মাসের শেষ, বাজার ফাঁকা, হাতে সময়ও কম। তবুও পেট আর মন দুটোই ভরাতে চাই। ৪টে ডিম দিয়েই বানিয়ে ফেলুন দোকানের মতো স্বাদের ডিম মরিচ। গরম ভাতে প্রথম গ্রাসেই প্রেমে পড়ে যাবেন।
রবিবারের দুপুর। মেনুতে কী হবে ভাবতে ভাবতেই মাথা খারাপ। ফ্রিজে মাছ নেই, মাংস আনার সময় নেই, অথচ গরম ভাতের সাথে ঝাল-ঝাল কিছু একটা চাই। এইরকম দিনে বাঙালির শেষ ভরসা আর প্রথম ভালোবাসা দুটোই হল ডিম। আর ডিম মানেই শুধু সেদ্ধ বা অমলেট নয়। আজ বানাব ডিম মরিচ। নামটা শুনেই জিভে জল চলে আসছে তাই না? কাঁচালঙ্কার ঝাঁঝ, গোলমরিচের গরম আর মশলার মাখোমাখো গ্রেভি। এই কম্বো একবার খেলে আপনি সত্যি মাছ-মাংসের কথা ভুলে যাবেন। আর সবচেয়ে ভালো দিক হল এটা বানাতে ১৫ মিনিটের বেশি লাগবে না।

চলুন দেখে নেওয়া যাক কীভাবে বানাবেন এই স্বর্গীয় স্বাদের ডিম মরিচ
প্রথম কাজ ডিম সেদ্ধ করা। ৪টে ডিম নিয়ে প্রেসারে ২টো সিটি দিন। ঠান্ডা করে খোসা ছাড়িয়ে নিন। এবার ডিমগুলোকে লম্বালম্বি করে দু'ফালি করে কেটে নিন। কড়াইতে ১ চামচ সর্ষের তেল গরম করুন। তাতে এক চিমটি নুন আর হলুদ মিশিয়ে ডিমের ফালিগুলো দিন। খুব হালকা করে এপিঠ-ওপিঠ সেঁকে নিন। উদ্দেশ্য হল ডিমের গায়ে একটা হালকা ভাজা ভাব আনা। বেশি করা করে ভাজলে ডিম রবারের মতো শক্ত হয়ে যাবে, তাই সাবধান। ভাজা হয়ে গেলে ডিমগুলো তুলে আলাদা প্লেটে রাখুন।
এবার ওই তেলেই বাকি রান্নাটা হবে। আরও ২ চামচ তেল দিন। তেল ভালো করে গরম হলে ১ চা চামচ গোটা গোলমরিচ শিল-নোড়ায় একটু থেঁতো করে নিন। একদম গুঁড়ো করবেন না। দানা দানা থাকলেই আসল স্বাদটা বেরোবে। এই থেঁতো গোলমরিচ আর ১টা তেজপাতা তেলে ফোড়ন দিন। ১০ সেকেন্ডের মধ্যে গোটা রান্নাঘর গোলমরিচের গন্ধে ভরে যাবে।
গন্ধ বেরোতেই ২টো মাঝারি পেঁয়াজ ঝিরি ঝিরি করে কুচি দিয়ে দিন। পেঁয়াজটা কাঁচের মতো স্বচ্ছ করে ভাজতে হবে। গ্যাস মাঝারি আঁচে রেখে ধৈর্য ধরে ভাজুন। পেঁয়াজ বাদামি হয়ে গেলে ১ চা চামচ আদা-রসুন বাটা দিয়ে দিন। আদা-রসুনের কাঁচা গন্ধটা যাওয়া পর্যন্ত কষান।
এবার ১টা বড় টমেটো কুচি আর স্বাদমতো নুন দিয়ে দিন। টমেটো নরম হয়ে গেলে একে একে মশলা দিন। ১/২ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো, ১ চা চামচ জিরে গুঁড়ো, ১ চা চামচ ধনে গুঁড়ো আর রঙের জন্য ১/২ চা চামচ কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো। এই পর্যায়ে গ্যাস একদম কমিয়ে দিন। আর মশলাটাকে ভালো করে কষাতে থাকুন। ৫ থেকে ৬ মিনিট সময় নিয়ে কষাবেন। দেখবেন মশলার গা থেকে তেল ছেড়ে আসছে। এই তেল ছাড়া ভাবটাই বুঝিয়ে দেবে আপনার গ্রেভির বেস একদম রেডি।
মশলা কষানো হয়ে গেলে আধ কাপ গরম জল ঢেলে দিন। ঝোলটা ফুটে উঠলে আগে থেকে ভেজে রাখা ডিমের ফালিগুলো খুব আলতো করে ছেড়ে দিন। ডিম ভেঙে যেন না যায় সেটা মাথায় রাখবেন। ২ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এই ২ মিনিটেই ডিমের ভিতরে মশলার স্বাদ ঢুকে যাবে।
গ্যাস বন্ধ করার ঠিক ১ মিনিট আগে উপর থেকে ১/২ চা চামচ ভাজা জিরে গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। আর এক মুঠো টাটকা ধনেপাতা কুচি। যারা আরও একটু ঝাঁঝ পছন্দ করেন তারা ২টো কাঁচালঙ্কা মাঝখান থেকে চিরে উপরে দিয়ে ঢাকা দিয়ে রাখতে পারেন।
ব্যস, তৈরি হয়ে গেল আপনার ডিম মরিচ। ঝোলটা কিন্তু একদম পাতলা করবেন না। মাখোমাখো গ্রেভি হলে সেটা ভাতের সাথে মেখে খেতে অমৃত লাগে।
পরিবেশন আর টোটকা
এটা গরম ভাতের সাথে যা লাগে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। রুটি, লুচি বা পরোটার সাথেও দারুণ জমে। পরিবেশনের সময় উপর থেকে আরেকটু থেঁতো গোলমরিচ আর ধনেপাতা ছড়িয়ে দিন। গরম ভাতে মাখার সময় নাকে যে ঝাঁঝটা লাগবে, সেই গন্ধেই অর্ধেক খাওয়া হয়ে যাবে।
আর হ্যাঁ, ঝালটা আপনি নিজের মতো করে ব্যালেন্স করে নেবেন। বাচ্চা থাকলে কাঁচালঙ্কা কম দেবেন, গোলমরিচও একটু কম। বড়রা থাকলে ঝাল বাড়িয়ে দিন।
দামি মাছ-মাংস না থাকলেও যে একটা তৃপ্তির খাওয়া হতে পারে, ডিম মরিচ তার প্রমাণ। কম উপকরণ, কম সময়, কিন্তু স্বাদ একদম ফাইভ স্টার।

