Home Decoration: ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা, এসি চলছে ২৪ ঘণ্টা, মাস শেষে ইলেকট্রিক বিল দেখে মাথায় হাত? এসির উপর পুরো ভরসা না রেখে অন্দরমহলে ছোট ছোট বদল আনুন। সাদা পর্দা, হালকা রঙের চাদর, মাটির কলসি, মানি প্ল্যান্ট, এই সাধারণ জিনিসগুলোই ঘরের তাপমাত্রা ৫-৬ ডিগ্রি কমিয়ে দিতে পারে। জানুন কীভাবে বিনা খরচে বা কম খরচে বাড়িতে আনবেন শীতল স্পর্শ।

Summer 2026: বাইরে আগুন ঝরছে, ঘরে ঢুকলেও যেন হাঁসফাঁস। এসি চালালে ঘর ঠান্ডা হয় ঠিকই, কিন্তু পকেটও ঠান্ডা হয়ে যায় বিল দেখে। আবার সারাক্ষণ এসি-তে থাকলে সর্দি-কাশি, ড্রাই স্কিন। সমাধান? আমাদের ঠাকুমা-দিদিমারা এসি ছাড়াই কীভাবে গরম কাটাতেন, মনে আছে? সেই টোটকা আর কিছু স্মার্ট ইন্টেরিয়র বদলেই এবার গরমকে হারান।

ঘর ঠান্ডা রাখার ৭টি ঘরোয়া উপায়:

১. পর্দা বদলান, রোদ আটকান: গরমের প্রধান শত্রু হল জানালা দিয়ে ঢোকা রোদ। মোটা ভেলভেট বা ডার্ক কালারের পর্দা সরান। লাগান সাদা, অফ-হোয়াইট, প্যাস্টেল রঙের সুতি বা লিনেনের পর্দা। হালকা রং তাপ রিফ্লেক্ট করে, ঘর গরম হয় না। দুপুর ১২টা থেকে ৪টে পর্দা টেনে রাখুন। চাইলে বাঁশের চিক বা থার্মাল ব্ল্যাকআউট পর্দা লাগান। ঘর ৩-৪ ডিগ্রি ঠান্ডা হবে।

২. বিছানার চাদর-কুশন কভার হোক সুতির: সিল্ক, সাটিন, পলিয়েস্টারের চাদর গরমে শরীর সেঁকে দেয়। সব বদলে ফেলুন সুতি বা লিনেনের চাদরে। রং হবে সাদা, হালকা নীল, সবুজ, ল্যাভেন্ডার। এই রং চোখে ঠান্ডা ভাব আনে। বালিশের কভার, সোফার কুশন, ডাইনিং টেবিলের কভারও হালকা রঙের সুতি করুন।

৩. ঘরে আনুন ‘ন্যাচারাল এসি’ গাছ: মানি প্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট, অ্যালোভেরা, এরিকা পাম, পিস লিলি, এই গাছগুলো ঘরের তাপ শুষে নেয় আর অক্সিজেন ছাড়ে। রাতে CO2 নেয় না, তাই বেডরুমেও রাখতে পারেন। তুলসী, পুদিনা গাছ বারান্দায় রাখুন। বাতাসে ঠান্ডা গন্ধ ছড়াবে। একটা বড় এরিকা পাম ঘরের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি কমাতে পারে।

৪. আলো কমান, LED লাগান: হলুদ আলো বা পুরনো CFL বাল্ব প্রচুর হিট ছড়ায়। সব বদলে ফেলুন LED লাইটে। LED ৮০% কম তাপ উৎপন্ন করে। দিনের বেলা লাইট না জ্বালিয়ে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করুন, তবে সরাসরি রোদ নয়।

৫. মেঝে ঠান্ডা রাখুন: মার্বেল, টাইলসের মেঝে এমনিই ঠান্ডা। কার্পেট, শতরঞ্জি তুলে ফেলুন। দিনে ২ বার মোছার সময় জলে একটু ফিটকিরি বা পাতিলেবুর রস মিশিয়ে নিন। মেঝে অনেকক্ষণ ঠান্ডা থাকবে। খালি পায়ে হাঁটলে আরাম পাবেন।

৬. ক্রস ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করুন: ভোরবেলা আর সূর্য ডোবার পর ঘরের সব জানালা-দরজা খুলে দিন। সামনের আর পিছনের জানালা খুললে হাওয়া খেলবে। এটাকে বলে ক্রস ভেন্টিলেশন। ঘরের গরম হাওয়া বেরিয়ে ঠান্ডা হাওয়া ঢুকবে। দুপুরে সব বন্ধ করে পর্দা টেনে দিন। এগজস্ট ফ্যান চালিয়ে রাখুন রান্নাঘর, বাথরুমে। গরম হাওয়া জমতে দেবেন না।

৭. মাটির ছোঁয়া আনুন ঘরে: একটা মাটির কলসিতে জল ভরে ঘরের কোণে রাখুন। মাটির কলসি ঘরের হিট টেনে নেয় আর বাষ্পমোচনের মাধ্যমে ঘর ঠান্ডা রাখে। মাটির টবের গাছ, মাটির শোপিস রাখুন। ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র, টিভি, কম্পিউটার না চললে প্লাগ খুলে রাখুন। স্ট্যান্ডবাই মোডেও এরা তাপ ছড়ায়।

এক্সট্রা টিপস: 

১. রান্না করুন বুদ্ধি করে: দুপুরে গ্যাস কম জ্বালান। ওভেন, মাইক্রোওয়েভ কম চালান। সকালে বা রাতে রান্না সেরে ফেলুন।

২. বালতিতে বরফ: ফ্যানের সামনে এক বালতি বরফ জল রাখুন। ফ্যানের হাওয়া বরফের উপর দিয়ে এলে AC-র মতো ঠান্ডা হাওয়া পাবেন। 

৩. দেয়ালের রং: পারলে ঘরের দেয়াল সাদা, অফ-হোয়াইট, হালকা নীল করুন। গাঢ় রং তাপ শোষণ করে।

এসি চালান, কিন্তু ২৬-২৭ ডিগ্রিতে। সঙ্গে সিলিং ফ্যান চালান। কম বিদ্যুতে ঘর বেশি ঠান্ডা হবে। এই ছোট ছোট বদলেই দেখবেন, লোডশেডিং হলেও ঘর থাকবে আরামের। বিলও কমবে, শরীরও ভালো থাকবে। গরমকে ভয় নয়, কৌশলে হারান।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।