Lifestyle Tips: সুস্থ থাকতে বেশি দাম দিয়ে ‘অর্গ্যানিক’ চাল, ডাল, সবজি কিনছেন? কিন্তু প্যাকেটে শুধু সবুজ রং আর ‘100% Organic’ লেখা থাকলেই কি সেটা খাঁটি? FSSAI বলছে, বাজারে বিক্রি হওয়া ৯০% ‘অর্গ্যানিক’ দাবি করা পণ্যের কোনও সার্টিফিকেটই নেই।
Lifestyle Tips: বাজারে গেলেই চোখে পড়ে – অর্গ্যানিক চাল, অর্গ্যানিক ডাল, অর্গ্যানিক মধু, এমনকি অর্গ্যানিক চিপসও। দাম সাধারণ পণ্যের দ্বিগুণ। কিন্তু ভাবছেন, ‘স্বাস্থ্যের জন্য এটুকু খরচ করাই যায়’।
সমস্যাটা এখানেই। এই ‘অর্গ্যানিক’ তকমার আড়ালে চলছে বিরাট জালিয়াতি। FSSAI বা ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, বাজারে ‘অর্গ্যানিক’ বলে বিক্রি হওয়া ১০টা পণ্যের মধ্যে ৯টারই কোনও সরকারি সার্টিফিকেশন নেই।
মানে আপনি ‘কীটনাশক মুক্ত’ ভেবে যা কিনছেন, সেটা হয়তো পাশের ক্ষেতের সাধারণ সবজির চেয়েও বেশি বিষাক্ত। প্যাকেটের উপর শুধু সবুজ পাতা, ‘Farm Fresh’, ‘Natural’, ‘100% Organic’ লিখে দিলেই হল। ক্রেতা ঠকছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা কোটি টাকা কামাচ্ছে।
তাহলে আসল অর্গ্যানিক চিনবেন কীভাবে? FSSAI-এর ৪টি নিয়ম মেনে চলুন:
১. ‘জৈবিক ভারত’ লোগো মাস্ট: এটাই আসল ID কার্ড
২০১৭ সালের পর থেকে FSSAI নিয়ম করেছে, ভারতে বিক্রি হওয়া প্রতিটা আসল অর্গ্যানিক ফুড প্যাকেটের উপর ‘জৈবিক ভারত’ লোগো থাকতেই হবে। লোগোটা দেখতে কেমন? সবুজ রঙের একটা টিক চিহ্ন, তার নিচে লেখা ‘Jaivik Bharat’। সাথে থাকবে ‘ORGANIC’ কথাটা।
এই লোগো না থাকা মানে ১০০% ভুয়ো। দোকানদার যতই বলুক ‘দাদা, এটা গ্রামের জিনিস, খাঁটি’, কিনবেন না। লোগো ছাড়া ‘অর্গ্যানিক’ শব্দ লেখা বেআইনি। ধরা পড়লে কোম্পানির ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
২. ‘India Organic’ লোগো: NPOP সার্টিফিকেশন
‘জৈবিক ভারত’-এর পাশাপাশি আরও একটা লোগো দেখবেন – ‘India Organic’। এটা ত্রিকোণা, সবুজ-নীল রঙের। এর মানে পণ্যটা ‘ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ফর অর্গ্যানিক প্রোডাকশন’ বা NPOP-এর নিয়ম মেনে তৈরি।
NPOP হল ভারত সরকারের সবচেয়ে কড়া অর্গ্যানিক স্ট্যান্ডার্ড। ৩ বছর ধরে জমিতে কোনও কেমিক্যাল সার, কীটনাশক দেওয়া যাবে না। তারপরেই এই সার্টিফিকেট মেলে। এক্সপোর্ট কোয়ালিটির পণ্যে এই লোগো থাকবেই।
৩. সার্টিফাইং এজেন্সির নাম ও লোগো খুঁজুন
শুধু ‘জৈবিক ভারত’ থাকলেই হবে না। প্যাকেটের পিছনে দেখুন কোন সংস্থা সার্টিফাই করেছে। ভারতে APEDA অনুমোদিত ৩৪টি এজেন্সি আছে। যেমন – ECOCERT, OneCert, Lacon Quality Certification, Vedic Organic Certification Agency।
এদের নাম, লোগো ও সার্টিফিকেট নম্বর প্যাকেটে লেখা থাকবে। সন্দেহ হলে FSSAI-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে সার্টিফিকেট নম্বর মিলিয়ে নিতে পারেন। নম্বর না থাকলে ভুয়ো।
৪. ‘PGS-India Green’ লোগো: ছোট চাষিদের জন্য
সব চাষির তো আর কোটি টাকা খরচ করে বড় সার্টিফিকেশন নেওয়ার ক্ষমতা নেই। তাঁদের জন্য সরকার এনেছে ‘PGS-India’ সিস্টেম। এটা স্থানীয় চাষিদের গ্রুপ নিজেরাই নিজেদের খেত পরীক্ষা করে সার্টিফাই করে।
এই পণ্যের গায়ে সবুজ রঙের ‘PGS-India Organic’ লোগো থাকে। দামও কম হয়। লোকাল হাটে বা ফার্মার্স মার্কেটে এই লোগো দেখলে কিনতে পারেন। তবে সুপারমার্কেটে প্যাকেটজাত পণ্যে এই লোগো কম দেখা যায়।
কোন কোন কথায় ভুলবেন না? FSSAI-এর রেড অ্যালার্ট:
১. শুধু ‘Natural’, ‘Farm Fresh’, ‘Pure’ লেখা: এই শব্দগুলোর কোনও আইনি মানে নেই। যে কেউ লিখতে পারে। ‘Organic’ শব্দটাই একমাত্র নিয়ন্ত্রিত।
২. উপাদান তালিকা বা Ingredients দেখুন: আসল অর্গ্যানিক পণ্যের ৯৫% উপাদান অর্গ্যানিক হতে হবে। প্যাকেটের পিছনে প্রতিটা উপাদানের পাশে ‘Organic’ লেখা থাকবে।
৩. লুজ বা খোলা বিক্রি হওয়া ‘অর্গ্যানিক’: FSSAI বলছে, খোলা চাল, ডাল, সবজি ‘অর্গ্যানিক’ বলে বিক্রি করা যাবে না। কারণ তার কোনও প্রমাণ নেই। প্যাকেটজাত ও লোগো সহ না হলে কিনবেন না।
৪. খুব সস্তায় ‘অর্গ্যানিক’: অর্গ্যানিক চাষে খরচ ৩০-৪০% বেশি। ফলন কম হয়। তাই দাম বেশি হবেই। বাজারের সাধারণ দামের জিনিস ‘অর্গ্যানিক’ বলে দিলে সন্দেহ করুন।
অনলাইনে কিনলে কী করবেন?
Amazon, Big Basket, Blinkit-এ ‘Organic’ ফিল্টার দিলেই শয়ে শয়ে প্রোডাক্ট আসবে। কিন্তু প্রোডাক্টের ছবিতে জুম করে লোগো চেক করুন। ডেসক্রিপশনে সার্টিফিকেট নম্বর আছে কি না দেখুন। রিভিউতে ‘fake organic’ লিখে সার্চ করুন। অনেকে ঠকে রিভিউ দেয়।
শেষ কথা:
‘অর্গ্যানিক’ এখন একটা ৫৭,০০০ কোটি টাকার মার্কেট। যেখানে টাকা, সেখানে জালিয়াতি। শুধু স্ট্যাটাস দেখাতে বা ভয় পেয়ে বেশি টাকা দিয়ে ভুয়ো ‘বিষমুক্ত’ খাবার কিনবেন না।
আজ থেকে দোকানে গিয়ে প্যাকেট উল্টে পাল্টে দেখুন। ‘জৈবিক ভারত’ লোগো নেই? রেখে দিন। আপনার সচেতনতাই এই জালিয়াতি বন্ধ করতে পারে। সুস্থ থাকতে গেলে আগে ঠকা বন্ধ করতে হবে।
FSSAI হেল্পলাইন: কোনও পণ্য নিয়ে সন্দেহ হলে ১৮০০-১১২-২১০০ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানান।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


