Indian Railways: কাঞ্চনজঙ্ঘার কোল ঘেঁষে ছুটছে রেলগাড়ি। পাহাড়ি বাঁকে বাঁকে ঝুঁকে আছে ধূসর মেঘ। আর সেই মেঘ ছুঁয়ে আপনার ট্রেন এগিয়ে চলেছে গন্তব্যে। সেবক থেকে রংপো। এবার পাহাড়ের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ট্রেন পৌঁছবে ভারত-চীন সীমান্তের নাথু লা-য়। সম্প্রতি গ্যাংটক থেকে নাথু লা পর্যন্ত রেললাইনের চূড়ান্ত সমীক্ষা বা ‘ফাইনাল লোকেশন সার্ভে’ শুরু করল ভারতীয় রেল।
Indian Railways News: পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির অদূরে সেবক থেকে সিকিমের রংপো পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ দ্রুতগতিতে চলছে, যা ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যেই চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সিকিম ভারতের রেল মানচিত্রে যুক্ত হবে। পরবর্তীতে এই লাইন গ্যাংটক হয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভারত-চীন সীমান্ত নাথু লা পর্যন্ত সম্প্রসারণের জন্য চূড়ান্ত সমীক্ষা চলছে। সম্প্রতি গ্যাংটক থেকে নাথু লা পর্যন্ত রেললাইনের চূড়ান্ত সমীক্ষা বা ‘ফাইনাল লোকেশন সার্ভে’ শুরু করল ভারতীয় রেল। যারা এবার সিকিমে বেড়াতে যাবেন ভাবছেন, তাদের পোয়া বারো। শুধু যে পর্যটনের খরচ কমবে, তা নয়। হাতে সময় নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারবেন নিজের মর্জিমতো। পর্যটকদের বিশেষ ব্যবস্থা দিতে এবার সিকিমে গড়ে উঠছে রেল নেটওয়ার্ক।
সেবক-রংপো রেল প্রকল্পের মূল খুঁটিনাটি:
- দৈর্ঘ্য ও সংযোগ: ৪৪.৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথটি পশ্চিমবঙ্গের সেবক স্টেশনকে সিকিমের রংপোর সঙ্গে যুক্ত করবে।
- ভূ-প্রকৃতি: হিমালয়ের পাহাড়ি এলাকা, সুড়ঙ্গ এবং নদীর ওপর সেতু তৈরি করে এই লাইন নির্মিত হচ্ছে।
- স্টেশনসমূহ: সেবক, রিয়াং, তিস্তা বাজার, মেলি এবং রংপো- এই ৫টি স্টেশনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
- সময়সীমা: রেল সূত্রের খবর, ২০২৭ সালের মধ্যেই এই রুটে ট্রেন চলাচল শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
নাথু লা পর্যন্ত সম্প্রসারণ (ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা):
রংপো থেকে গ্যাংটক পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এবং এরপর নাথু লা পর্যন্ত রেললাইন নিয়ে সমীক্ষা চলছে। এটি চালু হলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪০০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় ভারতের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ ও পর্যটন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
সুবিধা ও তাৎপর্য:
১. যোগাযোগ ব্যবস্থা: দুর্গম পাহাড়ি পথে বাসের পরিবর্তে রেলের মাধ্যমে দ্রুত ও নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হবে।
২. কৌশলগত সুবিধা: চিন সীমান্তে দ্রুত সেনা ও রসদ পৌঁছানো সহজ হবে।
৩. অর্থনীতি ও পর্যটন: সিকিমের জৈব পণ্য দেশের বাজারে পাঠানো সহজ হবে এবং পর্যটকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি হবে।
এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


