Travel and Food Tips: ট্রেন ধরতে স্টেশনে গিয়ে শুধু চা-বিস্কুট? মিস করছেন! ভারতের প্রতিটা বড় স্টেশন নিজের একটা সিগনেচার খাবারের জন্য বিখ্যাত। মথুরার প্যাঁড়া, লখনউয়ের টুন্ডা কাব, অমৃতসরের কুলচা – প্ল্যাটফর্মে নেমেই এই স্বাদ না নিলে ভ্রমণই অসম্পূর্ণ। কোন স্টেশনে গেলে কী খাবেন, দাম কত, কোথায় পাবেন – রইল ঘুরতে বেরোনোর আগের পারফেক্ট ফুড ম্যাপ।
Travel and Food Tips: ট্রেনের অপেক্ষায় প্ল্যাটফর্মে বসে আছেন। সামনে হকার "চা-গরম" হাঁকছে। কিন্তু একটু খোঁজ নিলেই জানবেন, আপনি যে স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছেন, সেটা ভারতের ফুড ম্যাপে একটা ল্যান্ডমার্ক। হাওড়া স্টেশনের কচুরি থেকে চেন্নাইয়ের ইডলি – স্টেশনের খাবারের স্বাদই আলাদা। ভিড়, হাঁকডাক, স্টিম ইঞ্জিনের আওয়াজের মধ্যে খেলে টেস্ট ডবল হয়ে যায়। ভারত ঘুরতে বেরিয়েছেন? তাহলে এই ১০টা স্টেশনে ট্রেন থামলেই প্লেট হাতে নিন। খাওয়া বাদ দিলে ট্রিপ ৫০% ইনকমপ্লিট।

১. মথুরা জংশন – প্যাঁড়া আর লস্যি
মথুরা মানেই শ্রীকৃষ্ণের শহর। আর স্টেশন মানেই "বৃজবাসী"র প্যাঁড়া। ঘি-এ ভাজা, মুখে দিলেই মিলিয়ে যায়। সাথে মাটির ভাঁড়ের মিষ্টি লস্যি। দাম ৩০-৪০ টাকা কেজি। ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দোকান সবচেয়ে পুরোনো। ট্রেন ছাড়ার ৫ মিনিট আগেও প্যাক করে দেবে।
২. লখনউ চারবাগ – টুন্ডা কাব আর গলৌটি কাব
নবাবের শহরে এসে কাবাব খাবেন না? ১ নম্বর গেটের বাইরে "টুন্ডা কাব" ১২০ বছরের পুরোনো দোকান। উটের মাংসের কিমা দিয়ে তৈরি নরম কাব। সাথে উল্টো তাওয়ার পরোটা। নিরামিষ হলে "গলৌটি কাব" ট্রাই করুন সোয়াবিনের। দাম ১০ টাকা পিস। লখনউয়ের মাটির গন্ধ মিশে আছে এতে।
৩. অমৃতসর জংশন – অমৃতসরী কুলচা আর লস্যি
পাঞ্জাব মেল ধরছেন? ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে "ভাই কুলচেওয়ালা" মিস করবেন না। মাখন ভর্তি আলু-গোবি কুলচা, সাথে ছোলার ডাল আর আচার। আর লস্যি? ১ লিটার মাটির ভাঁড়ে, ওপরে মালাইয়ের লেয়ার। দাম ৬০-৮০ টাকা। খাওয়ার পর মনে হবে অমৃতসর আসাটা সার্থক।
৪. বেনারস জংশন – তাম্বুল পান আর কচুরি-সবজি
কাশী মানেই বিশ্বনাথ। আর স্টেশন মানেই সকালের গরম কচুরি-জিলিপি। "কচোড়ি গলি"র দোকানগুলো ভোর ৫টা থেকে খুলে যায়। সাথে পানের দোকান। বেনারসী মিঠা পান মুখে না দিলে কাশী দর্শন অসম্পূর্ণ। দাম ২০ টাকা প্লেট কচুরি, পান ১০ টাকা।
৫. কলকাতা হাওড়া – কচুরি, জিলিপি আর চপ
হাওড়া স্টেশন মানে বাঙালির আবেগ। ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মের "পুঁটিরামের কচুরি" আর "গাঙ্গুরামের জিলিপি"। গরম কচুরি, ছোলার ডাল, সাথে তেলে ভাজা বেগুনি-আলুর চপ। ২০ টাকায় রাজভোগ। ট্রেন ধরার তাড়া থাকলেও ৫ মিনিট দাঁড়িয়ে খেতেই হবে।
৬. মুম্বই CST – ভড়াপাঁও আর কাটিং চা
মুম্বইয়ের হার্টবিট CST। স্টেশনের বাইরে বেরোলেই "ভড়াপাঁও"। আলুর বড়া, পাঁও, রসুনের চাটনি – ২০ টাকায় এনার্জি ফুল। সাথে কাটিং চা ১০ টাকা। অফিস যাওয়া লোকের ভিড়ে দাঁড়িয়ে খাওয়ার মজাই আলাদা। বৃষ্টিতে ভিজে ভড়াপাঁও – মুম্বইয়ের সিগনেচার।
৭. দিল্লি নিউ দিল্লি – ছোলে-ভাটুরে আর পরোটা
দিল্লি মানেই পেটুকের স্বর্গ। পাহাড়গঞ্জ সাইডের গেট দিয়ে বেরোলেই "চাচা কি হোটেল"। বাটার ভরা ছোলে-ভাটুরে, সাথে লস্যি। নিরামিষ প্রেমীদের জন্য "মতি মহল" এর দাল মাখানি। দাম ১৫০ টাকা থালি। ট্রেন লেট থাকলে এখানেই ডিনার সেরে নিন।
৮. হায়দ্রাবাদ ডেকান – বিরিয়ানি আর ইরানি চা
হায়দ্রাবাদ স্টেশনে নামলেই বিরিয়ানির গন্ধ। "হোটেল নিশাত" বা "প্যারাডাইস" এর পার্সেল কাউন্টার স্টেশনেই আছে। চিকেন বিরিয়ানি ২২০ টাকা। সাথে ইরানি চা আর ওসমানিয়া বিস্কুট। প্ল্যাটফর্মে বসে বিরিয়ানি খাওয়া – একটা আলাদা এক্সপেরিয়েন্স।
৯. চেন্নাই সেন্ট্রাল – ইডলি-ধোসা আর ফিল্টার কফি
দক্ষিণে গেলে স্টেশন মানেই ইডলি। ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের "সরবণ ভবন" আউটলেটে গরম গরম ইডলি-মেদু বড়া, নারকেল চাটনি-সাম্বার। ৫০ টাকা প্লেট। আর সাথে স্টিলের গ্লাসে ফিল্টার কফি – ২০ টাকা। সকাল ৬টার ট্রেন ধরলেও খিদে পাবে না।
১০. কাটিহার জংশন, বিহার – লিট্টি-চোখা
পূর্ব ভারতের স্টেশন মানেই লিট্টি-চোখা। কাটিহার স্টেশনের বাইরে মাটির উনুনে সেঁকা লিট্টি। ঘি-এ ডোবানো, সাথে আলু-বেগুনের চোখা আর আচার। ৩০ টাকায় ৪ পিস। ট্রেনের ঝাঁকুনির মধ্যেও এই স্বাদ ভোলা যায় না।
স্টেশনের খাবার খাওয়ার ৩টি সেফটি টিপস
১. গরম-গরম খান: যে খাবার আপনার সামনে ভাজা হচ্ছে সেটাই নিন। বাসি, ঢাকা দেওয়া খাবার এড়িয়ে চলুন।
২. জল বোতলের: স্টেশনের খোলা জল, কাটা ফল, আইসক্রিম এখন বাদ দিন। IRCTC-র "Rail Neer" বোতল সবচেয়ে সেফ।
৩. প্ল্যাটফর্মের দোকান দেখে: FSSAI লাইসেন্স, পরিষ্কার দোকান দেখে খান। ১০ টাকা বাঁচাতে পেট খারাপ করবেন না।
শেষ কথা
ভারত ঘোরা মানে শুধু মনুমেন্ট দেখা নয়, স্বাদ নেওয়াও। স্টেশনের এই খাবারগুলো একেকটা শহরের গল্প বলে। ট্রেনের হুইসেলের সাথে মিশে থাকা এই স্বাদগুলোই ট্রাভেল মেমরি হয়ে থাকে।
পরের বার টিকিট কাটার সময় দেখে নিন ট্রেন কোন স্টেশনে কতক্ষণ দাঁড়াবে। ১০ মিনিট স্টপেজ পেলেই নেমে পড়ুন। একটা প্লেট খেয়ে নিন। কারণ স্টেশনের খাবার না খেলে, জায়গাটা ঘোরা হল না I
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


