অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও বসে থাকা জীবনযাপনের ফলে গ্যাস, অম্বল ও ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বাড়ছে। ওষুধের পাশাপাশি আদা, পুদিনা, হলুদ, জিরা ও তুলসীর মতো 5টি ভেষজ চা নিয়মিত পান করলে হজম শক্তি বাড়ে, লিভার ডিটক্স হয় এবং পেটের অস্বস্তি কমে।  

অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া, অতিরিক্ত ভাজা খাবার আর বসে থাকা জীবনযাপনের ফলে গ্যাস, অম্বল ও ফ্যাটি লিভারের সমস্যা এখন বয়সের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। ওষুধের পাশাপাশি প্রকৃতির ভেষজ উপাদানও এই সমস্যা কমাতে বড় ভূমিকা নেয়। পুষ্টিবিদ ও আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত কিছু ভেষজ চা পান করলে হজম শক্তি বাড়ে, লিভার ডিটক্স হয় এবং পেটের অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

প্রথম হলো আদা চা। আদায় থাকা জিঞ্জেরল নামক উপাদান হজমে সাহায্য করে এবং পেটের গ্যাস ও ফোলাভাব দ্রুত কমায়। এক কাপ গরম জলে এক ইঞ্চি থেঁতো আদা ৫ মিনিট ফুটিয়ে সামান্য মধু মিশিয়ে খেলে অম্বলের জ্বালা ও বুকের অস্বস্তি কমে যায়। সকালে খালি পেটে না খাওয়াই ভালো।

দ্বিতীয় হলো পুদিনা চা। পুদিনার শীতল গুণ পেট ঠান্ডা রাখে এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণে হওয়া বুক জ্বালা কমায়। খাবারের আধ ঘণ্টা পর কয়েকটি তাজা পুদিনা পাতা গরম জলে ফুটিয়ে ছেঁকে পান করলে হজম ভালো হয় এবং পেট হালকা লাগে।

তৃতীয় হলো হলুদ চা। হলুদে থাকা কারকিউমিন লিভারের প্রদাহ কমায় এবং লিভারে অতিরিক্ত ফ্যাট জমতে বাধা দেয়। এক কাপ গরম জলে আধ চামচ হলুদ গুঁড়ো ও সামান্য গোলমরিচ মিশিয়ে পান করলে ফ্যাটি লিভারের উপকার পাওয়া যায়। রাতে ঘুমানোর আগে খেলে লিভার ডিটক্সে সাহায্য করে।

চতুর্থ হলো জিরা চা। জিরা পেটের গ্যাস দূর করে এবং মেটাবলিজম বাড়িয়ে হজম শক্তি উন্নত করে। এক চামচ জিরা হালকা ভেজে গরম জলে ৫ মিনিট ফুটিয়ে ছেঁকে খেলে বদহজম ও পেট ফাঁপার সমস্যা কমে। খাবারের পর এই চা পান করা সবচেয়ে উপকারী।

পঞ্চম হলো তুলসী চা। তুলসী লিভারকে ডিটক্স করে এবং শরীরের ইমিউনিটি বাড়ায়। কয়েকটি তুলসী পাতা গরম জলে ফুটিয়ে মধু মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়ে এবং শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে যায়।

চিকিৎসকরা বলছেন, এই চা গুলো ঘরোয়া প্রতিকার হলেও অতিরিক্ত মাত্রায় খাওয়া উচিত নয়। দিনে ১-২ কাপ যথেষ্ট। ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে চা-এর পাশাপাশি চিনি, তেল ও ভাজা খাবার কমানো, নিয়মিত হাঁটা এবং পর্যাপ্ত জল খাওয়া অপরিহার্য।