ভারতের ৮০% বাড়ির কিচেন ৮x৬ ফুট। জায়গা কম, জিনিস বেশি। সমস্যা হল “সব হাতের কাছে চাই” মেন্টালিটি। সমাধান হল “Vertical যাও, Visual কমাও”। রান্নাঘরে - এমন ১০টা জায়গা আছে যেখানে জিনিস লুকিয়েও ৫ সেকেন্ডে বের করা যায়।
সকালে উঠে চা করতে গিয়ে দেখলে স্ল্যাবে গতকালের কড়াই, পেঁয়াজের খোসা, ৫টা কৌটো। মুড অফ। গেস্ট আসলে তাড়াহুড়ো করে সব সিঙ্কের নিচে গুঁজে দাও। আবার আরশোলা। এই সাইকেল বন্ধ করার টাইম এসেছে। প্রথম ট্রিক হল চোখকে বোকা বানানো। দেওয়ালে একটা পেগবোর্ড লাগাও ৩০০ টাকায়। খুন্তি, হাতা, সাঁড়াশি, ছাঁকনি - সব ঝুলিয়ে দাও। নিচে একটা কাঠের তাক। ব্যস, ১৫টা জিনিস স্ল্যাব থেকে হাওয়া। পেগবোর্ডের মজা হল যখন ইচ্ছা হুক সরিয়ে ডিজাইন পাল্টানো যায়। ইনস্টাগ্রামে ছবি দিলে সবাই ভাববে মডুলার কিচেন।

দুই নম্বর জায়গা হল সিঙ্কের নিচের ক্যাবিনেট। বেশিরভাগ বাড়িতে ওটা ডিশ ওয়াসিং এর লিক্যুইড এর বোতল আর ঝুলের ডিপো। একটা টেনশন রড লাগিয়ে দাও ১৫০ টাকায়। তাতে স্প্রে বোতল, ব্রাশ, পুরোনো ন্যাপকিন ঝুলবে। নিচে প্লাস্টিকের ড্রয়ার রাখো। ডাল, চাল, আটার প্যাকেট কৌটোয় ভরে সেখানে ঢোকাও। দরজা বন্ধ করলে দুনিয়া সাফ। তিন নম্বর ট্রিক হল ফ্রিজের সাইড। ম্যাগনেটিক র্যাক বা ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ লাগাও। ছুরি, কাঁচি, টিন কাটার, মশলার ছোট কৌটো সব ফ্রিজের গায়ে চুম্বকের মতো লেগে থাকবে। জায়গা বাঁচল, আবার শেফ-শেফ ফিল আসবে। ২০০ টাকায় Amazon-এ পেয়ে যাবে।
চার নম্বরে আছে ক্যাবিনেটের দরজার পিছন। ওখানে স্ক্রু দিয়ে সরু তাক বা ক্লিংফিল্ম-অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল হোল্ডার লাগাও। পলিথিন, জিপলক ব্যাগ, চপিং বোর্ড খাড়া করে রাখো। দরজা খুললেই সব হাতের কাছে, বন্ধ করলে কেউ দেখবে না। এটাকে বলে “ডেড স্পেস ইউজ”। পাঁচ নম্বর হল সিলিং। হ্যাঁ, সিলিং। লোহার S-হুক আর শিকল দিয়ে একটা হ্যাঙ্গিং র্যাক বানাও স্ল্যাবের উপরে। কড়াই, ফ্রাইপ্যান, সসপ্যান ঝুলিয়ে দাও। নিচের ক্যাবিনেট খালি হয়ে গেল। ছোট কিচেনে এটা লাইফ সেভার। দেখতেও রেস্টুরেন্টের মতো লাগে। খরচ ৪০০ টাকা।
ছয় নম্বরে আসি স্ল্যাবের তলায়। আমাদের কাউন্টারের নিচে ৪ ইঞ্চি প্লিন্থ থাকে। মিস্ত্রি ডেকে ওটাকে টেনে বের করা ড্রয়ার বানাও। লম্বা চাটু, বেলন-চাকি, ওভেন ট্রে ওখানে ঢুকে যাবে। কেউ ভাবতেও পারবে না স্ল্যাবের তলায় আরেকটা কিচেন আছে। সাত নম্বর ট্রিক হল “ফলস ড্রয়ার”। সিঙ্কের সামনে যে নকল ড্রয়ার থাকে, ওটা খুলে টিল্ট-আউট ট্রে লাগাও। স্ক্রাবার, শাবান, রিং সব ওখানে। সিঙ্কের পাশে আর জল জমবে না।
আট নম্বরে আছে জানলার ধাপ। ওখানে টেনশন রড লাগিয়ে ছোট ছোট প্ল্যান্ট ঝোলাও। ধনে, পুদিনা, কারি পাতা। একদিকে মশলার কৌটো কমল, অন্যদিকে কিচেনে সবুজ। গেস্ট এলে বলবে “ওয়াও, ইন্টেরিয়র”। নয় নম্বর হল ট্রলি। ৮০০ টাকায় লোকাল মার্কেটে পাবে। তিন থাকের ট্রলি। পেঁয়াজ-আলু-রসুন নিচে, তেল-মশলা মাঝে, উপরে চা-কফি। রান্নার সময় টেনে আনো, কাজ শেষে পর্দার আড়ালে বা ফ্রিজের পাশে ঢুকিয়ে দাও। মোবাইল স্টোরেজ।
আর দশ নম্বর হল “একটা বাস্কেট রুল”। স্ল্যাবে একটা সুন্দর বেতের বা প্লাস্টিকের বাস্কেট রাখো। সারাদিন যা হাবিজাবি বেরোবে - বিল, চাবি, রাবার ব্যান্ড - সব ওতে ফেলো। রাতে ২ মিনিটে ওটা নিয়ে ঠিক জায়গায় রাখো। স্ল্যাব সবসময় ফাঁকা। এটাকে বলে “ক্লাটার ট্র্যাপ”। এই ১০টা কাজ করলে তোমার ৮x৬ কিচেনকে লাগবে ১২x৮। কারণ চোখে জিনিস কম পড়লে ব্রেন ভাবে জায়গা বেশি। আর সবচেয়ে বড় কথা, আরশোলা-টিকটিকি লুকানোর জায়গা পাবে না। খরচ? সব মিলিয়ে ২০০০ টাকার নিচে। একটা মডুলার কিচেনের ১% ও না।


