‘১ ওয়াট রুল’ মানে রাতে বা দিনে ঘর ফাঁকা রাখলে মাল্টিপ্লাগের মেন সুইচ অফ। BEE ৫-স্টার রেটেড অ্যাপ্লায়েন্সের স্ট্যান্ডবাই লস <১ ওয়াট। স্মার্ট প্লাগ ইউজ করলে এক ক্লিকে সব অফ।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

URL: 

Keywords: 

Sarangsho: 

এপ্রিলের গরমে এসি ছাড়া ঘুম হয় না। ফ্যান ফুল স্পিড। তাও মাসের শেষে বিল ৩৮০০ টাকা দেখে চোখ কপালে। মিটার তো ঠিকই আছে। তাহলে টাকা যাচ্ছে কোথায়? ইলেকট্রিক্যাল এক্সপার্টরা বলছেন, গরমে বিলের ১০-১৫% আসে ফ্যান্টম লোড থেকে।

ফ্যান্টম লোড মানে কী? টিভি রিমোট দিয়ে অফ করলে, লাল লাইট জ্বলে থাকে। মানে টিভি ঘুমাচ্ছে, মরেনি। রিমোটের সিগন্যাল ধরার জন্য ও ২-৩ ওয়াট খাচ্ছে ২৪ ঘণ্টা। সেট-টপ বক্স খাচ্ছে ৮-১০ ওয়াট। মাইক্রোওয়েভের ঘড়ি ৩ ওয়াট। ওয়াইফাই রাউটার ৬ ওয়াট। ফোন চার্জার প্লাগে লাগানো আছে, ফোন নেই - তাও ০.৫ ওয়াট। এসি রিমোট দিয়ে অফ, কিন্তু মেন সুইচ অন - ইনডোর ইউনিট ২-৪ ওয়াট টানছে। এই চোরগুলো গরমে বেশি চোখে পড়ে, কারণ এমনিতেই লোড বেশি।

হিসাবটা দেখো। ১ ওয়াট যদি ২৪ ঘণ্টা চলে, দিনে ২৪ ওয়াট-আওয়ার। ৩০ দিনে ৭২০ ওয়াট-আওয়ার = ০.৭২ ইউনিট। গরমকালে কলকাতায় ১ ইউনিট গড়ে ৯ টাকা স্ল্যাবে পড়ে। মানে ১ ওয়াটের একটা লাল আলো মাসে ৬.৫ টাকা খাচ্ছে। এবার গরমকালের বাড়ির হিসাব করো। এসি স্ট্যান্ডবাই ৩ ওয়াট, টিভি ৩ ওয়াট, সেট-টপ ১০ ওয়াট, ডিশ ৮ ওয়াট, সাউন্ড বার ৪ ওয়াট, মাইক্রোওয়েভ ৩ ওয়াট, ওয়াশিং মেশিন ১ ওয়াট, গিজার সুইচ ১ ওয়াট, রাউটার ৬ ওয়াট, ৩টে চার্জার ১.৫ ওয়াট, ল্যাপটপ অ্যাডাপ্টার ২ ওয়াট, এয়ার কুলার রিমোট স্ট্যান্ডবাই ২ ওয়াট। টোটাল ৪৪.৫ ওয়াট। মাসে ৪৪.৫ × ০.৭২ = ৩২ ইউনিট। টাকায় ৩২ × ৯ = ২৮৮ টাকা। এটা শুধু বন্ধ থাকা জিনিসের বিল। এসি ৮ ঘণ্টা চললে টোটাল বিল ৩৫০০-এর জায়গায় ৩৮০০ হয়ে যাচ্ছে এই ফ্যান্টম লোডে।

BEE মানে ব্যুরো অফ এনার্জি এফিসিয়েন্সি বলছে, গরমে শহরের বাড়িতে ৫-১০% বিল স্ট্যান্ডবাই লস থেকে আসে। পুরোনো CRT টিভি, পুরোনো সেট-টপ বক্স, নন-ইনভার্টার এসি হলে এটা ১৫% ছুঁয়ে যায়। কারণ ২০১০-এর আগের ডিভাইসে স্ট্যান্ডবাই লিমিট ছিল না। এখন BEE নিয়ম - ১ ওয়াটের বেশি স্ট্যান্ডবাই টানলে ৫-স্টার রেটিং পাবে না। তাই গরমের আগে নতুন ফ্রিজ, এসি, ফ্যান কিনলে BEE ৫-স্টার দেখে নাও। ইনভার্টার এসি শুধু চলার সময় না, স্ট্যান্ডবাইতেও কম খায়।

‘১ ওয়াট রুল’ কীভাবে মানবে গরমে? রুল সোজা। অফিস বেরোনোর সময়, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় মাল্টিপ্লাগের মেন সুইচ অফ। টিভি, সেট-টপ, সাউন্ড বার, হোম থিয়েটার - একটা মাল্টিপ্লাগে রাখো। খেলা দেখা শেষ, এক সুইচে সব অফ। এসি রিমোট দিয়ে অফ করার পর দেয়ালের মেন সুইচও অফ করো। ইনডোর ইউনিটের ডিসপ্লে আর সেন্সর অফ হবে। রাউটার দরকার হলে অন রাখো, কিন্তু ২ দিনের ট্যুরে গেলে অফ করো। ফোন ১০০% চার্জ হলে সুইচ থেকে চার্জার খোলো। গরমে গিজার কম লাগে, তাই মেন সুইচ অফ রাখো। মাইক্রোওয়েভের ঘড়ি ডিসেবল করা যায় - ম্যানুয়াল দেখো। ওয়াশিং মেশিনের কাজ শেষ, প্লাগ খোলো।

গরমের জন্য ৩টে এক্সট্রা টিপস। এক, ইনভার্টার থাকলে চেক করো সেটা ২৪ ঘণ্টা ১০-১৫ ওয়াট খায়। ব্যাটারি ফুল থাকলেও খায়। লোডশেডিং কম হলে ইনভার্টার অফ রাখো। দুই, স্মার্ট প্লাগ ৫০০-৮০০ টাকায় পাওয়া যায়। ফোন থেকে টাইমার সেট করো - রাত ১২টায় টিভি-এসি স্ট্যান্ডবাই অফ, সকাল ৭টায় অন। মাসে ২৫০ টাকা বাঁচলে ৩ মাসে দাম উঠে যাবে। তিন, এসির ফিল্টার ১৫ দিনে একবার ধোও। জ্যাম ফিল্টার ২০% বেশি বিল তোলে। ২৪ ডিগ্রিতে এসি চালাও, পাখা চালাও - কমফোর্ট একই, বিল ৩০% কম।

একটা বাড়িতে টেস্ট করা হয়েছে। এপ্রিল মাসে ফ্যান্টম লোড না কমিয়ে বিল এসেছিল ৩১২ ইউনিট, ২৯১০ টাকা। মে মাসে ‘১ ওয়াট রুল’ মেনে, এসি ইউজ একই রেখে বিল হল ২৭১ ইউনিট, ২৪৮৫ টাকা। ৪২৫ টাকা সেভ। বছরে ৫০০০ টাকা। এসি কম না চালিয়ে শুধু চোর ধরেই এটা সম্ভব।

বিল বেশি আসার আরো কারণ আছে - লুজ কানেকশন, পুরোনো ফ্রিজের গ্যাসকেট লিক, জানালার ফাঁক দিয়ে এসির ঠান্ডা বেরোনো। কিন্তু সবচেয়ে সোজা আর জিরো-কস্ট সেভিংস হল ফ্যান্টম লোড মারা। আজ রাতেই শুরু করো। ঘুমানোর আগে বেডরুম আর হলের মাল্টিপ্লাগ অফ করো। সকালে মিটার রিডিং নোট করো। ১ সপ্তাহ করলে নিজেই তফাৎ বুঝবে।