রবিবারের সকাল মানেই গরম গরম ফুলকো লুচি আর পাশে ধোঁয়া ওঠা সাদা আলুর তরকারি। পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া, শুধু আদা-জিরে-হিং দিয়ে ঠাকুমার হাতের সেই স্বাদ। রঙ সাদা, কিন্তু টেস্টে ১০০ তে ১০০।
পুজোর সকাল, জন্মদিন, বা এমনি ছুটির দিন। মা রান্নাঘর থেকে ডাক দিল, ‘লুচি ভাজা হচ্ছে, আয়’। প্লেটে ধোঁয়া ওঠা লুচি আর পাশে সেই সাদা আলুর তরকারি। আলুগুলো তুলতুলে, ঝোলটা সাদা-ঘন, উপরে কাঁচা লঙ্কা ভাসছে। একবার লুচি ছিঁড়ে ডুবিয়ে মুখে দিলেই চোখ বন্ধ হয়ে আসে। এই সাদা আলুর তরকারি বাঙালির ইমোশন। দোকানের মতো লাল টকটকে না, কিন্তু স্বাদে ওর বাপ। সবচেয়ে বড় কথা, পেঁয়াজ-রসুন নেই। তাই পুজোর দিন, নিরামিষ বারেও খাওয়া যায়। চলুন, আজ সেই রেসিপি শিখি।

উপকরণ: ৩-৪ জনের জন্য: ১. আলু: ৫০০ গ্রাম, মাঝারি সাইজ – ডুমো করে কাটা ২. আদা বাটা: ১.৫ চামচ ৩. কাঁচা লঙ্কা: ৪-৫টা, চেরা ৪. শুকনো লঙ্কা: ২টো ৫. তেজপাতা: ১টা ৬. গোটা জিরে: ১/২ চামচ ৭. হিং: ১ চিমটি, অপশনাল কিন্তু দিলে স্বাদ খোলে ৮. হলুদ গুঁড়ো: ১/২ চামচ, বেশি না ৯. জিরে গুঁড়ো: ১ চামচ ১০. ধনে গুঁড়ো: ১/২ চামচ ১১. নুন: স্বাদমতো ১২. চিনি: ১/২ চামচ, ব্যালেন্সের জন্য ১৩. সরষের তেল: ৩ টেবিল চামচ ১৪. ঘি: ১ চামচ, নামানোর আগে ১৫. ধনেপাতা কুচি: ২ চামচ, সাজানোর জন্য
প্রণালী: স্টেপ বাই স্টেপ স্টেপ ১: আলু সেদ্ধ করুন স্মার্টলি আলু খোসা ছাড়িয়ে ডুমো করে কাটুন। খুব ছোট না, মাঝারি। প্রেসার কুকারে ১টা সিটি দিন নুন জলে। ৮০% সেদ্ধ হবে। পুরো গলে গেলে তরকারি ঘেঁটে যাবে। জল ঝরিয়ে রাখুন। তাড়া থাকলে কাঁচা আলু দিয়েও হবে, কিন্তু সময় বেশি লাগবে।
স্টেপ ২: ফোড়ন দিন কড়াইতে সরষের তেল গরম করুন। ধোঁয়া উঠলে আঁচ কমান। শুকনো লঙ্কা, তেজপাতা, গোটা জিরে দিন। হিং দিন। সুন্দর গন্ধ বেরোবে। ১০ সেকেন্ড নাড়ুন। পুড়ে গেলে তেতো হবে।
স্টেপ ৩: মশলা কষান আদা বাটা দিন। কাঁচা গন্ধ চলে যাওয়া অবধি ১ মিনিট কষান। এবার হলুদ, জিরে গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো দিন। সামান্য জল ছিটিয়ে ৩০ সেকেন্ড কষান। মশলা যেন না পোড়ে। এটাই সাদা তরকারির বেস। পেঁয়াজ নেই, তাই আদা-জিরেই হিরো।
স্টেপ ৪: আলু দিন ও ফুটান সেদ্ধ আলু দিয়ে দিন। নুন, চিনি দিন। হালকা হাতে নাড়ুন যাতে আলু না ভাঙে। ২ মিনিট ভাজুন। এবার ১.৫ কাপ গরম জল দিন। ঝোল কতটা রাখবেন আপনার উপর। লুচির জন্য মাখা মাখা হলে বেস্ট। চেরা কাঁচা লঙ্কা দিন। ঢাকা দিয়ে ৫-৬ মিনিট ফুটান। আলু মশলা টেনে নেবে।
স্টেপ ৫: ফিনিশিং টাচ ঝোল ঘন হয়ে এলে গ্যাস অফ করুন। উপর থেকে ১ চামচ ঘি আর ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিন। ঢাকা দিয়ে ২ মিনিট রাখুন। ঘিয়ের গন্ধেই খিদে ডবল। ব্যস, রেডি।
সিক্রেট টিপস: ঠাকুমার হেঁশেল থেকে: এক, আলু সেদ্ধ করার সময় ১ চামচ নুন দিন। ভিতর অবধি নুন ঢুকবে। দুই, চন্দ্রমুখী আলু ইউজ করুন। তাড়াতাড়ি সেদ্ধ হয়, গলেও যায় না। জ্যোতি আলু ভেঙে যায়। তিন, হলুদ খুব কম দেবেন। নাম সাদা আলু, তাই রং সাদাটে থাকবে। বেশি হলুদ দিলে লালচে হয়ে যাবে। চার, জল সবসময় গরম ইউজ করুন। ঠান্ডা জলে তরকারির স্বাদ মরে যায়। পাঁচ, নামানোর আগে ১ চামচ ভাজা জিরে গুঁড়ো ছড়ালে দোকানের মতো স্মেল আসবে।
কীসের সাথে খাবেন: এক নম্বরে লুচি। গরম লুচি ছিঁড়ে তরকারিতে মাখিয়ে মুখে দিন। স্বর্গ। দুই, পরোটা বা রাধাবল্লভী। তিন, কচুরি। চার, রুটি। পাঁচ, সকালে মুড়ি দিয়েও খেতে পারেন। অনেকে দুপুরে ভাত দিয়েও খায়। পাশে একটু শসা-পেঁয়াজ স্যালাড হলে জমে যাবে।
ভাবছেন এত সিম্পল রান্না? করে দেখুন একবার। দোকানের ১০০ টাকা প্লেটের তরকারি ফেল। বাচ্চা থেকে বুড়ো সবাই চেটেপুটে খাবে। আর পেঁয়াজ-রসুন নেই বলে গ্যাস-অম্বলের ভয়ও নেই। এই রবিবার ব্রেকফাস্টে বানিয়েই ফেলুন। বাড়ির সবাই বলবে, ‘মা, আজ কী দারুণ হয়েছে’।
ডিসক্লেইমার: ঝাল, নুন নিজের স্বাদমতো অ্যাডজাস্ট করুন। ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগ থাকলে আলু ও নুনের পরিমাণ ডাক্তারের পরামর্শে নিন।


