সম্প্রতি স্পেনের ২২ পর্যটক এসেছিলেন ঐতিহ্যে মোড়া এই নবকৈলাসে। মন্দির দেখে মুগ্ধ তাঁরা।

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘১০৮ টি শিব মন্দির’ বা ‘নব কৈলাস’ তার অপূর্ব স্থাপত্য ও শান্ত পরিবেশের কারণে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও ভক্তদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ১৮০৯ সালে বর্ধমানের মহারাজা তেজচন্দ্র বাহাদুর এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন, যা দুটি সমকেন্দ্রিক বৃত্তে বিন্যস্ত ১০৮টি ছোট ছোট মন্দির নিয়ে গঠিত।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কালনার নব কৈলাস মন্দিরের বিস্তারিত বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:

* স্থাপত্য ও গঠন: এই মন্দিরের বিন্যাস খুবই বৈচিত্র্যময়। বাইরের বৃত্তে ৭৪টি এবং ভেতরের বৃত্তে ৩৪টি মন্দির রয়েছে। মন্দিরের দেয়ালগুলি লাল ইটের তৈরি এবং সূক্ষ্ম টেরাকোটার কারুকাজ দেখা যায়।

* শিবলিঙ্গের রূপ: বাইরের বৃত্তের মন্দিরগুলিতে শিবলিঙ্গগুলি সাদা ও কালো রঙের, যা ‘সাদা-কালো’র এক অদ্ভুত সামঞ্জস্য তৈরি করে। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সাদা শিবলিঙ্গগুলি সুসময়ের এবং কালো শিবলিঙ্গগুলি দুঃখের প্রতীক।

* পরিবেশ ও আকর্ষণ: মন্দির প্রাঙ্গণটি অত্যন্ত শান্ত, যা আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য উপযুক্ত। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এখানে এসে শান্তিতে সময় কাটান এবং পুজো দেন।

* ঐতিহাসিক গুরুত্ব: এটি বর্তমানে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (ASI) দ্বারা সুরক্ষিত একটি ঐতিহাসিক স্থান। এটি বাংলার প্রাচীন শিল্প ও সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন।

* বিদেশি পর্যটক: স্থাপত্যশৈলী এবং শান্ত পরিবেশের টানে বহু বিদেশি পর্যটক ও গবেষক এখানে নিয়মিত পরিদর্শন করেন, যা একে বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করেছে।

কলকাতা বা পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ট্রেনে কালনা এসে সহজেই এই ১০৮ শিব মন্দির বা ‘নব কৈলাস’ দর্শন করা যায়।