বেশিরভাগ হোটেলে চেক-ইন দুপুর ১২টা আর চেক-আউট সকাল ১০টা। এর পেছনে লজিস্টিক, হাউসকিপিং এবং ব্যবসার হিসাব জড়িয়ে আছে। কারণটা জানলে আপনি আর অবাক হবেন না।
হোটেলে গেলেই এই একটা জিনিস দেখে সবার মাথা ঘোরে। চেক-ইন করতে দেয় দুপুর ১২টায়। আর চেক-আউট করতে বলে সকাল ১০টায়। মানে থাকছি ২ ঘণ্টা, অথচ ২৪ ঘণ্টার টাকা দিচ্ছি! এর পেছনে কি হোটেলের চালাকি আছে?
না, চালাকি নয়। এর পেছনে আছে একদম প্র্যাকটিক্যাল ৩টে কারণ।
১. হাউসকিপিং-এর জন্য সময় লাগে একটা গেস্ট চেক-আউট করার পর রুমটাকে পরের গেস্টের জন্য পুরোপুরি রেডি করতে হয়। বিছানার চাদর, তোয়ালে বদলানো, বাথরুম স্যানিটাইজ করা, মেঝে মোছা, মিনি ফ্রিজ চেক করা, চা-কফির জিনিস রিফিল করা।
একটা স্ট্যান্ডার্ড রুম পরিষ্কার করতে হাউসকিপিং স্টাফদের ৩০-৪৫ মিনিট লাগে। ১০টা রুমের হোটেল হলে সব রুম রেডি করতে ৪-৫ ঘণ্টা লেগে যায়। সকাল ১০টায় চেক-আউট নিয়ে দুপুর ১২টায় চেক-ইন দিলে এই ২ ঘণ্টার বাফার টাইম পায় তারা।
২. লন্ড্রি এবং মেইনটেনেন্সের সময় চাদর, বালিশের কভার, তোয়ালে সব ওয়াশিং-এ যায়। আবার ছোটখাটো মেইনটেনেন্স - এসি, টিভি, কল, লাইট চেক করারও সময় দরকার। এই ২ ঘণ্টা না থাকলে আগের গেস্টের রুম পরের গেস্টকে নোংরা অবস্থায় দিতে হবে।
৩. ব্যবসার হিসাব: "হোটেল ডে" ২৪ ঘণ্টা নয় হোটেল ইন্ডাস্ট্রিতে ১ দিন = রাত ১টা থেকে পরের দিন রাত ১টা নয়। হোটেলের "ডে" শুরু হয় চেক-আউট টাইম থেকে।
ধরুন আপনি আজ সকাল ১০টায় চেক-আউট করলেন। হোটেল ওই রুমটা আবার আজ রাতেই অন্য কাউকে ভাড়া দিতে পারবে। কিন্তু যদি চেক-আউট ১২টা হত, আর চেক-ইনও ১২টা হত, তাহলে হোটেলের হাতে কোনো বাফার থাকত না। ফ্লাইট লেট হলে বা গেস্ট দেরি করলে পুরো সিস্টেম ভেঙে পড়ত।
আবার সকাল ১০টা চেক-আউট রাখার কারণ, বিজনেস ট্রাভেলাররা সকালেই বেরিয়ে যায়। এয়ারপোর্টের ফ্লাইটও সকালে থাকে। ফলে হোটেল দিনের শুরুতেই রুম খালি পেয়ে যায়।
তাহলে কি কোনো উপায় নেই? আছে। Early Check-in এবং Late Check-out এর জন্য আলাদা চার্জ দিলে হোটেল ম্যানেজমেন্ট করে দেয়। সেটা রুম খালি থাকার উপর নির্ভর করে।
১২টা-১০টার এই ২ ঘণ্টার গ্যাপটা আসলে আপনার জন্যই। যাতে আপনি ক্লিন, ফ্রেশ একটা রুম পান। এটা হোটেলের লাভের জন্য নয়, অপারেশনের প্রয়োজনে।


