অতিরিক্ত নুন খেলে রক্তচাপ বেড়ে যায়, যা কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে। কিডনির অসুখ প্রায়শই লক্ষণ ছাড়াই বাসা বাঁধে, আর অজান্তেই প্রসেসড ফুডের মাধ্যমে আমাদের শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম প্রবেশ করে।
খাবারে নুন না হলে চলে না, কিন্তু বেশি হলেই বিপদ। অতিরিক্ত নুন যে শুধু ব্লাড প্রেশার বাড়ায় তা নয়, চুপিচুপি আপনার কিডনিরও মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে ৫ গ্রামের বেশি নুন খাওয়া উচিত নয়। কিন্তু আজকালকার প্রসেসড ফুড এবং ফাস্ট ফুডের যুগে বেশিরভাগ মানুষই এর চেয়ে অনেক বেশি নুন খাচ্ছেন। এর ফলে কিডনির ওপর চাপ বাড়ছে, যা শরীরের বর্জ্য পদার্থ ফিল্টার করে এবং তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে। সবচেয়ে ভয়ের কথা হল, কিডনির অসুখ প্রায়শই কোনও লক্ষণ ছাড়াই বাসা বাঁধে।
কীভাবে নুন কিডনির ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায়?
আমাদের কিডনি হল শরীরের স্বাভাবিক ফিল্টার, যা বর্জ্য পরিষ্কার করে। যখন আমরা বেশি নুন খাই, তখন রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্তে আরও বেশি জল টেনে আনে, ফলে রক্তের পরিমাণ বাড়ে এবং ব্লাড প্রেশারও বেড়ে যায়। এই উচ্চ রক্তচাপ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোর ক্ষতি করে।
নুন, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনির রোগ
নুন, ব্লাড প্রেশার এবং কিডনির স্বাস্থ্য—এই তিনটি একে অপরের সঙ্গে জড়িত। একটানা বেশি সোডিয়াম খেলে যে উচ্চ রক্তচাপ হয়, তা কিডনির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত নুন কিডনির কার্যক্ষমতা দ্রুত কমিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, এটি প্রস্রাবের রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন এনে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে। যেহেতু এর কোনও ব্যথা বা প্রাথমিক লক্ষণ থাকে না, তাই রোগ গুরুতর না হওয়া পর্যন্ত অনেকেই টের পান না।
খাবারে লুকিয়ে থাকা নুন
আমরা রান্নায় হয়তো কম নুন দিই, কিন্তু অজান্তেই অনেক খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রচুর সোডিয়াম চলে যায়। মূলত এই ধরনের প্রসেসড খাবারগুলিতে অতিরিক্ত নুন থাকে:
প্যাকেটজাত স্ন্যাকস এবং রেডি-টু-ইট খাবার
ব্রেড, বিস্কুট এবং ইনস্ট্যান্ট মিক্স
আচার, পাঁপড় এবং বিভিন্ন ধরনের সস
প্রসেসড মাংসজাতীয় খাবার
খাবারের স্বাদ না কমিয়েও নুন এড়ানো সম্ভব। এই পদ্ধতিগুলো মেনে চলতে পারেন:
সাধারণ টেবিল সল্টের বদলে পটাসিয়ামযুক্ত, কম সোডিয়ামের নুন ব্যবহার করতে পারেন।
'লো সোডিয়াম' লেবেলযুক্ত খাবার দেখে কিনুন।
সংরক্ষিত বা ক্যানড ফুড ব্যবহার করার আগে জলে ভালো করে ধুয়ে নিন। এতে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে যায়।
বাড়িতে তৈরি খাবার খান। এতে খাবারে নুনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
নুনের বদলে তুলসী, বেসিল, আদা, রসুন, জিরার মতো মশলা দিয়ে খাবারের স্বাদ বাড়ান।
যতটা সম্ভব তাজা শাকসবজি, ফল এবং কৃত্রিমভাবে প্রক্রিয়াজাত নয় এমন খাবার বেছে নিন।


