পেডিয়াট্রিশিয়ান ডা. অরিত্র সেন বলছেন, ২ বছরের নিচে বাচ্চা "অকারণে" ঘ্যানঘ্যান করলে ৫টা জিনিস চেক করুন: ১. স্কিনে লাল চাকা/র্যাশ, ২. পেট কামড়ানো + পাতলা পায়খানা, ৩. নাক দিয়ে জল + হাঁচি, ৪. দুধ/খাবার দেখেই বমি, ৫. ঠোঁট-চোখ ফুলে যাওয়া। এগুলো খাবার, ডাস্ট, দুধের প্রোটিন অ্যালার্জির লক্ষণ।
৬ মাসের বাচ্চা। সারাদিন কান্না। দুধ খেলেই পেট মুচড়ে কান্না। গায়ে লাল লাল চাকা। মা ভাবছেন "কোলিক পেইন", "গ্যাস হয়েছে"। শাশুড়ি বলছেন "নজর লেগেছে"।

কিন্তু শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১০টা বাচ্চার মধ্যে ২টোরই কোনো না কোনো অ্যালার্জি থাকে। সমস্যা হলো বাচ্চা বলতে পারে না "মা, আমার চুলকোচ্ছে"। তাই "ঘ্যানঘ্যান" ভেবে উড়িয়ে দিলে বিপদ।
অ্যালার্জি vs দুষ্টুমি - ৫টা লক্ষণে ধরুন:
লক্ষণ ১: স্কিনে "ম্যাপ" আঁকা - লাল চাকা, র্যাশ, চুলকানি বাচ্চার গাল, পেট, হাতে লাল লাল চাকা উঠছে? হাত-পা ছুঁড়ে চুলকোচ্ছে? ঘুমোচ্ছে না? এটা "আর্টিকারিয়া" বা "একজিমা"। দুধ, ডিম, চিনাবাদাম খাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে হলে ৯% খাবার অ্যালার্জি। সাবান, ডিটারজেন্ট, গরমে ঘাম থেকেও হতে পারে। "ঘামাচি" ভেবে পাউডার দেবেন না। আগে ডাক্তার দেখান।
লক্ষণ ২: পেটের যুদ্ধ - কান্না + পাতলা পায়খানা + গ্যাস দুধ খাওয়ার পর বাচ্চা পা ভাঁজ করে কাঁদছে? পেট শক্ত হয়ে যাচ্ছে? দিনে ৬-৮ বার পাতলা পায়খানা? এটা "ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স" বা "মিল্ক প্রোটিন অ্যালার্জি" হতে পারে। বাচ্চা দুধ হজম করতে পারছে না। "গ্যাসের ওষুধ" দিয়ে কাজ হবে না। ফর্মুলা বদলাতে হবে।
লক্ষণ ৩: নাক-চোখের খেলা - হাঁচি, নাক দিয়ে জল, চোখ লাল সারাদিন হাঁচি? নাক থেকে জল পড়ছে কিন্তু জ্বর নেই? চোখ কচলাচ্ছে? এটা "ডাস্ট মাইট" বা "পরাগ" অ্যালার্জি। ঘরের কার্পেট, বালিশ, পোষ্যের লোম থেকে হয়। বাচ্চা ভাবছে ঠান্ডা লেগেছে। আসলে অ্যালার্জি।
লক্ষণ ৪: খাবার দেখেই বমি - রিফিউজাল নতুন খাবার মুখে দিতেই বাচ্চা ওগড়ে দিচ্ছে? বমি করে দিচ্ছে? মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে? এটা "ওরাল অ্যালার্জি সিন্ড্রোম"। শরীর বুঝে গেছে এই খাবার ওর শত্রু। জোর করে খাওয়াবেন না। একবার বমি করলে ওই খাবার ২ সপ্তাহ বন্ধ।
লক্ষণ ৫: সবচেয়ে ডেঞ্জারাস - ঠোঁট-চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া এটা "অ্যানাফাইল্যাক্সিস"। অ্যালার্জির সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ। খাবার খাওয়ার ৫-১০ মিনিটের মধ্যে ঠোঁট, জিভ, চোখের পাতা ফুলে যাবে। শ্বাস নিতে কষ্ট হবে। গলা বসে যাবে। বাচ্চা নীল হয়ে যাবে। এটা ইমার্জেন্সি। ১ মিনিট দেরি না করে হাসপাতালে দৌড়ান।
তাহলে কী করবেন? ৩টে স্টেপ:
স্টেপ ১: "ফুড ডায়েরি" মেনটেইন করুন আজ কী খাওয়ালেন, কখন কান্না শুরু হলো, গায়ে র্যাশ উঠলো কিনা - সব নোট করুন। ডাক্তারকে দেখালে ৫০% রোগ ধরা পড়ে যাবে। যেমন: "সকাল ১০টায় কলা দিলাম, ১০:২০-এ পেট কামড়ে কান্না"। বুঝে যাবেন কলাতে অ্যালার্জি।
স্টেপ ২: একটা করে নতুন খাবার দিন ডাক্তারদের "4-Day Rule"। নতুন খাবার দিলে ৪ দিন আর কিছু নতুন দেবেন না। তাহলে বুঝতে পারবেন ওই খাবারেই সমস্যা হচ্ছে নাকি অন্য কিছুতে। একসাথে ৩টে নতুন ফল দিলে বুঝবেন কী করে কোনটায় অ্যালার্জি?
স্টেপ ৩: ডাক্তার দেখান, নিজে ওষুধ না "Fenadin, Avil" - এইসব অ্যান্টিহিস্টামিন বাচ্চাকে নিজে দেবেন না। ডোজ ১ ফোঁটা এদিক-ওদিক হলেই বিপদ। স্কিন টেস্ট, ব্লাড টেস্ট করে ডাক্তারই বলবেন কোন জিনিসে অ্যালার্জি। আর ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট হলে সোজা হাসপাতাল।
একটা বড় ভুল যা মায়েরা করেন: "আমার তো চিংড়িতে অ্যালার্জি, তাই বাচ্চাকেও চিংড়ি দেবো না"। ভুল। বাচ্চার অ্যালার্জি মায়ের অ্যালার্জির সাথে মেলে না। টেস্ট না করে কোনো খাবার লাইফটাইম ব্যান করবেন না। অনেক বাচ্চার ৩ বছর বয়সের পর দুধের অ্যালার্জি নিজেই সেরে যায়।
শেষ কথা: বাচ্চা "অকারণে" কাঁদে না। ওর ভাষা হলো কান্না। আপনি যদি "ঘ্যানঘ্যান" ভেবে ইগনোর করেন, ও কষ্ট পাবে। আর যদি ৫টা লক্ষণ দেখে সাবধান হন, তাহলে ছোট একটা টেস্টেই বাচ্চা সুস্থ।
