ভাত আঠালো হয়ে যাচ্ছে? ঝরঝরে হচ্ছে না? ভুলটা হচ্ছে চাল ধোয়ার সময়েই। একবার ধুলে হবে না, আবার বেশি ধুলেও পুষ্টি নষ্ট। জানুন ঝরঝরে ভাতের জন্য সঠিক নিয়ম।
ভাত বাঙালির প্রাণ। কিন্তু অনেক সময় ভাত রান্না করতে গিয়ে দেখা যায় ভাতটা আঠালো হয়ে গেছে বা একটা চিটচিটে ভাব রয়ে গেছে। এর পেছনের আসল কারণ অনেকেই জানেন না। আসলে ভুলটা হয় চাল ধোয়ার সময়েই। আমরা তাড়াহুড়ো করে একবার জল বুলিয়েই ভাত বসিয়ে দিই, আর সেখানেই গোলমাল হয়ে যায়।অনেকেই মনে করেন জলের পরিমাপ বা আঁচের গরমের ওপর ভাতের ঝরঝরে হওয়া নির্ভর করে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝরঝরে ভাতের মূল রহস্য আসলে লুকিয়ে রয়েছে চাল ধোয়ার অভ্যাসে।
পারফেক্ট ঝরঝরে ভাতের জন্য চাল ধোয়ার আদর্শ নিয়ম হল ৩ বার ধোয়া।
*প্রথম ধোয়া - ময়লা পরিষ্কার:*
প্রথমবার চাল ধোয়ার সময় দেখবেন জলটা দুধের মতো সাদা এবং ঘোলাটে হয়ে গেছে। এটা হল চালের গায়ে লেগে থাকা অতিরিক্ত স্টার্চ, ধুলো এবং মিলের ময়লা। এই জলটা শরীরের জন্য ভালো নয় এবং এটাই ভাতকে আঠালো করে তোলে। তাই প্রথম জলটা ভালো করে হাত দিয়ে ঘষে ফেলে দিতে হবে।
*দ্বিতীয় ধোয়া - স্টার্চ দূর করা:*
দ্বিতীয়বার জল দিলে দেখবেন জলটা আগের চেয়ে কম ঘোলা, কিন্তু তখনও সামান্য সাদাটে ভাব আছে। এই ধাপটা খুব জরুরি কারণ এই সময় চালের ভেতরে থাকা অতিরিক্ত স্টার্চ বেরিয়ে যায়। এই স্টার্চটাই ভাতকে ঝরঝরে হতে দেয় না।
*তৃতীয় ধোয়া - ফাইনাল চেক:*
তৃতীয়বার যখন জল দেবেন, তখন জলটা প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পরিষ্কার দেখাবে। এই অবস্থায় বুঝতে হবে আপনার চাল ধোয়া একদম পারফেক্ট হয়েছে। এর বেশি ধোয়ার প্রয়োজন নেই।
*বেশি ধুলে কী ক্ষতি হয়?*
অনেকে ভাবেন যত বেশি ধোয়া হবে তত ভালো, তাই ৫ থেকে ৬ বার ধরে চাল ধুয়ে জল একদম স্বচ্ছ করে ফেলেন। এটা করলে চালের গায়ে থাকা প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি, আয়রন এবং ফাইবার ধুয়ে বেরিয়ে যায়। ফলে ভাতের পুষ্টিগুণ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়।
*ঝরঝরে ভাতের জন্য টিপস:*
চাল ধোয়ার পর ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে ভাত লম্বা ও ঝরঝরে হয়। সবসময় এক কাপ চালের জন্য দুই কাপ জল ব্যবহার করুন। আর ভাত হয়ে যাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ঢাকনা খুলবেন না, ১০ মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখুন, এতে ভাত দমে সুন্দর ঝরঝরে হয়ে যাবে।


