Juvenile Arthritis Symptoms: বাত মানে বয়স্কদের অসুখ - এই ধারণা ভুল। ১৬ বছরের নিচে হাজার হাজার শিশু Juvenile Arthritis এ ভুগছে। সকালের জড়তা, জয়েন্ট ফোলা, খেলায় অনীহা - এই ছোট ছোট লক্ষণগুলোই বড় বিপদের ইঙ্গিত। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে বাচ্চা স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে পারে।

Juvenile Arthritis Precautions: 'মা, হাঁটুটা ব্যথা করছে। আজ স্কুলে যেতে ইচ্ছে করছে না।' প্রথমে মনে হবে হয়তো পড়ে গিয়ে লেগেছে। তারপর ভাববেন 'গ্রোয়িং পেইন'। কিন্তু যদি এই ব্যথা ৬ সপ্তাহের বেশি থাকে, সাথে সকালে ঘুম থেকে উঠে বাচ্চা খুঁড়িয়ে হাঁটে? তাহলে আর অবহেলা নয়। চিকিৎসকরা বলছেন, আমরা যাকে 'বাত' বলে চিনি সেটা শুধু বয়স্কদেরই হয় না। ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদেরও হতে পারে Juvenile Idiopathic Arthritis বা JIA। ভারতে প্রতি ১০০০ শিশুর মধ্যে ১-৪ জন এই রোগে আক্রান্ত। দেরিতে ধরা পড়লে জয়েন্ট বিকৃতি থেকে শুরু করে দৃষ্টিশক্তির সমস্যাও হতে পারে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

শিশুদের বাত কেন হয়? 

বড়দের অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো ক্ষয়ের জন্য নয়। JIA হল একটি অটোইমিউন রোগ। এখানে শিশুর নিজের শরীরের ইমিউন সিস্টেম ভুল করে জয়েন্টের ভিতরের টিস্যুকে শত্রু ভেবে আক্রমণ করে। এর ফলে জয়েন্টে প্রদাহ, ফোলা আর ব্যথা হয়। ডাক্তাররা বলছেন এর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে জিন, ভাইরাল ইনফেকশন আর পরিবেশের প্রভাব থাকতে পারে। মেয়েদের মধ্যে এই রোগের প্রবণতা ছেলেদের তুলনায় বেশি।

কোন কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন? 

ছোটরা সবসময় ব্যথা বোঝাতে পারে না। বরং খিটখিটে হয়ে যায় বা খেলা বন্ধ করে দেয়। তাই অভিভাবকদের এই ৬টি লাল সঙ্কেত মনে রাখতেই হবে। প্রথমেই আসে সকালের জড়তা। বাচ্চা ঘুম থেকে উঠে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা পর্যন্ত শক্ত হয়ে থাকে। হাঁটতে, সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হয়। একটু নড়াচড়ার পর আবার স্বাভাবিক হয়। দ্বিতীয় লক্ষণ হল জয়েন্ট ফুলে যাওয়া। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় হাঁটু, কবজি, কনুই আর আঙুলের গাঁট। জায়গাটা গরম লাগতে পারে, কিন্তু সবসময় লাল হবে এমন নয়। তৃতীয়ত, খেলাধুলায় অনীহা। যে বাচ্চা সারাদিন দৌড়ে বেড়াত, সে হঠাৎ এক জায়গায় বসে থাকছে বা খুঁড়িয়ে হাঁটছে। চতুর্থ লক্ষণ হল জ্বর আর র‍্যাশ। Systemic JIA নামের একটি ধরনে ২ সপ্তাহের বেশি ১০২-১০৪ ডিগ্রি জ্বর আসে, সাথে সারা শরীরে গোলাপি র‍্যাশ বের হয়। পঞ্চমত, চোখের সমস্যা। কিছু ধরনের JIA তে কোনো ব্যথা ছাড়াই চোখের ভিতরে প্রদাহ হয় যাকে Uveitis বলে। এটি চিকিৎসা না করলে দৃষ্টি চলে যেতে পারে। আর ষষ্ঠ লক্ষণ হল বৃদ্ধির সমস্যা। দীর্ঘদিন একটা জয়েন্টে প্রদাহ থাকলে সেই হাত বা পা-এর বৃদ্ধি অন্য দিকের তুলনায় কম বা বেশি হয়ে যেতে পারে।

JIA এর ধরন কতগুলো আর উপসর্গ কীভাবে আলাদা?

JIA এর মোট ৭টি ধরন আছে। সবচেয়ে সাধারণ হল Oligoarticular JIA - এখানে ৬ মাসের মধ্যে ৪টির কম জয়েন্ট আক্রান্ত হয়। Polyarticular JIA তে ৫টির বেশি জয়েন্টে একসাথে ব্যথা হয়। আর Systemic JIA সবচেয়ে মারাত্মক। এখানে জয়েন্টের আগেই তীব্র জ্বর, র‍্যাশ আর শরীরের ভিতরের অঙ্গ আক্রান্ত হয়। তাই লক্ষণ দেখে নিজে ডায়াগনোসিস না করে ডাক্তারের কাছে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা কী?

সন্দেহ হলেই প্রথমে একজন Pediatric Rheumatologist এর পরামর্শ নিন। সাধারণ শিশুরোগ বিশেষজ্ঞও প্রাথমিকভাবে দেখতে পারেন। ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা, ESR, CRP, X-ray এবং বিশেষ করে চোখের Slit Lamp পরীক্ষা করবেন। কারণ অনেক সময় জয়েন্টের ব্যথা না থাকলেও চোখ আক্রান্ত হতে পারে। ভালো খবর হল JIA সারাজীবনের রোগ নয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে ৮০-৯০% শিশু একদম স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারে। চিকিৎসায় থাকে ব্যথার ওষুধ, ফিজিওথেরাপি আর প্রয়োজনে Methotrexate বা Biologics এর মতো ওষুধ যা ইমিউন সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণ করে। সাথে নিয়মিত এক্সারসাইজ জয়েন্টকে নমনীয় রাখে।

অভিভাবকদের জন্য ৪টে জরুরি টিপস 

১. ৬ সপ্তাহের নিয়ম: কোনও জয়েন্টে ব্যথা বা ফোলা ৬ সপ্তাহের বেশি থাকলে ডাক্তার দেখানই। 'আপনা আপনি ঠিক হবে' ভাববেন না। 

২. খেলাধুলা বন্ধ করবেন না: ব্যথা আছে বলেই বাচ্চাকে বিছানায় শুইয়ে রাখবেন না। ডাক্তারের পরামর্শে সাঁতার, সাইকেল চালানো জয়েন্টের জন্য ভালো। 

৩. চোখের পরীক্ষা মাস্ট: ডাক্তার যদি বলেন, তাহলে প্রতি ৩ মাস অন্তর চোখ দেখান। Uveitis এর কোনও উপসর্গ থাকে না। 

৪. পুষ্টি আর মানসিক সাপোর্ট: ক্যালসিয়াম, ভিটামিন D যুক্ত খাবার দিন। আর বাচ্চাকে বোঝান এটা তার দোষ নয়। সে অন্য সবার মতোই স্বাভাবিক। JIA কে বড়দের রোগ ভেবে অবহেলা করলে চলবে না। আপনার একটু সচেতনতাই পারে আপনার সন্তানকে সারাজীবন পঙ্গুত্বের হাত থেকে বাঁচাতে। ব্যথা, ফোলা বা জড়তা দেখলে আজই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।