শীতে কেন কাঁপুনি দেয় জানেন? কেন লাগে হাড় কাঁপুনি ঠান্ডা, আসল কারণ জানলে চমকে যাবেন
শীত এলেই আমরা বলি—“উফ্, কী ঠান্ডা!” কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন, আসলে শীতে কেন ঠান্ডা লাগে? এটা শুধু অনুভূতির বিষয় নয়, এর পেছনে আছে বিজ্ঞান, পরিবেশ আর আমাদের শরীরের নিজস্ব কিছু প্রতিক্রিয়া।
১. সূর্যের তাপ কম পৌঁছয়
শীতকালে পৃথিবী সূর্যের দিকে সামান্য কাত হয়ে থাকে। ফলে সূর্যের রশ্মি সোজা না পড়ে তির্যকভাবে পড়ে। এতে একই পরিমাণ সূর্যালোক বড় এলাকায় ছড়িয়ে যায় এবং তাপের ঘনত্ব কমে যায়।
ফলাফল—পৃথিবী কম গরম হয়, আমরা বেশি ঠান্ডা অনুভব করি।
২. দিনের দৈর্ঘ্য ছোট হয়ে যায়
শীতকালে দিন ছোট আর রাত বড় হয়। সূর্যের আলো কম সময় পাওয়ায় মাটি, জল ও বাতাস পর্যাপ্ত তাপ জমা করতে পারে না। তাই সারাদিনই আবহাওয়া ঠান্ডা থাকে।
৩. বাতাস শরীরের তাপ কেড়ে নেয়
শীতের হাওয়া শুধু ঠান্ডা নয়, অনেক সময় শুষ্কও হয়। এই বাতাস আমাদের শরীরের তাপ দ্রুত শোষণ করে নেয়। একে বলে Wind Chill Effect—যেখানে তাপমাত্রা যতটা না কম, তার চেয়েও বেশি ঠান্ডা আমরা অনুভব করি।
৪. শরীর নিজেকে বাঁচাতে রক্ত সঞ্চালন কমায়
ঠান্ডায় শরীর নিজের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো (হৃদপিণ্ড, ফুসফুস) গরম রাখতে হাত-পা ও ত্বকের দিকে রক্ত চলাচল কমিয়ে দেয়। তাই হাত-পা বেশি ঠান্ডা লাগে, ঠোঁট শুকিয়ে যায়, ত্বক রুক্ষ হয়।
৫. বিপাক প্রক্রিয়ার পরিবর্তন
শীতে শরীর বেশি শক্তি খরচ করে নিজেকে গরম রাখতে। তবু বাইরের তাপমাত্রা কম থাকায় সেই উষ্ণতা বাইরে হারিয়ে যায় দ্রুত। তাই আমরা আরও বেশি ঠান্ডা অনুভব করি।
৬. মানসিক অনুভূতির প্রভাব
শীত মানেই কম আলো, মেঘলা আকাশ, সূর্যের অনুপস্থিতি। এগুলো আমাদের মনের ওপরও প্রভাব ফেলে। মন বিষণ্ণ হলে ঠান্ডার অনুভূতিও যেন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
শীতে ঠান্ডা লাগা আসলে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম। সূর্যের অবস্থান, বাতাসের অবস আর আমাদের শরীরের প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়েই এই অনুভূতি। তাই শীতকে এড়িয়ে নয়, বরং উষ্ণ পোশাক, গরম খাবার আর একটু যত্ন নিয়ে উপভোগ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়


