করওয়া চৌথ উত্তর ভারতের একটি জনপ্রিয় উৎসব, যেখানে বিবাহিত মহিলারা স্বামীর দীর্ঘায়ু ও মঙ্গলের জন্য নির্জলা উপবাস করেন। এই ব্রতের সঙ্গে করওয়া মাতা ও বীরাবতীর মতো নারীদের অটুট ভক্তি এবং সাহসের কাহিনি জড়িয়ে আছে।
করওয়া চৌথ উত্তর ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় একটি হিন্দু উৎসব। এই দিন বিবাহিত মহিলারা স্বামীর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও উন্নতির জন্য সারাদিন উপোস করেন। নতুন পোশাক, হাতে মেহেন্দি, সন্ধের পুজো আর চাঁদের জন্য অপেক্ষা— সব মিলিয়ে এই উৎসবের আলাদা একটা আমেজ আছে। তবে শুধু আচার-অনুষ্ঠান নয়, করওয়া চৌথের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গভীর ধর্মীয় বিশ্বাস, ভক্তি আর স্বামী-স্ত্রীর মজবুত সম্পর্কের গল্প।
কেন বিবাহিত মহিলারা করওয়া চৌথ পালন করেন?
উত্তর ভারতের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থী তিথিতে করওয়া চৌথ পালন করা হয়। সূর্য ওঠার আগে শাশুড়ির দেওয়া 'সরগি' খেয়ে মহিলারা এই ব্রত শুরু করেন। এরপর সন্ধেবেলা আকাশে চাঁদ না ওঠা পর্যন্ত তাঁরা খাবার, এমনকী জল পর্যন্ত খান না। পুজো সেরে, চন্দ্রদেবকে জল অর্পণ করার পর চাঁদ দেখে তবেই তাঁরা উপোস ভাঙেন। সংসারে সুখ ও শান্তি বজায় রাখতে এই দিন দেবী পার্বতী, মহাদেব এবং গণেশেরও পুজো করা হয়।
করওয়া মাতার গল্প
করওয়া চৌথের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সবচেয়ে জনপ্রিয় গল্পটি হল করওয়া মাতার। তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ স্ত্রী। একবার নদীতে স্নান করার সময় তাঁর স্বামীকে একটি কুমির আক্রমণ করে। প্রচলিত গল্প অনুযায়ী, নিজের ভক্তি আর সাহসের জোরে করওয়া দেবতার সাহায্য পান এবং স্বামীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচান। তাঁর এই অটুট বিশ্বাসই স্ত্রীর ভালোবাসা আর জেদের প্রতীক হয়ে ওঠে।
আরও একটি জনপ্রিয় ব্রতকথা হল বীরাবতীর গল্প। বীরাবতীর ভাইয়েরা তাঁকে মিথ্যে করে বলেছিল যে চাঁদ উঠে গেছে। ভাইদের কথা বিশ্বাস করে সে আগেই উপোস ভেঙে ফেলে। এরপর স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে সে গভীর ভক্তিতে প্রার্থনা শুরু করে। গল্পের জনপ্রিয় রূপ অনুযায়ী, দেবতার আশীর্বাদে শেষ পর্যন্ত তার স্বামী প্রাণ ফিরে পান।
এই ব্রতের তাৎপর্য কী?
করওয়া চৌথ আসলে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে ভালো থাকা আর দীর্ঘায়ুর জন্য প্রার্থনা। এই ব্রতে মাটির পাত্র বা 'করওয়া'-র খুব গুরুত্ব রয়েছে। আর চাঁদ দেখার মাধ্যমেই এই উপোস ভাঙার রীতি। আজকাল এই উৎসব স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে থাকার আনন্দও উদযাপন করে। অনেক স্বামীও এখন স্ত্রীদের সঙ্গে উপোস করেন। পরিবার আর জায়গা অনুযায়ী নিয়মকানুন একটু আলাদা হলেও, এই উৎসবের মূল কথা একটাই— ভালোবাসা, ভক্তি আর একে অপরের মঙ্গল কামনা।






