হাঁপানির ইনহেলার বাড়িয়ে দিচ্ছে ব্লাড সুগার, চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল
ওষুধের ধরন, মাত্রা এবং ব্যবহারের পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে কিছু ইনহেলারের ওষুধ কম-বেশি পরিমাণে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু ইনহেলার গ্লুকোজের মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

অ্যাজমা (হাঁপানি) এবং ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD)-এর মতো রোগের চিকিৎসায় সাধারণত ইনহেলার ব্যবহার করা হয়। এতে থাকা বিভিন্ন ওষুধ শ্বাসনালী খুলে দিতে বা প্রদাহ কমাতে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে কাজ করে। যারা নিয়মিত এই ওষুধগুলো ব্যবহার করেন, তাঁদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে ফুসফুসের বাইরেও এগুলোর কোনও প্রভাব পড়ে কি না। ডায়াবেটিস আছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বা যারা নিয়মিত রক্তে সুগারের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করছেন, তাঁদের জন্য এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ওষুধের ধরন, মাত্রা এবং ব্যবহারের পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে কিছু ইনহেলারের ওষুধ কম-বেশি পরিমাণে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু ইনহেলার গ্লুকোজের মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারণা করা হয়, যদিও সব ধরনের ইনহেলার ওষুধের ক্ষেত্রে এই প্রভাব সমান নাও হতে পারে।

স্টেরয়েডযুক্ত ইনহেলারগুলোর বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন, কারণ কর্টিকোস্টেরয়েড যখন শরীরের সামগ্রিক ব্যবস্থায় (সিস্টেমিক্যালি) প্রবেশ করে, তখন তা গ্লুকোজ বিপাক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে ইনহেলারের মাধ্যমে নেওয়া কর্টিকোস্টেরয়েড মূলত শ্বাসনালীতেই কাজ করে। সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত মাত্রায় রক্তে সুগারের উপর এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে।
নতুন কোনও ইনহেলার ব্যবহার শুরু করার বা পুরনোটি পরিবর্তন করার পর যদি সুগারের মাত্রায় অপ্রত্যাশিত কোনও পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, তবে বুঝতে হবে যে ওষুধটি এর জন্য দায়ী কি না, নাকি অন্য কোনও কারণ এর পেছনে রয়েছে। কনসালট্যান্ট ডায়েটিশিয়ান এবং ডায়াবেটিস এডুকেটর কানিক্কা মালহোত্রা বলেন, "হ্যাঁ, এটি হতে পারে; তবে মুখে খাওয়ার স্টেরয়েডের তুলনায় ইনহেলারের প্রভাব সাধারণত কমই থাকে। ইনহেলারের কর্টিকোস্টেরয়েড মূলত ফুসফুসের ভেতরে কাজ করে, কিন্তু এর একটি ক্ষুদ্র অংশ ফুসফুসের টিস্যুর মাধ্যমে রক্তপ্রবাহে শোষিত হয়। এছাড়া 'স্পেসার' (spacer) ব্যবহার না করলে, গিলে ফেলা ওষুধের অংশবিশেষ পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমেও শোষিত হতে পারে।"
তিনি আরও জানান, রক্তপ্রবাহে প্রবেশের পর স্টেরয়েড লিভারকে আরও বেশি গ্লুকোজ নিঃসরণে উদ্বুদ্ধ করে এবং একই সঙ্গে পেশি ও চর্বি কোষগুলোর ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা কমিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হল 'সিস্টেমিক বায়োঅ্যাভেলেবিলিটি' (systemic bioavailability)—অর্থাৎ ওষুধের কতটা অংশ ফুসফুসের স্থানীয় সীমানা ছাড়িয়ে রক্তে প্রবেশ করছে।
মালহোত্রা ব্যাখ্যা করেন, "অধিক শক্তিশালী স্টেরয়েড এবং বড় কণা বা পার্টিকেলযুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেশি থাকে। বিষয়টি একটি চুঁইয়ে পড়া কলের (leaking tap) মতো কল্পনা করুন। ফোঁটায় ফোঁটায় পড়া পানিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক বেড়ে যায়; বিশেষ করে তাঁদের ক্ষেত্রে যাদের শরীরে আগে থেকেই ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা ইনসুলিন প্রতিরোধের সমস্যা রয়েছে। অধিকাংশ সুস্থ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে গ্লুকোজের মাত্রা খুব সামান্যই বাড়ে, কিন্তু যাদের সুগার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আগে থেকেই দুর্বল, তাঁদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনটি চিকিৎসাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।"
ইনহেলার ব্যবহারের ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে ডায়াবেটিস রোগীদের কী করা উচিত? ওষুধ বন্ধ না করে বরং নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করাই হল বুদ্ধিমানের কাজ। অনুগ্রহ করে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলুন। ইনহেলার পরিবর্তনের পর এক বা দুই সপ্তাহ ধরে ঘন ঘন সুগারের মাত্রা পরীক্ষা করলে বোঝা যায় যে, গ্লুকোজের এই বৃদ্ধি কোনও নির্দিষ্ট ধারার (pattern) অংশ নাকি স্বাভাবিক দৈনন্দিন ওঠানামা।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News