Relationships Tips: ‘বাবা মানেই ATM’ – এই ধারণা ভাঙছে। অফিস থেকে ফিরে সোফায় বসে খবরের কাগজ নয়, এখন বাবারা বাচ্চার ডায়াপার বদলাচ্ছে, রাত জেগে ফিডার খাওয়াচ্ছে, PTM-এ যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ‘ড্যাড রিলস’ থেকে কর্পোরেটের প্যাটারনিটি লিভ –
Relationships Tips: সকাল ৭টা। স্ত্রী অফিসের জন্য রেডি হচ্ছেন। আর বাবা? মেয়ের চুলে দুটো বিনুনি করে দিচ্ছে, টিফিন বক্সে আলু-পরোটা ভরছে, জুতোর ফিতে বেঁধে দিচ্ছে। তারপর বাইক নিয়ে স্কুলে ড্রপ করে সোজা অফিস।

এই দৃশ্যটা এখন আর বিরল নয়। বাবা মানে শুধু মাসের শেষে মাইনে তুলে দেওয়া নয়। বাবা মানে এখন ‘সুপার ড্যাড’। যে রান্না করে, যে কাঁদলে জড়িয়ে ধরে, যে অঙ্ক করায়, যে মেয়ের পিরিয়ড নিয়ে খোলাখুলি কথা বলে।
১. কেন বদলাচ্ছে বাবার সংজ্ঞা?
নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি: দাদু-ঠাকুমা দূরে। মা-বাবা দু’জনকেই চাকরি করতে হয়। তাই বাচ্চার দায়িত্ব ভাগ না করে উপায় নেই।
প্যাটারনিটি লিভ: সরকারি চাকরিতে ১৫ দিন, অনেক বেসরকারি কোম্পানিতে ৪-১২ সপ্তাহ ছুটি। বাবারা জন্মের প্রথম দিন থেকেই বাচ্চার সঙ্গে থাকার সুযোগ পাচ্ছে। ডায়াপার বদলানো, ঢেঁকুর তোলানো শিখছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্রভাব: ইনস্টাগ্রামে ‘ড্যাড ইনফ্লুয়েন্সার’রা রান্না, চুল বাঁধা, বাচ্চাকে ঘুম পাড়ানোর রিল বানাচ্ছে। লাখ লাখ ভিউ। ‘এটা মেয়েদের কাজ’ ট্যাবু ভাঙছে।
জেন-জি মায়েরা: নতুন যুগের মায়েরা স্পষ্ট বলে দিচ্ছে – ‘আমি চাকরি করলে তুমিও বাচ্চা সামলাবে’। ইকুয়াল প্যারেন্টিং এখন ডিল-ব্রেকার।
২. ‘সুপার ড্যাড’ ঠিক কী কী করছে?
ডে-কেয়ার থেকে পিকআপ: অফিস ৫টায় ছুটি নিয়ে স্কুল/ক্রেশ থেকে বাচ্চা আনা এখন অনেক বাবার রুটিন।
কিচেন ম্যানেজমেন্ট:_ ম্যাগি নয়, বাচ্চার জন্য ওটস-খিচুড়ি রাঁধছে। রেসিপি দেখে টিফিন বানাচ্ছে।
ইমোশনাল সাপোর্ট:_ ছেলে কাঁদলে ‘মেয়েদের মতো কাঁদিস না’ বলে না। কোলে বসিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘কী হয়েছে বেটা?’
PTM আর হোমওয়ার্ক: মা একা নয়, বাবাও স্কুলে যাচ্ছে। প্রজেক্ট বানাতে রাত জাগছে।
পিরিয়ড এডুকেশন:_ মেয়েকে স্যানিটারি প্যাড কিনে দিচ্ছে, ইউটিউব দেখে বোঝাচ্ছে কেন পেট ব্যথা হয়।
৩. সমাজ কী বলছে?
আগে পাড়ার কাকিমারা বলত, ‘বউকে খুব ভয় পায়, বাচ্চার পটি পরিষ্কার করে’। এখন তারাই বলে, ‘কপাল করে বর পেয়েছে’।
তবে খোঁচা এখনও আছে। অফিসের কলিগ টিপ্পনি কাটে – ‘আজ আবার হাফ ডে? বাচ্চা সামলাতে?’ অনেক বাবা স্বীকার করে, শ্বশুরবাড়ি এখনও মেয়ে-জামাইকে বাচ্চা সামলাতে দেখলে বলে, ‘আমাদের সময় মেয়েরাই করত’।
৪. বাবাদের লাভ কী হচ্ছে?
মনোবিদরা বলছেন, যে বাবারা সন্তানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে, তাদের স্ট্রেস কমে ৪০%। বাচ্চার সঙ্গে বন্ডিং স্ট্রং হয়। টিনএজে গিয়ে ছেলে-মেয়ে বাবাকেই আগে সব বলে। ডিভোর্স রেটও কমে।
আর বাচ্চার লাভ? রিসার্চ বলছে, ‘ইনভলভড ড্যাড’-এর ছেলে-মেয়েদের IQ বেশি, কনফিডেন্স বেশি, মেন্টাল হেলথ ভালো। মেয়েরা বড় হয়ে ‘টক্সিক মেল’ চেনে, ছেলেরা শেখে মেয়েদের সম্মান করতে।
৫. রাস্তা এখনও কঠিন:
প্যাটারনিটি লিভ এখনও অনেক প্রাইভেট ফার্মে নেই। ছুটি নিলে প্রমোশন আটকে যায়। রাস্তায় বাবা একা বাচ্চা নিয়ে বেরোলে পাবলিক টয়লেটে ডায়াপার চেঞ্জিং স্টেশন নেই। মলের ‘ফিডিং রুম’-এ শুধু ‘মাদার্স অনলি’ লেখা।
তবু বদলাচ্ছে। দিল্লির এক স্টার্টআপ CEO ৩ মাস প্যাটারনিটি লিভ নিয়ে লিঙ্কডইনে পোস্ট দিয়েছে – ২০ হাজার লাইক। বেঙ্গালুরুর এক বাবা ‘ড্যাডস কুকিং উইদাউট ফায়ার’ ওয়ার্কশপ করাচ্ছে।
শেষ কথা:
বাবা মানে আর শুধু ‘হিরো’ নয়, ‘পার্টনার’। যে পাশে থাকে, কোলে নেয়, ভুল করলে সরি বলে। টাকা দিয়ে দায়িত্ব শেষ নয়, সময় দিয়ে সম্পর্ক তৈরি।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


