IRCTC ভোপাল থেকে ‘চারধাম যাত্রা’ প্যাকেজ চালু করেছে। ১২ রাত ১৩ দিনের এই ট্যুরে বিমান ও AC বাসে ভ্রমণের সুবিধা আছে। যমুনোত্রী, গঙ্গোত্রী, কেদারনাথ, বদ্রীনাথ চার ধামই কভার হবে।
ভারতীয় রেলের সহায়ক সংস্থা IRCTC চারধাম যাত্রীদের জন্য বড় সুবিধা নিয়ে এসেছে। ‘চারধাম যাত্রা’ নামে নতুন ট্যুর প্যাকেজ চালু করেছে সংস্থা। জানা গিয়েছে, এই ট্যুর প্যাকেজের সময়কাল ১২ রাত এবং ১৩ দিন। ভোপালের যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে এবার ভোপাল থেকেই যাত্রা শুরু হবে। ফলে মধ্যপ্রদেশের মানুষের জন্য কেদারনাথ-বদ্রীনাথ যাওয়া আরও সহজ হল।
এই যাত্রায় IRCTC-র পক্ষ থেকে আরামদায়ক ভ্রমণ, ভালো হোটেল এবং খাবারের মতো সমস্ত প্রয়োজনীয় সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে। যাত্রীদের বিমান ও বাস উভয় মাধ্যমেই ভ্রমণের সুবিধা দেওয়া হবে। ভোপাল থেকে বিমানে প্রথমে দিল্লি বা দেরাদুন পৌঁছানো হবে। তারপর সেখান থেকে AC বাসে করে হরিদ্বার, বরকোট, উত্তরকাশী, গুপ্তকাশী, যোশীমঠ হয়ে একে একে যমুনোত্রী, গঙ্গোত্রী, কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ ধাম দর্শন করানো হবে। পুরো ট্যুরে IRCTC-র ট্যুর ম্যানেজার সাথে থাকবেন। ফলে যাত্রীদের একটি নিরাপদ ও সুসংগঠিত ভ্রমণের ব্যবস্থা হচ্ছে।
খরচ সম্পর্কে IRCTC স্পষ্ট জানিয়েছে। একা ভ্রমণ করলে প্যাকেজের দাম পড়বে ৯৫,২০০ টাকা। স্বামী-স্ত্রী বা দুজন একসাথে গেলে খরচ কমে জনপ্রতি ৭২,৫০০ টাকা হবে। আর পরিবার বা বন্ধুদের সাথে তিনজন এক ঘরে থাকলে জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ৬৯,৮০০ টাকা। এই টাকার মধ্যেই ভোপাল থেকে যাওয়া-আসার বিমান ভাড়া, সব জায়গায় AC বাসে ঘোরা, স্ট্যান্ডার্ড হোটেল বা কেদারনাথে তাঁবুতে থাকা, প্রতিদিন ব্রেকফাস্ট ও ডিনার, ট্যুর গাইড এবং ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স ধরা আছে।
তবে কিছু খরচ প্যাকেজের বাইরে। কেদারনাথ যাওয়ার জন্য গুপ্তকাশী থেকে হেলিকপ্টার নিলে যাওয়া-আসা ৭০০০ থেকে ৮০০০ টাকা অতিরিক্ত লাগবে। যমুনোত্রীতে ৬ কিমি ও কেদারনাথে ১৮ কিমি হাঁটার রাস্তায় ঘোড়া, ডুলি বা পিট্টু নিলে তার খরচ যাত্রীকেই দিতে হবে। এছাড়া দুপুরের খাবার, মিনারেল ওয়াটার, কুলি, ক্যামেরা চার্জ ও পূজার সামগ্রীও প্যাকেজে ধরা নেই।
বুকিং ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে http://irctctourism.com ওয়েবসাইটে। যাত্রার জন্য আধার কার্ড, উত্তরাখণ্ড সরকারের বাধ্যতামূলক চারধাম রেজিস্ট্রেশন আর মেডিক্যাল ফিটনেস সার্টিফিকেট লাগবে। কেদারনাথ ১১,৭৫০ ফুট উঁচুতে হওয়ায় ডাক্তার দেখিয়ে ফিট সার্টিফিকেট নেওয়া জরুরি।
IRCTC-র এই প্যাকেজে বিমান থাকায় রাস্তায় সময় অনেক কম লাগবে। ট্রেনে ২৪ ঘণ্টার জার্নি বিমানে ২ ঘণ্টায় হয়ে যাবে। বয়স্ক ও যাদের হাতে সময় কম, তাদের জন্য এটা বড় সুবিধা। তবে সিট সংখ্যা সীমিত, তাই তাড়াতাড়ি বুকিং না করলে সিট পাওয়া যাবে না।


