সবজি খেয়েও কোষ্ঠকাঠিন্য কমছে না? এই ভুলেই সমস্যায় পড়ছেন না তো?
ভাতের সঙ্গে সবজি ও শাকপাতা খেলেও কোষ্ঠকাঠিন্য কমছে না? তার কারণ পর্যাপ্ত জল পান না করা, ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি কিছু কন্সটিপেশন সৃষ্টিকারী খাবার (দুগ্ধজাত খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টি) খাওয়া, অতিরিক্ত ফাইবার যোগ করার পরও জলের অভাব, কম শারীরিক পরিশ্রম এবং মানসিক চাপ - এই কারণগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়াতে পারে। শুধু আঁশযুক্ত খাবার খেলেই হবে না, পর্যাপ্ত জল ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের সমন্বয় প্রয়োজন।
ভুলগুলো কোথায় হচ্ছে, তার বিস্তারিত আলোচনা:
১. পর্যাপ্ত জল পান না করা: ফাইবারের মূল কাজ হলো জল শোষণ করে মল নরম করা ও সহজে বের করে দেওয়া। যদি পর্যাপ্ত জল না খান, তাহলে ফাইবার (বিশেষত অদ্রবণীয় ফাইবার) মলকে আরও শুষ্ক ও কঠিন করে তুলতে পারে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ায়।
২. কিছু নির্দিষ্ট খাবার বাদ না দেওয়া: কিছু খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ায়, যেমন – অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার (দুধ, পনির), প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত মিষ্টি, ডিম, এবং কিছু legumes (ডাল)। এগুলো ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া সত্ত্বেও সমস্যা করতে পারে।
৩. অতিরিক্ত ফাইবার সত্ত্বেও অন্যান্য কারণ: শুধু আঁশযুক্ত খাবারই যথেষ্ট নয়। জীবনযাত্রার অন্যান্য কারণ যেমন - বসে থাকা জীবনযাপন (কম হাঁটাচলা), মানসিক চাপ এবং ঘুমের অনিয়মও কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে।
৪. ফাইবার-এর প্রকারভেদ ও ভারসাম্য: খাবারে বিভিন্ন ধরনের ফাইবার (দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়) এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের সঠিক ভারসাম্য প্রয়োজন। শুধু শাকপাতা নয়, ফল, দানাশস্য ও পর্যাপ্ত জল - সবকিছুর মিশ্রণ জরুরি।
৫. অতিরিক্ত আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার ভুল ধারণা: অনেকেই মনে করেন, যত বেশি ফাইবার, তত ভালো। কিন্তু অতিরিক্ত আঁশযুক্ত খাবার হঠাৎ করে বাড়ালে বা পর্যাপ্ত জল পান না করলে উল্টো ফল হতে পারে।
কীভাবে সমাধান করবেন?
পর্যাপ্ত জল পান করুন: সারাদিন ধরে প্রচুর পরিমাণে জল, ভেষজ চা বা ফলের রস পান করুন।
ফাইবার সমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার: শসা, পেঁপে, লাউ, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, ঢ্যাঁড়স খান। এছাড়া, বাদাম, মটরশুঁটি, আটা ও গমের ভুসি (bran) খেতে পারেন।
ব্যায়াম করুন: নিয়মিত হাঁটাচলা বা হালকা ব্যায়াম অন্ত্রের সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে।
মানসিক চাপ কমান: যোগা, মেডিটেশন বা পছন্দের কাজে মনোযোগ দিন।
ডাক্তারের পরামর্শ নিন: যদি সমস্যা না কমে, তাহলে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। তিনি আপনার খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে সাহায্য করতে পারেন


