একই দীঘা-পুরী-দার্জিলিং ঘুরে বোর হয়ে গেছেন? এই শীতে একটু অফবিট, নিরিবিলি আর চোখ জুড়ানো সুন্দর জায়গা খুঁজছেন, তাও আবার কলকাতার কাছেই? তাহলে আপনার জন্যই রইল ওড়িশার লুকানো রত্ন ঘোড়াহাড়া বা ঘোদাহাদা ড্যাম। নীল জল, সবুজ পাহাড় আর কুমিরের আড্ডা— একদিনেই ভুলে যাবেন সব স্ট্রেস।

শীত মানেই পিকনিক, আর পিকনিক মানেই একটু প্রকৃতির কাছে যাওয়া। কিন্তু ভিড়ে ঠাসা জায়গা আর ভালো লাগছে না? তাহলে এবার প্ল্যান করুন ওড়িশার গঞ্জাম জেলার ঘোড়াহাড়া ড্যামের।

লোকমুখে এটি ঘোদাহাদা ড্যাম নামেও পরিচিত। জায়গাটি এতটাই সুন্দর যে, প্রথম দেখায় মনে হবে যেন কোনও বিদেশি লেক।

কোথায় এই ঘোড়াহাড়া ড্যাম?

ড্যামটি ওড়িশার গঞ্জাম জেলার দিগাপাহান্ডি ব্লকে অবস্থিত। এটি মূলত সেচের কাজের জন্য ১৯৭৮ সালে ঘোড়াহাড়া নদীর ওপর তৈরি করা হয়েছিল। এটি ওড়িশার অন্যতম বৃহত্তম বাঁধ। বেরহামপুর শহর থেকে মাত্র ৪৫ কিমি এবং দিগাপাহান্ডি থেকে ১৯ কিমি দূরে। কলকাতা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৬০০ কিমি। এক রাতের ট্রেন জার্নিতেই পৌঁছে যাবেন।

ঘোড়াহাড়া ড্যামএর সৌন্দর্য:

১. চোখ জুড়ানো প্রকৃতি: তিন দিকে ছোট ছোট সবুজ পাহাড়, মাঝখানে বিশাল নীল জলাধার। শীতকালে জল একদম শান্ত থাকে। সূর্যাস্তের সময় জলের ওপর আলোর খেলা দেখলে মন ভরে যাবে। এখানে এলে আপনি আপনার সব স্ট্রেস ভুলতে বাধ্য হবেন। ফটোগ্রাফির জন্য আদর্শ জায়গা।

২. কুমিরের আস্তানা: এটাই এই ড্যামের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। ঘোড়াহাড়া জলাধারে প্রচুর মিষ্টি জলের কুমির বা মগর রয়েছে। ড্যামের পাশেই রয়েছে একটি কুমির প্রজনন কেন্দ্র। ভাগ্য ভালো থাকলে জলের ধারে রোদ পোহাতে থাকা কুমির দেখতে পাবেন। তবে সাবধান, জলে নামা একদম নিষিদ্ধ।

৩. পিকনিক ও বোটিং: এটি গঞ্জাম জেলার অন্যতম সেরা পিকনিক স্পট। স্থানীয়রা এখানে দল বেঁধে পিকনিক করতে আসেন। ড্যামের জলে মাছ ধরারও অনুমতি আছে। ইচ্ছে হলে ছোট নৌকায় চেপে জলাধারে ঘুরতেও পারেন।

কীভাবে যাবেন কলকাতা থেকে?

- ট্রেনে: কলকাতা থেকে বেরহামপুর (Brahmapur) যাওয়ার প্রচুর ট্রেন আছে। যেমন- চেন্নাই মেল, যশবন্তপুর এক্সপ্রেস। হাওড়া থেকে প্রায় ৮-৯ ঘণ্টা লাগে। বেরহামপুর স্টেশনে নেমে সেখান থেকে অটো বা গাড়ি ভাড়া করে ১ ঘণ্টায় ঘোড়াহাড়া ড্যাম। - গাড়িতে: কলকাতা থেকে NH16 ধরে সোজা বেরহামপুর, তারপর দিগাপাহান্ডি হয়ে ড্যাম। রাস্তা খুব ভালো।

কোথায় থাকবেন, কী খাবেন?

ড্যামের কাছে থাকার জন্য সরকারি বাংলো বা তেমন হোটেল নেই। তাই সবচেয়ে ভালো বেরহামপুর শহরে থাকা। বেরহামপুরে ৮০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে ভালো হোটেল পেয়ে যাবেন। খাওয়া-দাওয়ার জন্যও বেরহামপুরই ভরসা। পিকনিক করতে গেলে খাবার সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই ভালো।

সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ। শীতকালে আবহাওয়া সবচেয়ে মনোরম থাকে এবং কুমির দেখার সম্ভাবনাও বেশি।

তাহলে এই শীতে ভিড় এড়িয়ে একটু শান্তিতে সময় কাটাতে চাইলে, একবার ঘুরে আসুন ঘোড়াহাড়া ড্যাম থেকে। কথা দিচ্ছি, নিরাশ হবেন না।