ছোটখাটো অস্বস্তিগুলোই কিন্তু বড় বিপদের লক্ষণ। তবে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, ঘরোয়া কিছু সহজ কৌশলে আপনিও ফিরিয়ে আনতে পারেন চোখের সতেজতা। কেন ক্লান্ত হচ্ছে চোখ? একনাগাড়ে কোনও স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে, স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম সময় চোখের পাতা ফেলা হয়। 

সারাদিন কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে চোখের ক্লান্তি, শুষ্কতা ও জ্বালা অনুভব করা স্বাভাবিক। এই ক্লান্তি দূর করে চোখকে সতেজ রাখতে ২০-২০-২০ নিয়ম, বারবার চোখের পলক ফেলা, ঠান্ডা সেঁক, পর্যাপ্ত ঘুম এবং চোখের ব্যায়াম ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

চোখের ক্লান্তি কাটানোর ৫টি কার্যকর টিপস নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. ২০-২০-২০ নিয়ম মানুন (20-20-20 Rule): প্রতি ২০ মিনিট পরপর স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এটি চোখের ফোকাস করার পেশি গুলোকে আরাম দেয়।

২. ঘন ঘন চোখের পলক ফেলা (Blinking): একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে আমরা পলক কম ফেলি, যা চোখ শুষ্ক করে দেয়। সচেতন ভাবে ঘন ঘন পলক ফেললে চোখের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং চোখ সতেজ হয়।

৩. ঠান্ডা সেঁক বা চোখের ব্যায়াম (Cold Compress/Exercise): ঠান্ডা জলে ভেজা কাপড় বা আই মাস্ক চোখের ওপর ১০-১৫ মিনিট রেখে আরাম দিতে পারেন, যা চোখের ফোলাভাব ও ক্লান্তি কমায় । এছাড়া হাতের তালু ঘষে চোখের ওপর রাখা (পাল্মিং) চোখের ক্লান্তি দূর করে।

৪. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম (Proper Sleep): চোখের ক্লান্তির অন্যতম বড় কারণ ঘুমের অভাব। প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ভালো মানের ঘুম চোখের পেশি গুলোকে শিথিল করে এবং ক্লান্তি দূর করে।

৫. স্ক্রিন সেটিংস ও আলোর ব্যবস্থা (Screen Setting & Lighting): ঘরের আলো অনুযায়ী কম্পিউটারের ব্রাইটনেস অ্যাডজাস্ট করুন, খুব বেশি বা কম আলো চোখের ক্ষতি করে। স্ক্রিন চোখের থেকে অন্তত একটি হাত দূরত্বে এবং চোখের লেভেলের সামান্য নিচে রাখুন।

অতিরিক্ত কিছু পরামর্শ:

* ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার: পালং শাক, বাদাম, মাছ এবং কমলালেবুর মতো ভিটামিন এ, সি, ই, এবং ওমেগা-৩ যুক্ত খাবার চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

* জল পান: শরীর হাইড্রেটেড থাকলে চোখের শুষ্কতা কমে।

দ্রষ্টব্য: যদি চোখের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।