ট্রিক ২: ভায়া স্টেশন সার্চ

ডাইরেক্ট ট্রেনে টিকিট নেই? ব্রেক জার্নি করুন।

রুট: কলকাতা → মালদা টাউন → NJP।

কলকাতা থেকে মালদা যায় গৌড় এক্সপ্রেস, হাটে বাজারে এক্সপ্রেস। মালদা থেকে NJP যায় কুলিক এক্সপ্রেস, ইন্টারসিটি। দুটো আলাদা PNR কাটুন। মালদায় ২ ঘণ্টা ব্রেক। হোটেল নেই, স্টেশনেই ওয়েটিং রুম আছে। এই রুটে কনফার্মেশন ৯৫%।

‘সিক্রেট রুট’ ট্রিক ৩: হলদিবাড়ি-আলুয়াবাড়ি রোড

সবাই NJP খোঁজে। কিন্তু দার্জিলিং-গ্যাংটক যেতে হলদিবাড়ি HDB বা আলুয়াবাড়ি রোড AUB-ও নামা যায়। শিয়ালদা-হলদিবাড়ি ইন্টারসিটি, মিথিলা এক্সপ্রেস এই রুটে যায়। NJP-র তুলনায় এখানে WL তাড়াতাড়ি ক্লিয়ার হয়। স্টেশন থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ৩০ মিনিট অটো।

তৎকাল বুকিং-এর ৩টি প্রো টিপস:

১. মাস্টার লিস্ট: IRCTC-তে প্যাসেঞ্জার ডিটেইলস আগে থেকে সেভ করে রাখুন। টাইপ করতে গেলে ১০ সেকেন্ডেই টিকিট শেষ।

২. মাল্টিপল লগইন: ফোন + ল্যাপটপ + বন্ধুর ফোন - ৩টে ডিভাইসে লগইন করে রাখুন। UPI দিয়ে পেমেন্ট সবচেয়ে ফাস্ট।

৩. প্রিমিয়াম তৎকাল: রেগুলার তৎকাল ফুল হলে ‘PT’ কোটা চেক করুন। ভাড়া ৩০% বেশি, কিন্তু কনফার্মেশন ১০%।

সতর্কতা:

‘এজেন্ট কনফার্ম টিকিট দেবে’ বলে যারা টাকা চায় তাদের থেকে সাবধান। IRCTC-র বাইরে টিকিট কাটা বেআইনি। বোর্ডিং স্টেশন চেঞ্জ করলে TTE-কে বিনীতভাবে বলে নেবেন। রুল না মানলে ফাইন হতে পারে।

শেষ কথা:

উত্তরবঙ্গের টিকিট নেই বলে প্ল্যান ক্যানসেল করবেন না। একটু বুদ্ধি, একটু রিসার্চ করলেই ‘নেই’ থেকে ‘আছে’ হয়ে যায়। ভারতীয় রেলের সিস্টেমটাই এমন - ডাইরেক্ট রাস্তা বন্ধ, ঘুরপথ খোলা। এই সিক্রেট রুটগুলো মাথায় রাখুন, পরের ট্রিপ কনফার্ম।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।