হেয়ার কালার বাছার সময় শুধু লেটেস্ট ট্রেন্ড দেখলেই হবে না, নিজের স্কিন টোন আর আন্ডারটোনও খেয়াল রাখা দরকার। সঠিক শেড আপনার লুককে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে, আর ভুল রঙে পুরো সাজটাই মাটি হতে পারে।

Hair Color According to Skin Tone: আজকাল চুলে রঙ করা মানে শুধু সাদা চুল ঢাকা নয়, এটা এখন পার্সোনালিটি আর স্টাইল স্টেটমেন্টের একটা জরুরি অংশ হয়ে গেছে। অনেকেই নতুন আর আকর্ষণীয় লুক পাওয়ার জন্য নানা রকম হেয়ার কালার ট্রাই করেন। কিন্তু প্রায়ই মেয়েরা নিজের স্কিন টোনের সঙ্গে মানানসই রঙের বদলে এমন একটা রঙ বেছে নেন, যা তাদের পুরো লুকটাই নষ্ট করে দেয়। তাই চুলে রঙ করার আগে নিজের স্কিন টোন খেয়াল রাখাটা খুব জরুরি।

আসলে, প্রত্যেকের স্কিন টোন আলাদা হয়—কেউ ফর্সা, কেউ শ্যামলা, আবার কারও গায়ের রঙ চাপা। নিজের স্কিন টোনের সঙ্গে মানানসই হেয়ার কালার বেছে নিলে আপনার পুরো লুকটাই বদলে যেতে পারে। অন্যদিকে, ভুল শেড বাছলে আপনার সৌন্দর্য কমে যেতে পারে। তাই চুলে রঙ করানোর আগে, এটা বোঝা জরুরি যে কোন শেডটা আপনার স্কিন টোনে সবচেয়ে ভালো মানাবে। আসুন, এই আর্টিকেলে জেনে নেওয়া যাক আপনার স্কিন টোনের জন্য সেরা হেয়ার কালার কোনটি।

ফর্সা ত্বকের জন্য হেয়ার কালার

আপনার গায়ের রঙ যদি ফর্সা হয়, তাহলে আপনার ওপর অনেক ধরনের হেয়ার কালার ভালো মানাতে পারে। লাইট ব্রাউন, গোল্ডেন ব্লন্ড, হানি ব্লন্ড, অ্যাশ ব্রাউন এবং কপার শেড ফর্সা ত্বকে বিশেষভাবে ভালো লাগে। এই শেডগুলো ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে, খুব গাঢ় রঙ অনেক সময় মুখকে ডাল বা অনুজ্জ্বল দেখাতে পারে, তাই ফর্সা ত্বকের অধিকারীদের সফট, ওয়ার্ম টোন বেছে নেওয়া উচিত।

শ্যামলা রঙের ত্বকের জন্য হেয়ার কালার

ভারতীয়দের মধ্যে শ্যামলা বা গমের মতো গায়ের রঙ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এই স্কিন টোনের ওপর চকোলেট ব্রাউন, ক্যারামেল ব্রাউন, চেস্টনাট, বারগান্ডি এবং মেহগনি-র মতো শেডগুলো খুব ভালো লাগে। এই রঙগুলো চুলে একটা ন্যাচারাল লুক দেয় আর ত্বকের রঙের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে যায়। শ্যামলা রঙের ত্বকের অধিকারীদের খুব হালকা ব্লন্ড রঙ এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এতে দেখতে неестеিক বা আনন্যাচারাল লাগতে পারে।

চাপা বা ডাস্কি ত্বকের জন্য হেয়ার কালার

যাদের গায়ের রঙ একটু চাপা বা ডাস্কি, তাদের ওপর গভীর এবং রিচ শেড খুব সুন্দর লাগে। যেমন ডার্ক ব্রাউন, বারগান্ডি, ওয়াইন রেড, কফি ব্রাউন এবং মেহগনি। এই রঙগুলো স্কিন টোনের সঙ্গে একটা সুন্দর কনট্রাস্ট তৈরি করে এবং লুককে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। খুব হালকা বা অ্যাশ টোনের রঙ অনেক সময় চাপা রঙের ত্বকে ততটা ভালো লাগে না, তাই গভীর এবং ওয়ার্ম শেড বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

স্কিনের আন্ডারটোন বোঝাও জরুরি

শুধু স্কিন টোন নয়, হেয়ার কালার বাছার সময় স্কিনের আন্ডারটোনও একটা বড় ভূমিকা পালন করে। আপনার স্কিনের আন্ডারটোন যদি ওয়ার্ম হয়, তাহলে গোল্ডেন, হানি, ক্যারামেল এবং কপার-এর মতো শেড ভালো মানাবে। আর যাদের আন্ডারটোন কুল, তাদের জন্য অ্যাশ ব্রাউন, প্ল্যাটিনাম বা কুল রেড শেড বেশি ভালো বিকল্প হতে পারে।

হেয়ার কালার বাছার সময় এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন

হেয়ার কালার বাছার সময় নিজের স্কিন টোনের পাশাপাশি চুলের কোয়ালিটি এবং মেনটেন্যান্সের দিকেও নজর দিন। খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে এমন শেড বেছে নিন যা দেখতে ন্যাচারাল লাগে এবং যার যত্ন নেওয়া সহজ। যদি আপনি বিভ্রান্ত হন বা বুঝতে না পারেন, তাহলে একজন হেয়ার এক্সপার্টের পরামর্শ নিতে পারেন। এতে সবচেয়ে ভালো ফল পাবেন।