পুজোয় রাতভর ঠাকুর দেখা, খাওয়া-দাওয়া আর তারপর বাড়ি ফিরে ভোর পর্যন্ত রিল স্ক্রল - এটাই এখন পুজোর রুটিন। কিন্তু এই অনিয়মের জেরে শরীরে অজান্তেই হানা দিচ্ছে ৩টি রোগ। জানুন কীভাবে সুস্থ থেকে পুজো উপভোগ করবেন।
পুজো মানেই রাত জাগা। ষষ্ঠী থেকে দশমী, রাত ১০টায় বেরিয়ে ভোর ৪টেয় বাড়ি ফেরা। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, লাইন দিয়ে ঠাকুর দেখা, ফুচকা-বিরিয়ানি। বাড়ি ফিরেও ঘুম নেই, বিছানায় শুয়ে ইনস্টাগ্রামে রিল দেখা, স্টোরি পোস্ট করা। ফলে ঘুম হচ্ছে দিনে ৩-৪ ঘণ্টা। প্রথম দুদিন মজা লাগলেও তৃতীয় দিন থেকে শরীর জানান দিচ্ছে। মাথা ভার, চোখ জ্বালা, মেজাজ খিটখিটে।
অজান্তেই হানা দিচ্ছে ৩টি রোগ: চিকিৎসকরা বলছেন, টানা ৪-৫ দিন এই অনিয়মে শরীরে ৩টি সমস্যা পাকাপাকিভাবে বাসা বাঁধতে পারে।
১. Digital Eye Strain ও মাইগ্রেন: সারারাত জাগা, তারপর অন্ধকার ঘরে ফোনের উজ্জ্বল আলোয় রিল দেখা চোখের জন্য মারাত্মক। চোখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা, তীব্র মাথা যন্ত্রণা ও মাইগ্রেন ট্রিগার হয়।
২. হার্ট ও বিপি-র সমস্যা: ঘুম কম হলে শরীরে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়। রক্তচাপ বাড়ে, হার্টবিট অনিয়মিত হয়। পুজোর ভিড়, গরম, অনিয়মিত ফাস্ট ফুড - সব মিলিয়ে হার্টের উপর চাপ পড়ে। যাদের আগে থেকেই প্রেসার বা সুগারের সমস্যা আছে, তাঁদের ঝুঁকি বেশি।
৩. ইমিউনিটি ও হজমের গোলমাল: রাত জাগলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ৭০% পর্যন্ত কমে যায়। সঙ্গে বাইরের তেল-ঝাল খাবার, কম জল খাওয়া। ফল - পুজোর শেষেই জ্বর, সর্দি-কাশি, পেট খারাপ, গ্যাস-অম্বলে ভোগা।
সুস্থ থাকতে ৫ নিয়ম মানুন:
১. পাওয়ার ন্যাপ মাস্ট: রাতে না ঘুমালেও দুপুরে ১-২ ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিন। বেরোনোর আগে ৩০ মিনিট চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকলেও শরীর চাঙ্গা থাকবে।
২. ২০-২০-২০ রুল: রিল দেখার সময় প্রতি ২০ মিনিট অন্তর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরে তাকান। ফোনের ব্রাইটনেস কমিয়ে নাইট মোড অন রাখুন।
৩. জলই জীবন: রাত জাগলে শরীরে জলশূন্যতা হয়। ঘণ্টায় একবার জল খান। কোল্ড ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংক এড়িয়ে ডাবের জল, সাধারণ জল খান।
৪. খালি পেটে ঘুরবেন না: বেরোনোর আগে হালকা কিছু খেয়ে নিন। একটানা ফাস্ট ফুড না খেয়ে মাঝে ফল, ছোলা বা হালকা খাবার খান।
৫. একদিন গ্যাপ দিন: টানা ৪ দিন রাত না জেগে মাঝে একদিন বাড়িতে থেকে বিশ্রাম নিন। পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে আড্ডা দিন। এতে পুজোর আনন্দও দীর্ঘস্থায়ী হবে, শরীরও ভালো থাকবে।
পুজো আনন্দের, প্রতিযোগিতার নয়। ঠাকুর দেখুন, কিন্তু শরীরের কথা শুনে।






