মূলত পাকিস্তানের খাবার চাপলি কাবাবের নামটি এসেছে পশতু ভাষার 'চাপরিখ' শব্দ থেকে, যার অর্থ 'চ্যাপ্টা করা' । এই কাবাবগুলো জনপ্রিয় স্ম্যাশড বার্গারের মতো চ্যাপ্টা ও গোলাকার হয়।

বিকেলের আড্ডায় নতুন চমক আনতে বাড়িতেই তৈরি করুন পেশোয়ারি স্টাইলের জিভে জল আনা চপলি কবাব (Chapli Kebab)। কিমা, মশলা এবং বেসন দিয়ে তৈরি চ্যাপ্টা ও বড় আকারের এই কাবাব বাইরে মুচমুচে ও ভেতরে অত্যন্ত জুসি হয় । এটি বানাতে প্রয়োজন ৫০০ গ্রাম মিহি কিমা (খাসি/মুরগি), পেঁয়াজ, টমেটো, আদা-রসুন বাটা, কাঁচা লঙ্কা, ধনে-জিরে গুঁড়ো, আনারদানা, এবং বাইন্ডিংয়ের জন্য বেসন ও ডিম।

চপলি কবাবের বিশেষত্ব কী? সাধারণ কবাবের তুলনায় চপলি কবাব আকারে অনেকটা বড় ও চ্যাপ্টা হয়। এর স্বাদের মূল রহস্য লুকিয়ে আছে এতে ব্যবহৃত মশলার ভারসাম্যে। মোটা করে কোটা মশলা, আনারদানা (ডালিমের দানা), টাটকা টমেটো এবং কাঁচা লঙ্কার মিশ্রণ একে দেয় এক টক-ঝাল ও চটপটে স্বাদ।

চপলি কবাব তৈরির বিস্তারিত পদ্ধতি:

* ম্যারিনেশন: কিমা ভালোভাবে ধুয়ে জল ঝরিয়ে তাতে পেঁয়াজ কুচি, আদা-রসুন বাটা, কাঁচা লঙ্কা কুচি, ধনেপাতা, নুন, লঙ্কা গুঁড়ো, গরম মশলা, ভাজা ধনে-জিরে গুঁড়ো, আধভাঙা আনারদানা (টক স্বাদের জন্য) এবং বেসন বা কর্নফ্লাওয়ার দিয়ে ভালো করে মেখে ৩০ মিনিট ম্যারিনেট করে রাখুন ।

* আকৃতি দেওয়া: হাতে সামান্য তেল মাখিয়ে কিমার মিশ্রণ থেকে বল তৈরি করে হাতের তালুর চাপে চ্যাপ্টা ও পাতলা আকার দিন। মনে রাখবেন, ভাজার সময় কিমা ছোট হয়ে যায়, তাই আকারে বড় করে গড়তে হবে।

* ভাজা: একটি চওড়া তাওয়ায় তেল বা বাটার গরম করুন। মাঝারি আঁচে দু-পিঠ লালচে সোনালি ও মুচমুচে হওয়া পর্যন্ত ধীর আঁচে ভাজুন, যাতে ভেতর পর্যন্ত ভালোভাবে সেদ্ধ হয়।

* পরিবেশন: পেঁয়াজের রিং, পুদিনা চাটনি এবং লেবুর টুকরোর সাথে গরম গরম পরিবেশন করুন।

টিপস: বাইন্ডিংয়ের জন্য বেসন শুকনো তাওয়ায় হালকা ভেজে ব্যবহার করলে স্বাদ ভালো হয়। এছাড়া, একদম আসল স্বাদ পেতে আনারদানা অবশ্যই ব্যবহার করুন