Health News: গরমে আচমকা মাথাব্যথা মানেই শরীর জলের অভাবে SOS সিগন্যাল দিচ্ছে। ব্রেনে রক্ত চলাচল কমে গিয়ে, সাইনাস শুকিয়ে, ইলেক্ট্রোলাইট কমে গিয়ে দপদপ করে।
Health News: দুপুর ২টো। রোদ থেকে ঘরে ঢুকলেন। ফ্যান চালিয়েও শান্তি নেই। মাথার দু’পাশে কেউ হাতুড়ি পিটছে। চোখ খুলতে কষ্ট। বমি বমি ভাব।
হাতে পেইনকিলার নেই। ওষুধের দোকান ১ কিমি দূরে। এই অসহ্য যন্ত্রণা কমাবেন কীভাবে?
গরমের মাথাব্যথা সাধারণ মাথাব্যথা নয়। এটা হিট এক্সহশনের প্রথম ধাপ। ব্রেন আপনাকে বলছে, “আমি শুকিয়ে যাচ্ছি, আমাকে জল দাও”।
কেন গরমে মাথাব্যথা হয়? ৩টে আসল কারণ:
১. ডিহাইড্রেশন: ঘাম দিয়ে শরীর থেকে ২-৩ লিটার জল বেরিয়ে যায়। ব্রেন ৭৩% জল। জল কমলেই ব্রেন সঙ্কুচিত হয়, খুলির সাথে ধাক্কা খায়। ব্যস, দপদপ শুরু।
২. রক্তনালী ফুলে যাওয়া: শরীর ঠান্ডা রাখতে মাথার রক্তনালী ফুলে যায়। নার্ভে চাপ পড়ে। মাইগ্রেনের রোগীদের এই সময় অ্যাটাক আসে।
৩. ইলেক্ট্রোলাইট লস: ঘামে শুধু জল নয়, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম বেরিয়ে যায়। নুন-চিনির ব্যালেন্স নষ্ট হলেই মাথা ঘোরা, ব্যথা।
ওষুধ ছাড়াই ৫ মিনিটে আরাম, ৫টা টোটকা:
টোটকা ১: বরফ-ঠান্ডা ভেজা রুমাল - ২ মিনিটে কাজ
কীভাবে: একটা রুমাল ঠান্ডা জলে ভিজিয়ে নিংড়ে নিন। কপালে, চোখের উপর, ঘাড়ের পিছনে ২ মিনিট চেপে ধরুন। শুকিয়ে গেলে আবার ভেজান। ৫ বার করুন।
কেন কাজ করে: ঠান্ডা ফুলে যাওয়া রক্তনালী সঙ্কুচিত করে। ঘাড়ের পিছনে ব্রেন স্টেম। ওখানে ঠান্ডা দিলে নার্ভ শান্ত হয়। হিট স্ট্রোকের প্রথম চিকিৎসা এটাই।
টোটকা ২: নুন-চিনি-লেবু জল - শরীরের ORS
কীভাবে: ১ গ্লাস ঠান্ডা জলে ১ চামচ চিনি, ২ চিমটে নুন, অর্ধেক পাতিলেবুর রস। গুলে ধীরে ধীরে খান। ১০ মিনিটে ২ গ্লাস।
কেন কাজ করে: এটা ঘরোয়া ORS। সোডিয়াম-গ্লুকোজ শরীরে ঢুকেই ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স করে। ব্রেনে জল পৌঁছায়। ৮০% মাথাব্যথা শুধু এতেই কমে। কোল্ড ড্রিংকস খাবেন না, সুগার আরও জল টানে।
টোটকা ৩: পুদিনা পাতার ম্যাজিক - অ্যারোমা থেরাপি
কীভাবে: ৮-১০টা টাটকা পুদিনা পাতা হাতে নিয়ে কচলে নিন। নাকের কাছে ধরে ২ মিনিট জোরে শ্বাস নিন। পারলে ২টো পাতা চিবিয়ে খান।
কেন কাজ করে: পুদিনার মেন্থল ন্যাচারাল পেইনকিলার। নার্ভ ব্লক করে, মাথার রক্ত চলাচল বাড়ায়। সাইনাস খুলে দেয়। বমি ভাব কাটে। মাইগ্রেনে দারুণ কাজ দেয়।
টোটকা ৪: ঘাড়ে বরফ সেঁক + পায়ে গরম জল
কীভাবে: প্লাস্টিকে ৪-৫টা বরফ নিয়ে ঘাড়ের পিছনে, কানের নিচে ৩০ সেকেন্ড চেপে ধরুন। সাথে এক বালতি ঈষদুষ্ণ জলে পা ডুবিয়ে বসুন।
কেন কাজ করে: মাথায় রক্ত জমে গেছে। ঘাড়ে বরফ দিলে রক্ত নিচে নামবে। পায়ে গরম জল রক্তকে টেনে পায়ের দিকে নিয়ে যাবে। মাথা হালকা হবে ৩ মিনিটে।
টোটকা ৫: অ্যাকুপ্রেশার - বুড়ো আঙুলের খেলা
কীভাবে: বুড়ো আঙুল আর তর্জনীর মাঝের মাংসল জায়গা, যেটাকে LI-4 পয়েন্ট বলে, অন্য হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে ১ মিনিট জোরে টিপে ধরে রাখুন। ছাড়ুন। ৩ বার করুন। দুই হাতেই করুন।
কেন কাজ করে: এই পয়েন্ট মাথাব্যথার মাস্টার পয়েন্ট। চাপ দিলে এন্ডোরফিন হরমোন বেরোয়। ন্যাচারাল পেইনকিলার। টেনশন হেডেক ২ মিনিটে ভ্যানিশ।
রেড সিগন্যাল:
এই ৫টা টোটকার পরেও যদি ৩০ মিনিটে না কমে, আর সাথে এই লক্ষণ থাকে, ১০০-তে ডায়াল করুন:
১. ঘাম বন্ধ: গরমে ঘাম না হওয়া মানে হিট স্ট্রোক।
২. তাপমাত্রা ১০৪°F: জ্বর, গা পুড়ে যাচ্ছে।
৩. বমি, খিঁচুনি, জ্ঞান হারানো: ব্রেনে এফেক্ট পড়েছে।
৪. কথা জড়িয়ে যাওয়া: স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।
গরমে মাথাব্যথা আটকাবেন কীভাবে?
১. ২-৩ লিটার জল: তেষ্টা না পেলেও ৩০ মিনিট ছাড়া ১ গ্লাস জল।
২. সকাল ১১- বিকেল ৪টে রোদ এড়ান: পারলে বেরোবেন না। ছাতা, টুপি মাস্ট।
৩. খালি পেটে রোদে নয়: বেরোনোর আগে শসা, তরমুজ, ডাব খান।
৪. কালো-টাইট জামা বাদ: হালকা রঙের সুতির ঢিলা জামা পরুন।
গরমের মাথাব্যথা অবহেলা নয়। শরীরের অ্যালার্ম। ওষুধ না পেলে এই ৫টা টোটকা আপনার লাইফ সেভার। তবে ২ দিনের বেশি রোজ মাথাব্যথা হলে ডাক্তার দেখান। প্রেশার, সুগার, সাইনাস চেক করান।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


