Health Tips: রাতে ঘুমানোর আগে গরম নুন-জলে ১৫ মিনিট পা ডোবান, স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩০% কমবে – সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল জাপানের ‘আশিয়ু’ কৌশল। দাবি, এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, ব্লাড প্রেসার কমে, স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল নামে। সত্যিই কি কাজ করে? নাকি আরেকটা হোয়াটসঅ্যাপ টোটকা?
Health Tips: ‘জাপানিরা ১০০ বছর বাঁচে কেন জানেন? কারণ ওরা রোজ নুন-জলে পা ডোবায়। এতে স্ট্রোক হয় না।’ – ফেসবুক-ইনস্টা জুড়ে ঘুরছে এই দাবি। সঙ্গে ভিডিও: বালতিতে গরম জল, ২ চামচ নুন, ১৫ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। ব্যস, প্রেসার কন্ট্রোল, হার্ট সেফ।

ভাইরাল এই ‘জাপানি কৌশল’-এর নাম ‘আশিয়ু’ বা ফুট বাথ। কিন্তু প্রশ্ন একটাই – মেডিকেল সায়েন্স কী বলছে?
১. টোটকাটা আসলে কী? জাপানিরা কী করেন? জাপানে একে বলে ‘আশিয়ু’। অনসেন বা হট স্প্রিং-এর মিনি ভার্সন। নিয়ম: ৪০-৪২°C গরম জলে সামুদ্রিক নুন বা ইপসম সল্ট দিয়ে গোড়ালি অবধি পা ডোবানো। ১৫-২০ মিনিট। ঘুমের ১ ঘণ্টা আগে।
জাপানিরা বিশ্বাস করেন, এতে ‘কি’ বা শরীরের এনার্জি ফ্লো ঠিক হয়। ক্লান্তি কাটে, ঘুম ভালো হয়।
২. স্ট্রোক কমার দাবি: বিজ্ঞান কী বলছে? হ্যাঁ, কিছু উপকার আছে:
ভাসোডাইলেশন: গরম জলে পায়ের রক্তনালী প্রসারিত হয়। পেরিফেরাল সার্কুলেশন বাড়ে। ফলে সাময়িকভাবে ব্লাড প্রেসার 5-10 mmHg নামতে পারে। কলকাতার কার্ডিওলজিস্ট ডা. অরিজিৎ ঘোষ জানালেন, ‘হাইপারটেনশনের রোগীর জন্য এটা রিল্যাক্সেশন থেরাপি হিসেবে কাজ করে।’
কর্টিসল কমে: ২০১৮-র ‘Journal of Physical Therapy Science’-এর স্টাডি বলছে, ১৫ মিনিট ফুট বাথ স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল ২১% কমায়। স্ট্রেস কমলে হার্টের চাপ কমে।
হিট শক প্রোটিন: গরম জল শরীরে ‘হিট শক প্রোটিন’ তৈরি করে। জাপানের কিয়োটো ইউনিভার্সিটির গবেষণা বলছে, এটি রক্তনালীর এন্ডোথেলিয়াল ফাংশন ভালো রাখে। স্ট্রোকের রিস্ক ফ্যাক্টর কমায়।
কিন্তু ‘স্ট্রোক আটকাবে’ বলা ভুল: SSKM-এর নিউরোলজিস্ট ডা. সুদীপ্ত ভট্টাচার্য সাফ বলছেন, ‘স্ট্রোকের ৮০% কারণ হাই প্রেসার, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, স্মোকিং, AFib। শুধু পা ডোবালে এগুলো কন্ট্রোল হবে না। এটা সাপোর্টিভ কেয়ার, কিউর নয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘৩০% ঝুঁকি কমার কোনও বড় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল নেই। সোশ্যাল মিডিয়ার দাবি অতিরঞ্জিত।’
৩. কাদের জন্য ভালো, কাদের জন্য বিপদ? করতে পারেন: ১. হাই ব্লাড প্রেসারের রোগী, ওষুধের পাশাপাশি। ২. সারাদিন দাঁড়িয়ে কাজ, পা ফোলা, ইনসমনিয়ার সমস্যা। ৩. অ্যাংজাইটি, স্ট্রেস বেশি।
একদম করবেন না: ১. ডায়াবেটিক রোগী: পায়ের অনুভূতি কম থাকে। বেশি গরম জলে পুড়ে যাবে, টের পাবেন না। ডায়াবেটিক ফুট আলসার হতে পারে। ২. ভেরিকোজ ভেইন: গরম জলে শিরা আরও ফুলবে, ব্যথা বাড়বে। ৩. লো প্রেসার: BP আরও নেমে মাথা ঘুরে পড়ে যেতে পারেন। ৪. পায়ে ঘা, একজিমা, ইনফেকশন: নুন জ্বালা বাড়াবে। ৫. হার্ট ফেলিওর: অতিরিক্ত গরমে হার্টে চাপ পড়ে।
৪. করতে চাইলে সঠিক নিয়ম মানুন: ডাক্তারের পরামর্শ ১. জল: ৪০°C-এর বেশি নয়। কনুই ডুবিয়ে দেখুন, সহ্য হচ্ছে কিনা। থার্মোমিটার থাকলে ভালো। ২. নুন: ১ বালতি জলে ২-৩ টেবিল চামচ সামুদ্রিক নুন বা ইপসম সল্ট। খাবার নুনেও হবে, কিন্তু ইপসম সল্টে ম্যাগনেশিয়াম থাকে, পেশি রিল্যাক্স করে। ৩. সময়: ১৫ মিনিট ম্যাক্স। ২০ মিনিটের বেশি নয়। ৪. কখন: রাতে ঘুমের ১ ঘণ্টা আগে। খালি পেটে বা ভরা পেটে নয়। ৫. পরে: পা মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগান। ১ গ্লাস জল খান।
শেষ কথা: নুন-জলে পা ডোবানো আরামদায়ক, ঘুম ভালো করে, স্ট্রেস কমায়। পরোক্ষভাবে হার্টের উপকার হতে পারে। কিন্তু এটা স্ট্রোকের ‘ওষুধ’ নয়।
প্রেসার, সুগার, কোলেস্টেরল কন্ট্রোল, রোজ ৩০ মিনিট হাঁটা, ধূমপান ছাড়া, ওষুধ খাওয়া – এই ৫টাই স্ট্রোক আটকানোর আসল রাস্তা।
তাই রিল দেখে বালতি নিয়ে বসার আগে নিজের ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। কারণ আপনার পায়ের নিচে জল, কিন্তু রোগটা অনেক গভীরে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


