Health Tips: বাঙালির পাতে এক টুকরো মুখ মুছে ভাজা মাছ না থাকলে যেন খাওয়াটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কিন্তু ভোজন রসিকদের জন্য এবার এক দুঃসংবাদ শুনিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

Health Tips: মাছ যখন উচ্চ তাপমাত্রায় তেলে ভাজা হয়, তখন তার মধ্যকার উপকারী ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড নষ্ট হয়ে যায়। উল্টে তেলের ট্রান্স-ফ্যাট এবং অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে প্রবেশ করে ধমনীতে ব্লকেজ তৈরি করে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে একবার বা তার বেশি ভাজা মাছ খান, তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণের তুলনায় ১৩% বেশি। বিশেষ করে ডুবো তেলে ভাজা মাছ এবং সামুদ্রিক মাছ ভাজা শরীরের জন্য বেশি ক্ষতিকর।

সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, সপ্তাহে দুই বা ততোধিক বার ভাজা মাছ (fried fish) খাওয়ার অভ্যাস হৃদরোগ এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। ভাজার সময় ব্যবহৃত তেল এবং উচ্চ তাপমাত্রায় মাছের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে তা ক্ষতিকারক চর্বিতে পরিণত হয়, যা ধমনী ব্লক করা ছাড়াও হৃদরোগজনিত মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি করে।

গবেষণার বিস্তারিত তথ্য ও কারণসমূহ:

* ঝুঁকি বৃদ্ধি: গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন এক বা তার বেশি সার্ভিং ভাজা মাছ খান, তাদের হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ১৩% বেড়ে যেতে পারে।

* ভাজার প্রক্রিয়া: মাছের নিজস্ব গুণাগুণ ভালো হলেও, ডুবো তেলে ভাজলে (deep-frying) এতে ক্ষতিকারক ট্রান্স ফ্যাট এবং ক্যালোরি যোগ হয়।

* হার্ট ও অন্যান্য রোগ: অতিরিক্ত ভাজা মাছ খাওয়া শরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এবং ধমনীতে ব্লকেজ (ক্লগড আর্টারি) সৃষ্টি করে, যা স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।

* শরীরের ওপর প্রভাব: অতিরিক্ত ভাজা খাবারের ফলে দেহে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং হাইপার-ইনফ্ল্যামেটরি অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে, যা দীর্ঘস্থায়ী বিপাকীয় রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

পরামর্শ:অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি এড়াতে মাছ ভাজার পরিবর্তে গ্রিল করা, বেক করা, স্টিম করা বা কম তেলে রান্না করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নারীদের ওপর করা হয়েছে, তবে এর মূল বার্তা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।