গরমে এসি চালালেই মাসের শেষে ৪-৫ হাজার টাকার বিল আসে। BEE-এর নিয়ম অনুযায়ী এসি ২৪ ডিগ্রিতে চালিয়ে সঙ্গে সিলিং ফ্যান মিডিয়াম স্পিডে চালালে ঘর ২২ ডিগ্রির মতো ঠান্ডা লাগে, বিল বাঁচে ২৪%। এসি ১ ডিগ্রি বাড়ালে ৬% বিদ্যুৎ বাঁচে। ১৬ ডিগ্রিতে চালানো মানে টাকা পোড়ানো। 

এপ্রিল পড়তেই এসির রিমোট খোঁজা শুরু। কিন্তু মাসের শেষে ইলেকট্রিক বিল দেখে মাথায় হাত। ১.৫ টন এসি দিনে ৮ ঘণ্টা চললে মাসে ৩০০০-৪৫০০ টাকা বিল আসেই। অথচ ৫টা ছোট কৌশল জানলে এই বিল ৪০% কমানো যায়। ঘরও থাকবে শিমলার মতো ঠান্ডা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

*কৌশল ১: ২৪ ডিগ্রি + পাখা, বিল কমবে ২৪%*

অনেকেই ভাবেন এসি চালালে পাখা বন্ধ রাখতে হয়। এটা ভুল। ব্যুরো অফ এনার্জি এফিসিয়েন্সি BEE বলছে, এসির ডিফল্ট তাপমাত্রা হওয়া উচিত ২৪ ডিগ্রি। মানুষের শরীরের জন্য এটাই ‘কমফোর্ট টেম্পারেচার’।

এবার আসল ট্রিক। এসি ২৪ ডিগ্রিতে চালিয়ে সিলিং ফ্যান মিডিয়াম স্পিডে চালান। ফ্যানের হাওয়া এসির ঠান্ডা বাতাস ঘরের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে দেয়। ফলে ২৪ ডিগ্রিতেই ২১-২২ ডিগ্রির ফিল পাবেন। আর এসির কম্প্রেসার কম চলবে।

*হিসেব:* এসি ১৬ ডিগ্রিতে চালালে কম্প্রেসার ৭০% সময় চলে। ২৪ ডিগ্রি + পাখা চালালে কম্প্রেসার চলে ৪৫% সময়। প্রতি ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়ালে ৬% বিদ্যুৎ বাঁচে। ১৬ থেকে ২৪ মানে ৮ ডিগ্রি বেশি। ৮x৬ = ৪৮% বিল কমার কথা। ফ্যানের খরচ ধরলে নেট সেভিং ২৪-৩০%।

*কৌশল ২: ‘ড্রাই মোড’ ব্যবহার করুন, ঠান্ডাও হবে বিলও কমবে*

কলকাতার গরম ‘ভ্যাপসা’। মানে হিউমিডিটি ৮০-৯০%। এই ভিজে গরমেই অস্বস্তি বেশি। এসির রিমোটে ‘Dry Mode’ বা জলের ফোঁটা চিহ্ন আছে। এটা চালান।

ড্রাই মোডে এসি ঘর ঠান্ডা করার বদলে বাতাসের জলীয় বাষ্প টেনে নেয়। ঘাম কম হয়, ২৬-২৭ ডিগ্রিতেই আরাম লাগে। আর এই মোডে কম্প্রেসার অনেক কম চলে। কুল মোডের চেয়ে ৩০-৪০% কম বিদ্যুৎ খরচ হয়। বৃষ্টির দিন বা ভ্যাপসা গরমে এটা ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

*কৌশল ৩: ফিল্টার পরিষ্কার = ১৫% বিল কম*

এসির ভিতরের জালি ফিল্টারে ১৫ দিনেই ধুলো জমে ব্লক হয়ে যায়। তখন এসিকে ২ গুণ জোরে কাজ করতে হয় ঘর ঠান্ডা রাখতে। বিল বাড়ে ১৫%।

*কী করবেন:* মাসে ২ বার ফিল্টার খুলে কলের জলে ধুয়ে ছায়ায় শুকিয়ে নিন। ৫ মিনিটের কাজ। বছরে ১ বার প্রফেশনাল সার্ভিসিং করান। গ্যাস কম থাকলে বা আউটডোর ইউনিটে ময়লা জমলে বিল ২৫% বাড়ে।

*কৌশল ৪: দরজা-জানালা সিল করুন, টাইমার ব্যবহার করুন*

ঘরের ঠান্ডা হাওয়া বেরিয়ে গেলেই এসি আবার ফুল স্পিডে চলবে। দরজার নিচের ফাঁক, জানালার পাশ তোয়ালে বা রাবার স্ট্রিপ দিয়ে বন্ধ করুন। দিনের বেলা মোটা পর্দা টেনে দিন। সরাসরি রোদ ঢুকলে এসি ২০% বেশি খরচ করে।

রাতে ঘুমানোর সময় টাইমার ২-৩ ঘণ্টা সেট করুন। ভোররাতে তাপমাত্রা কমে যায়। টানা ৮ ঘণ্টা চালানোর দরকার নেই। ৩ ঘণ্টা পর এসি বন্ধ হয়ে ফ্যান চললেও আরামেই ঘুম হবে। ৮ ঘণ্টার বদলে ৩ ঘণ্টা চলা মানে ৬০% বিল কম।

*কৌশল ৫: পুরনো এসি বদলান, ৫ স্টার ইনভার্টার নিন*

১০ বছরের পুরনো ২ স্টার বা নন-স্টার এসি বিদ্যুৎ খায় দৈত্যের মতো। ১.৫ টন ৫ স্টার ইনভার্টার এসি বছরে ৭০০-৮০০ ইউনিট কম পোড়ায়। মানে বছরে ৬০০০-৭০০০ টাকা সেভ। ৩ বছরে নতুন এসির দাম উঠে আসে।

ইনভার্টার এসির কম্প্রেসার বারবার অন-অফ হয় না। প্রয়োজন মতো স্পিড কমায়-বাড়ায়। ফলে বিল ৩০-৪০% কম আসে। কেনার সময় ISEER রেটিং দেখুন। ৫ এর উপরে হলে ভালো।

*বোনাস টিপস:*

১. আউটডোর ইউনিট ছায়ায় রাখুন। রোদে থাকলে ১০% বেশি বিল আসে।

২. এসি চালানোর ১০ মিনিট আগে ঘরের দরজা-জানালা খুলে গরম হাওয়া বের করে দিন।

৩. এক ঘর থেকে অন্য ঘরে গেলে এসি অফ না করে টেম্পারেচার ২৭-২৮ করে দিন। বারবার অন-অফে বিল বেশি ওঠে।

এই ৫টা নিয়ম মানলে ৪০০০ টাকার বিল ২৪০০ টাকায় নেমে আসবে। গরমও কমবে না, পকেটও পুড়বে না।