Kailash Travel Tips: দেবাদিদেব মহাদেবের বাসস্থান কৈলাস ও ব্রহ্মার মানসপুত্র সরোবর – এই দুই পুণ্যভূমি দর্শন কোটি মানুষের স্বপ্ন। ২০২৫ সালে ফের চালু হওয়ার পর ২০২৬-এর যাত্রা নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে। ভারত সরকারের লিপুলেখ রুট ও বেসরকারি নেপাল রুট – দু’ভাবেই যাওয়া যায়। খরচ ১.৮৫ লাখ থেকে ২.৮০ লাখ। বয়স, মেডিকেল, রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি-সহ রইল A to Z তথ্য।
Kailash Travel Tips: ‘কৈলাসে কেল্লাফতে’ শুধু সিনেমায় নয়, বাস্তবেও কৈলাস জয় জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। হিন্দুদের কাছে কৈলাস পর্বত স্বয়ং শিবের ধাম। জৈন ধর্মে প্রথম তীর্থঙ্কর ঋষভদেব এখানেই মোক্ষলাভ করেন। বৌদ্ধ মতে, এটি জগতের কেন্দ্র। আর এই কৈলাসের পাদদেশেই অবস্থিত ৮৪ কিমি পরিধির পবিত্র মানস সরোবর। পুরাণ বলে, ব্রহ্মা নিজের মন থেকে এই সরোবর সৃষ্টি করেন। বিশ্বাস, সরোবরে একবার ডুব দিলে ১০০ জন্মের পাপ ধুয়ে যায়।
কোভিড-১৯ ও সীমান্ত সমস্যার কারণে ২০২০ সাল থেকে যাত্রা বন্ধ ছিল। দীর্ঘ ৫ বছর পর ২০২৫-এর জুন মাসে ফের খুলেছে কৈলাস-মানস সরোবরের দরজা। ২০২৬ সালে যাত্রা আরও সুগম হবে বলে আশা। এখন প্রশ্ন, কীভাবে যাবেন, কত টাকা লাগবে, শরীর ফিট থাকতে হবে কি না। রইল বিস্তারিত।
যাত্রার দুটি রাস্তা: সরকারি ও বেসরকারি
১. বিদেশ মন্ত্রকের লিপুলেখ রুট – খরচ কম, কষ্ট বেশি:
এটি সবচেয়ে প্রামাণ্য ও কম খরচের রুট। বিদেশ মন্ত্রক, ভারত সরকার প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই যাত্রা আয়োজন করে। ২০২৬-এও ৫-৬টি ব্যাচে প্রায় ৫০ জন করে যাত্রী পাঠানো হবে।
যাত্রাপথ: দিল্লি থেকে বাসে উত্তরাখণ্ডের তনকপুর, পিথোরাগড়, ধারচুলা হয়ে গুঞ্জি। গুঞ্জি থেকে শুরু হয় আসল ট্রেকিং। কালাপানি, নাভিডাং হয়ে ১৭,৫০০ ফুট উচ্চতার লিপুলেখ পাস পেরিয়ে ঢুকতে হয় তিব্বতের তাকলাকোটে। সেখান থেকে বাসে মানস সরোবর ও দারচেন। দারচেন হল কৈলাস পরিক্রমার বেস ক্যাম্প।
মোট সময়: ২৪ দিন। এর মধ্যে ১০-১২ দিন হাঁটতে হয়। কৈলাস পরিক্রমা ৫২ কিমি, যা ৩ দিনে শেষ করতে হয়। সর্বোচ্চ উচ্চতা ডোলমা পাস – ১৯,৫০০ ফুট। অক্সিজেন লেভেল সমতলের ৪০%।
খরচ: ২০২৫ সালে খরচ ছিল ১.৮৫ লাখ টাকা। ২০২৬-এ ৫-৭% বাড়তে পারে। এই টাকায় দিল্লি থেকে দিল্লি থাকা, খাওয়া, চিনা ভিসা, তিব্বতি পারমিট, মেডিকেল চেকআপ, গাইড, পোর্টার সব ধরা থাকে। পোর্টার বা ঘোড়ার জন্য আলাদা খরচ নেই।
শর্ত: বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৭০-এর মধ্যে। BMI ২৫-এর নিচে হলে ভালো। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হাঁপানি, হার্টের রোগ, মৃগী থাকলে আবেদন বাতিল। দিল্লি হার্ট অ্যান্ড লাং ইনস্টিটিউট ও ITBP হাসপাতালে ৩ দফা কঠিন মেডিকেল টেস্ট পাশ করতে হবে।
আবেদন পদ্ধতি: http://kmy.gov.in পোর্টালে ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারি মাসে বিজ্ঞপ্তি বেরোবে। অনলাইনে আবেদন ও পাসপোর্ট স্ক্যান কপি জমা দিতে হবে। কম্পিউটার লটারিতে নাম উঠলে তবেই যাত্রা।
২. নেপাল রুট – খরচ বেশি, আরাম বেশি:
যারা বয়স্ক, হাঁটতে অক্ষম বা সরকারি লটারির ঝামেলায় যেতে চান না, তারা বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে নেপাল দিয়ে যান। ২০২৬-এর বুকিং শুরু হয়ে গেছে।
যাত্রাপথ: কাঠমান্ডু থেকে নেপালগঞ্জ, সেখান থেকে সিমিকোট পর্যন্ত ফ্লাইট। সিমিকোট থেকে হিলসা পর্যন্ত হেলিকপ্টার। হিলসা হল নেপাল-তিব্বত সীমান্ত। বর্ডার পেরিয়ে তাকলাকোট। তারপর বাসে মানস সরোবর। এই রুটে হাঁটা প্রায় নেই।
সময়: ১১ থেকে ১৪ দিন। কৈলাস পরিক্রমা না করলে ১০ দিনেই ফেরা যায়। পরিক্রমা করতে চাইলে ঘোড়া ও পোর্টার পাওয়া যায়, যার খরচ আলাদা।
খরচ: জনপ্রতি ২.১০ লাখ থেকে ২.৮০ লাখ টাকা। হেলিকপ্টার, থ্রি-স্টার হোটেল, ভিআইপি দর্শন নিলে খরচ ৩.৫ লাখ পর্যন্ত যায়। এই টাকায় কাঠমান্ডু থেকে কাঠমান্ডু প্যাকেজ ধরা থাকে। কলকাতা-কাঠমান্ডু ফ্লাইট খরচ আলাদা।
শর্ত: বয়স ১০ থেকে ৭৫ বছর। সুগার, প্রেশার থাকলেও ডাক্তারের ফিট সার্টিফিকেট দিলে যাওয়া যায়। তবে ১৮,০০০ ফুটে শ্বাসকষ্ট হবেই। তাই ফিটনেস জরুরি।
প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন?
যাত্রার ৪ মাস আগে থেকে রোজ ৫-৭ কিমি হাঁটুন, সিঁড়ি ভাঙুন। প্রাণায়াম, বিশেষ করে অনুলোম-বিলোম অভ্যাস করুন। ধূমপান, মদ্যপান বন্ধ করুন। ডায়ামক্স ট্যাবলেট ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে রাখুন, এটি AMS প্রতিরোধ করে।
সঙ্গে রাখুন: -১০ ডিগ্রি তাপমাত্রার জ্যাকেট, থার্মাল, ওয়াটারপ্রুফ জুতো, UV সানগ্লাস, ৫০ SPF সানস্ক্রিন, পাওয়ার ব্যাঙ্ক, হেডল্যাম্প, প্রয়োজনীয় ওষুধ। তিব্বতে ভারতীয় সিম চলে না। লোকাল সিম বা স্যাটেলাইট ফোন ভরসা।
মনে রাখবেন, এটি শুধু ট্যুর নয়, আধ্যাত্মিক যাত্রা। শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে বেরোলে মহাদেবের কৃপায় যাত্রা শুভ হবেই।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


