সারা পৃথিবীতে ৬০ বছরের বেশি সময়ে মাত্র ৪৩ থেকে ৫০ জনের শরীরে এই রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা প্রতি ৬০ লক্ষ মানুষের মধ্যে ১ জনের থাকতে পারে। অত্যন্ত বিরল এই রক্ত। কাদের থাকে এই রক্ত, এর গ্রুপই বা কী হয়, জেনে নিন।
"গোল্ডেন ব্লাড" বা সোনালি রক্ত বাস্তব, তবে এটি রক্তের কোনো সোনালি রঙের বাহার নয়, বরং চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্যতম বিরলতম রক্তের গ্রুপ। বৈজ্ঞানিক নাম Rh-nully (Rh-নাল)। সারা পৃথিবীতে ৬০ বছরের বেশি সময়ে মাত্র ৪৩ থেকে ৫০ জনের শরীরে এই রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা প্রতি ৬০ লক্ষ মানুষের মধ্যে ১ জনের থাকতে পারে।
*এখানে এই বিরল রক্ত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল*:
১. কী এই গোল্ডেন ব্লাড (Rh-null)?
রক্তের গ্রুপ (A, B, O, AB) ছাড়াও আমাদের রক্তে Rh ফ্যাক্টর থাকে (পজিটিভ বা নেগেটিভ)। সাধারণত লোহিত রক্তকণিকার উপরিভাগে ৬১ ধরনের প্রোটিন বা অ্যান্টিজেন থাকে। যাদের শরীরে Rh সিস্টেমে এই অ্যান্টিজেনগুলো সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকে, তাদের রক্তকে Rh-null বা গোল্ডেন ব্লাড বলা হয়। প্রথম ১৯৬১ সালে এক গর্ভবতী নারীর শরীরে এই রক্ত পাওয়া গিয়েছিল।
২. কেন একে "সোনালি" বলা হয়?
এই রক্তের রঙ সাধারণ রক্তের মতোই লাল। তবে এটি অত্যধিক বিরল এবং মূল্যবান (সোনালী যেমন মূল্যবান) হওয়ার কারণে চিকিৎসকরা একে 'গোল্ডেন ব্লাড' বা সোনালী রক্ত বলে অভিহিত করেন।
৩. গোল্ডেন ব্লাডের বিশেষত্ব ও ঝুঁকি:
• ইউনিভার্সাল ডোনার: Rh-null রক্ত যেকোনো বিরল Rh গ্রুপের মানুষের শরীরে দেওয়া যায়। এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক বড় আশীর্বাদ।
• অত্যন্ত বিপজ্জনক: এই রক্তের অধিকারী ব্যক্তিরা সাধারণ পজিটিভ বা নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত গ্রহণ করতে পারেন না, কারণ তাদের শরীর অন্য রক্ত প্রত্যাখ্যান করবে।
• সংকট: যদি কোনো কারণে এই ৪৩ জনের কারোর রক্তের প্রয়োজন হয়, তবে অন্য গোল্ডেন ব্লাড ডোনার খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব, যা তাদের জীবনের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
৪. কাদের শরীরে এই রক্ত থাকে?
এটি সাধারণত একটি বিরল জেনেটিক বা বংশগত মিউটেশনের কারণে হয়। আগের প্রজন্মের থেকে এই ধারা প্রবাহিত হতে পারে। তবে এটি যেকোনো মানুষের শরীরেই হুট করে দেখা দিতে পারে না, এটি একটি জন্মগত বৈশিষ্ট্য।
৫. বর্তমান পরিস্থিতি:
• সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৩ জন (কারও মতে ৪৯ জন) মানুষের শরীরে এই রক্ত পাওয়া গেছে।
• এই বিরল গ্রুপের রক্ত নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চলছে, যাতে ল্যাবরেটরিতে এই রক্ত তৈরি করা যায়।
সংক্ষেপে, গোল্ডেন ব্লাড হলো প্রকৃতির এক বিস্ময়কর সৃষ্টি, যা একই সাথে জীবনের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান আবার ধারণকারী ব্যক্তির জন্য এক বড় স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ।


