গরম পড়তেই ১ নম্বর সমস্যা দুধ কেটে যাওয়া। সকালে ফুটিয়ে রাখলেন, দুপুরে গিয়েই ছানা। ফ্রিজে রাখলেও লাভ হয় না। শহরের নামকরা রন্ধনশিল্পী শেখালেন দারুণ টোটকা। দুধ জ্বাল দেওয়ার সময় মাত্র ১ চিমটে বেকিং সোডা মিশিয়ে দিন।

এপ্রিল মাস পড়েনি, অথচ দুধের জ্বালা শুরু। সকালে গোয়ালা দিয়ে গেল, আপনি জ্বাল দিয়ে ঢাকা দিয়ে রাখলেন। দুপুরে চা করতে গিয়ে দেখেন দুধ কেটে ছানা হয়ে গেছে। ৭০ টাকা লিটার দুধ, রোজ ফেলে দিতে বুক ফাটে।

ফ্রিজে রাখলেও নিস্তার নেই। কারেন্ট চলে গেলে বা ফ্রিজের পাওয়ার কম থাকলে ৪ ঘণ্টায় কেস খতম। টেনশন নেবেন না।

 কলকাতার নামকরা রন্ধনশিল্পী সুজাতা দি শেখালেন ১০০ বছরের পুরনো টোটকা। খরচ ১ টাকাও না।

১ চিমটে বেকিং সোডা = ১২ ঘণ্টা গ্যারান্টি

টোটকাটা কী? দুধ জ্বাল দেওয়ার সময়, মানে ফুটে ওঠার ঠিক আগে, ১ লিটার দুধে মাত্র ১ চিমটে খাবার সোডা বা বেকিং সোডা মিশিয়ে দিন। ভালো করে নেড়ে ১টা বলক তুলে নামিয়ে নিন।

ব্যস, আপনার দুধ গরমেও ১০-১২ ঘণ্টা বিন্দাস থাকবে। কাটবে না, গন্ধ হবে না।

কিন্তু কেন কাজ করে? সায়েন্সটা কী? গরমে দুধে ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া খুব তাড়াতাড়ি বংশবৃদ্ধি করে। এরা দুধের ল্যাকটোজ চিনিকে ভেঙে ল্যাকটিক অ্যাসিড বানায়। অ্যাসিড বাড়লেই দুধের pH কমে গিয়ে প্রোটিন জমাট বেঁধে ছানা হয়ে যায়।

বেকিং সোডা হল ক্ষার। ১ চিমটে সোডা দুধের অ্যাসিডকে নিউট্রাল করে দেয়। pH ব্যালেন্স থাকে। তাই ব্যাকটেরিয়া বাড়তে পারে না, দুধও কাটে না। সোজা হিসাব।

কতটা দেবেন? মাপটা জানেন কি? ১. ১ লিটার দুধে লাগবে ১ চিমটে, মানে ২-৩ দানা। আঙুলের ডগায় যতটা ওঠে।

 ২. বেশি দিলেই দুধের টেস্ট পাল্টে যাবে। সাবানের মতো লাগবে, আর পেট গরম হবে। তাই “চিমটে” কথাটা মনে রাখবেন।

৩. প্যাকেট দুধ হলে আরও কম লাগবে, কারণ ওতে আগেই স্টেবিলাইজার দেওয়া থাকে।

দুধ ভালো রাখার আরও ৩টে মাস্ট টিপস:

১. স্টিলের পাত্র ইউজ করুন: অ্যালুমিনিয়াম বা ননস্টিকে দুধ তাড়াতাড়ি রিঅ্যাকশন করে। মোটা তলার স্টিলের পাত্রে জ্বাল দিন। তলা ধরবে না, দুধও ভালো থাকবে।

২. ফোটার পর ঢাকা দেবেন না: দুধ ফুটিয়ে সাথে সাথে ঢাকা দিলে ভিতরে স্টিম জমে জল পড়ে। ওই জল থেকেই ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। দুধ ঠান্ডা হলে তারপর ঢাকা দিন। ফ্রিজে রাখলে তো ঢাকা মাস্ট।

৩. ভেজা হাতা বা গ্লাস দেবেন না: দুধ নাড়ার হাতা, বা যে গ্লাসে ঢালছেন, সেটা ভেজা থাকলে দুধ কাটবেই। জলের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া থাকে। সবসময় শুকনো পাত্র ইউজ করুন।

কখন এই টোটকা ইউজ করবেন না? ১. বাচ্চার দুধে বা বয়স্ক মানুষের ডায়েটের দুধে বেকিং সোডা দেবেন না। ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ২. দুধ যদি অলরেডি হালকা টকে গন্ধ ছাড়ে, তাহলে সোডা দিয়ে লাভ নেই। ওটা ফেলে দিন। ৩. ছানা কাটানোর জন্য দই বা লেবু দেওয়ার আগে সোডা দিলে ছানা কাটবে না।

গরমে রোজ দুধ নষ্ট হওয়ার জ্বালা থেকে বাঁচতে আজই ট্রাই করুন। ১ চিমটে বেকিং সোডা, আর নিশ্চিন্তে থাকুন সারাদিন।