Travel Tips: দার্জিলিং-গ্যাংটক মানেই ট্রেনের টিকিট নেই, হোটেলের ভাড়া আগুন, আর ম্যাল রোডে তিল ধারণের জায়গা নেই। অথচ পাহাড়, ঝর্না, মেঘ আর বনফায়ারের নেশা ছাড়তে পারছেন না? চলে যান অযোধ্যা পাহাড়, পুরুলিয়া। কলকাতা থেকে মাত্র ৩২০ কিমি, গাড়িতে ৬ ঘণ্টা বা রাতের ট্রেনে চেপে সকালে নামলেই পাহাড়।

Travel Tips: শুক্রবার রাত অফিস করে মনে হচ্ছে এক ছুটে পাহাড়ে চলে যাই? কিন্তু দার্জিলিং-এর নাম শুনলেই মাথায় আসে ৪ মাস আগে টিকিট কাটা, পার হেড ১০ হাজার বাজেট, আর হোটেলের ব্যালকনি থেকে শুধু অন্য হোটেলের দেওয়াল দেখা। এই ঝামেলা থেকে মুক্তি দেবে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়। কলকাতা থেকে দূরত্ব মাত্র ৩২০ কিমি। শুক্রবার রাতে হাওড়া থেকে চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জার বা রাঁচি ইন্টারসিটি ধরে বীরভূম স্টেশনে নেমে যান, ভোর ৫টায়। সেখান থেকে ৪০ মিনিটের গাড়ির রাস্তা। আর নিজের গাড়ি থাকলে ভোর ৫টায় বেরোলে ব্রেকফাস্ট করবেন বাগমুন্ডিতে, পাহাড়ের কোলে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কীভাবে যাবেন?

কেন যাবেন অযোধ্যা পাহাড় : প্রথমত, এটা পাহাড় হলেও দার্জিলিং-এর মতো ঠান্ডা নয়। অক্টোবর থেকে মার্চ বেস্ট টাইম, ওয়েদার থাকে ১৫-২৫ ডিগ্রি। না বেশি ঠান্ডা, না গরম। সোয়েটার লাগবে, কিন্তু কাঁপতে হবে না। দ্বিতীয়ত, খরচ। দার্জিলিং-এ যে হোটেল ৩ হাজার/রাত, এখানে সেই মানের রিসোর্ট পাবেন ১২০০-১৫০০ টাকায়। লোকাল ধাবায় ৮০ টাকায় ভাত-ডাল-দেশি মুরগি। দুদিনের ট্রিপ ৪ হাজার টাকায় আরামসে হয়ে যাবে।

কী দেখবেন? লিস্ট লম্বা। পাহাড়ের মাথায় আছে আপার ড্যাম আর লোয়ার ড্যাম। বিকেলের দিকে ড্যামের ধারে বসলে মনে হবে পাহাড়ের কোলে এক টুকরো সমুদ্র। এরপর আছে মার্বেল লেক। পাথর কাটতে গিয়ে তৈরি হওয়া এই লেকের জল কাচের মতো স্বচ্ছ আর নীল। ছবি তুললে ইনস্টা পোস্ট ভাইরাল বাঁধা। অ্যাডভেঞ্চার চাইলে চলে যান বামনি ফলস। প্রায় ৩০০ সিঁড়ি নেমে গেলে পাবেন জঙ্গলের মাঝে বিশাল ঝর্না। জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকুন, শহরের সব স্ট্রেস ধুয়ে যাবে। আর একটু উপরে উঠলেই তুর্গা ফলস। পাহাড়ের উপর থেকে দেখতে পাবেন ছোটনাগপুর মালভূমির ভিউ, নিচে সবুজ ভ্যালি আর মেঘের খেলা।

শুধু প্রকৃতি নয়, সংস্কৃতিও আছে। সন্ধ্যাবেলা লোকাল গ্রামে ছৌ নাচের প্রোগ্রাম হয়। রিসোর্টে বলে রাখলে ওরাই ব্যবস্থা করে দেবে। আগুনের আলোয় মুখোশ পরে যখন শিল্পীরা মহিষাসুরমর্দিনী পালা করেন, গায়ে কাঁটা দেবে। রাতে বনফায়ার আর বাঁশপোড়া চিকেন মাস্ট ট্রাই আইটেম। আর ভোরবেলা উঠে পড়ুন ময়ূর পাহাড়ে সানরাইজ দেখতে। কপাল ভালো থাকলে পাহাড়ের ঢালে ময়ূরও দেখতে পাবেন।

কোথায় থাকবেন? অযোধ্যা হিলটপে WBFDC-র কটেজ আছে, অনলাইনে বুক হয়। এছাড়া বাগমুন্ডি আর হিলটপে প্রচুর প্রাইভেট রিসোর্ট হয়েছে। আগে থেকে ফোন করে বুক করে যান, উইকেন্ডে রাশ থাকে। গাড়ি নিয়ে গেলে ড্রাইভারকে হিলটপের রাস্তা নিয়ে সাবধান করবেন, কিছু হেয়ারপিন বেন্ড আছে। নতুন ড্রাইভার হলে লোকাল গাড়ি ভাড়া করে নেওয়া ভালো।

পাহাড় মানেই ১০ ঘণ্টার জার্নি আর পকেট ফাঁকা করা নয়। ছুটি কম, বাজেট কম, কিন্তু মনে পাহাড়ের নেশা? তাহলে এই শনিবারই ব্যাগ গুছিয়ে ফেলুন। দার্জিলিং পরে হবে, আগে এই ‘কাছের স্বর্গ’টা দেখে আসুন। মেঘ, পাহাড়, ঝর্না আর আদিবাসী গ্রামের সরলতা - দুদিনে মন ফ্রেশ হয়ে যাবে গ্যারান্টি।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।