আজকাল খারাপ জীবনযাপন ও মানসিক চাপের কারণে হার্টের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হার্ট সুস্থ রাখতে ধূমপান ত্যাগ, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ কমানো অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখলে হার্টের ঝুঁকি কমে।
আজকাল হার্টের রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। খারাপ জীবনযাপন, ভুল খাদ্যাভ্যাস আর মানসিক চাপ হার্টের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে। হার্ট সুস্থ রাখতে কিছু জরুরি বিষয় আমাদের মেনে চলা উচিত।
এক
সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো ধূমপান ছেড়ে দেওয়া। প্রতিটি সিগারেট রক্তনালীর মারাত্মক ক্ষতি করে। আপনি ধূমপান ছাড়ার মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই আপনার হার্ট রেট এবং রক্তচাপ কমতে শুরু করে।
দুই
ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য, চর্বিহীন প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবার বেশি করে খান। এগুলো ধূমপানের কারণে শরীরে হওয়া ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে দেয়। প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টি এবং ট্রান্স ফ্যাট একদম এড়িয়ে চলুন। কারণ এসব খাবার শরীরে 'খারাপ' কোলেস্টেরল ও প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়।
তিন
ব্যায়াম করলে হার্টের পেশি শক্তিশালী হয়। এটি রক্তচাপ কমায় এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখে। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হালকা অ্যারোবিক ব্যায়াম বা ৭৫ মিনিট ভারী ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটলেও হার্টের রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
চার
ধূমপান রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে হার্টের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। নিয়মিত চেকআপ করালে উচ্চ রক্তচাপ আগে থেকেই ধরা পড়ে। খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং মানসিক চাপ কমানোর মতো অভ্যাসগুলো হার্টকে সুরক্ষিত রাখে।
পাঁচ
ধূমপান করলে শরীরে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) কমে যায় এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) ও ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করান। ওটস, ফ্ল্যাক্স সিড, বাদাম এবং চর্বিযুক্ত মাছের মতো খাবারগুলো প্রাকৃতিকভাবে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ছয়
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ হার্টের রোগের অন্যতম বড় কারণ। গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া, ধ্যান বা যোগব্যায়ামের মতো অভ্যাসগুলো মানসিক চাপ কমাতে দারুণ কাজ করে। এছাড়া বই পড়া বা বাগান করার মতো শখগুলোও মন ভালো রাখে এবং ধূমপানের ইচ্ছে কমিয়ে দেয়।
সাত
পরিমিত মদ্যপান হার্টের জন্য কিছুটা উপকারী হতে পারে, তবে অতিরিক্ত মদ্যপান হার্টের রোগের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে যারা ধূমপান করেন, তাদের জন্য এটি মারাত্মক ক্ষতিকর।








