প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী সন্ধ্যার পর আমাদের বিপাকপ্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। এই সময় ভুল ফল নির্বাচন করলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক, রাতে কোন কোন ফল এড়িয়ে চলা উচিত এবং কেন।

প্রতিদিন অন্তত একটি ফল খান, ডাক্তারের থেকে দূরে থাকুন"— স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেরা এই নিয়ম কমবেশি মেনেই চলেন। ফল ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর, যা আমাদের শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, যেকোনো ভালো খাবার খাওয়ারও একটি সঠিক সময় থাকে। ঠিক তেমনি, কিছু ফল রয়েছে যা দিনের বেলা শরীরের অমৃত হলেও, রাতে খেলে তা বিষের মতো কাজ করতে পারে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী সন্ধ্যার পর আমাদের বিপাকপ্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। এই সময় ভুল ফল নির্বাচন করলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক, রাতে কোন কোন ফল এড়িয়ে চলা উচিত এবং কেন।

১. সাইট্রাস বা টক জাতীয় ফল (কমলালেবু, পাতিলেবু, আঙুর) লেবু, কমলালেবু বা আঙুরের মতো টক জাতীয় ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে।

কেন খাবেন না: রাতে ঘুমানোর আগে এই ফলগুলো খেলে তীব্র অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালাপোড়া (Heartburn) এবং গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।

প্রভাব: এর ভেতরের অ্যাসিড পাকস্থলীতে অস্বস্তি তৈরি করে, যার ফলে রাতে আপনার শান্তিমতো ঘুমানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়াতে পারে।

২. কলা (Banana) কলা ঝটপট এনার্জি দেওয়ার জন্য চমৎকার একটি ফল, কিন্তু এটি রাতে খাওয়ার জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়।

কেন খাবেন না: কলা বেশ ভারী ফল, যা হজম হতে সময় নেয়। এছাড়া আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, রাতে কলা খেলে শরীরে কফ বা শ্লেষ্মার আধিক্য ঘটে।

প্রভাব: যাদের ঠাণ্ডা লাগা, কাশি বা সাইনাসের সমস্যা রয়েছে, রাতে কলা খেলে তাদের সমস্যা দ্বিগুণ বেড়ে যেতে পারে। এটি শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বাড়িয়ে ঘুমেও ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

৩. তরমুজ (Watermelon) গ্রীষ্মকালের এই দারুণ স্বস্তিদায়ক ফলটি রাতে না খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

কেন খাবেন না: তরমুজের প্রায় ৯২% অংশই জল। এছাড়া এতে রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি।

প্রভাব: রাতে তরমুজ খেলে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পায় (Diuretic effect), যার কারণে রাতের গভীর ঘুম বারবার ভেঙে যায়। এছাড়া রাতের ধীর মেটাবলিজমের কারণে তরমুজের জলীয় অংশ শরীরে ওয়াটার রিটেনশন বা জল জমার সমস্যা তৈরি করতে পারে।

৪. আম এবং কাঁঠাল (High Sugar Fruits) ফলের রাজা আম এবং আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল খেতে কে না ভালোবাসে! তবে এর সময়টা হওয়া উচিত কেবল দিনে।

কেন খাবেন না: আম ও কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক শর্করা বা ফ্রুক্টোজ থাকে।

প্রভাব: রাতে এই ফলগুলো খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা (Blood Sugar Level) আচমকা বেড়ে যায়। শরীর সেই বাড়তি চিনি সহজে হজম করতে পারে না, যা পরবর্তীকালে চর্বি হিসেবে জমা হয় এবং ওজন বাড়ায়। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি আরও বিপজ্জনক।

৫. আপেল (Apple) "অ্যান অ্যাপেল আ ডে, কিপস দ্য ডক্টর অ্যাওয়ে"— প্রবাদটি সত্যি হলেও রাতের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়।

কেন খাবেন না: আপেলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং অর্গানিক অ্যাসিড থাকে।

প্রভাব: রাতে আপেল খেলে এর ভেতরের অ্যাসিড পাকস্থলীতে গ্যাস ও বদহজমের সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া এর পেকটিন নামক ফাইবার রাতে হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, ফলে সকালে পেট ফাঁপা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পুষ্টিবিদদের শেষ কথা: ফল খাওয়ার সবচেয়ে সেরা সময় হলো সকাল বা দুপুর। সূর্যাস্তের পর, বিশেষ করে ঘুমানোর ২-৩ ঘণ্টা আগে ভারী বা টক ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। যদি রাতে ফল খেতেই হয়, তবে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে পাকা পেঁপে বা অল্প পরিমাণ ডালিম খেতে পারেন, যা হজমে সহায়ক।

সুস্থ থাকতে শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন খাচ্ছেন সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ!