গুগল ম্যাপ খুলে এই গ্রামের ঠিকানা খুঁজবেন? লাভ নেই, কারণ এই গ্রাম প্রতি মিনিটে নিজের জায়গা বদলায়। এখানে রাস্তা নেই, আছে শুধু জল। বাজারে যেতে লাগে নৌকা, স্কুল-বাড়িও ভাসে।

ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলে দেখলেন, আপনার বাড়ির সামনের রাস্তাটা আর নেই। চারদিকে শুধু জল। বাজার যেতে হলে বাইক নয়, নৌকা বের করতে হবে। ছেলেমেয়ে যে স্কুলে যায়, সেই স্কুলটাও আজ এখানে তো কাল ওখানে। রূপকথা মনে হচ্ছে? এমন গ্রাম সত্যিই আছে আমাদের ভারতেই। মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলায় লোকটাক হ্রদের বুকে ভাসছে এই গ্রাম, নাম চম্পু খাংপোক। এটিই ভারতের একমাত্র প্রাকৃতিক ভাসমান গ্রাম।

কীভাবে ভাসে এই গ্রাম?

এই গ্রাম কোনও নৌকার ওপর তৈরি নয়। এটি ভাসে ‘ফুমদি’র ওপর। ফুমদি হলো জলজ গাছ, মাটি, জৈব পদার্থ দিয়ে তৈরি ভাসমান দ্বীপ, যা প্রাকৃতিকভাবেই লোকটাক হ্রদে তৈরি হয়। এই ফুমদিগুলো এতটাই শক্ত যে এর ওপর মানুষ ঘর বানিয়ে বসবাস করে। প্রায় ৩০০টিরও বেশি বাঁশের কুঁড়েঘর রয়েছে এখানে।

এখানে হাঁটা একটা অন্য অভিজ্ঞতা। মাটিতে পা দিলে মনে হবে স্পঞ্জের ওপর হাঁটছেন, পা ভিতরে ঢুকে যাচ্ছে, জল ছলছল করছে। বর্ষায় যখন হ্রদের জল বাড়ে, তখন পুরো গ্রামটাই জলের সঙ্গে ওঠানামা করে।

গুগল ম্যাপ কেন ফেল করবে?

কারণ এই ফুমদিগুলো স্থির নয়। হাওয়ার টানে, জলের স্রোতে এরা ক্রমাগত জায়গা বদলায়। আজ আপনার বাড়ি যেখানে, কাল সকালে তা ১০ মিটার সরে যেতে পারে। তাই এখানে কোনও স্থায়ী ঠিকানা নেই, পিন কোডও কাজ করে না ঠিকভাবে। এখানে রাস্তা নেই, যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ছোট ডিঙি নৌকা।

জীবনযাত্রা কেমন?

এখানকার মানুষ মূলত মৎস্যজীবী। লোকটাক হ্রদই তাদের জীবন। হ্রদের মাছ ধরা, ফুমদিতে চাষ করা, এটাই তাদের জীবিকা। এখানে একটি ভাসমান স্কুলও আছে, যা সত্যিই ভাসে। বাচ্চারা নৌকা করে স্কুলে যায়।

সন্ধে হলে চারদিক নিস্তব্ধ। নেই গাড়ির হর্ন, নেই দূষণ। শুধু জলের শব্দ আর আকাশ ভরা তারা। এই গ্রামকে দেখতে হলে যেতে হবে মণিপুরের মৈরাং শহর হয়ে। লোকটাক লেকের কাছে গিয়ে নৌকা ভাড়া করে পৌঁছাতে হবে চম্পু খাংপোক।

যদি একঘেয়ে জীবন থেকে একটু অন্যরকম কিছু খুঁজতে চান, যদি এমন এক জায়গায় যেতে চান যেখানে মাটিও ভাসে, তাহলে এই ভাসমান গ্রাম আপনার জন্য। মনে রাখবেন, এখানে গেলে ছবি তোলার চেয়ে অনুভব করাটা বেশি জরুরি।