গরম পড়তেই বাজার ছেয়ে গেছে আম আর লিচুতে। কিন্তু সুগার, ক্যালোরি আর গরম করার ভয়ে অনেকেই খেতে পারেন না। তাদের জন্য এবারের সামার স্পেশাল কালো জামের শরবত। দেখতে ছোট হলেও গুণে এই ফল সেরা। পুষ্টিবিদরা বলছেন, জামে আছে জ্যাম্বোলিন ও জ্যাম্বোসিন নামে দুটো যৌগ, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
গ্রীষ্মের দাবদাহে প্রাণ জুড়াতে আমরা দৌড়াই কোল্ড ড্রিঙ্কসের দোকানে। কিন্তু বোতলবন্দি ওই রঙিন পানীয়ে চিনি আর প্রিজারভেটিভ ছাড়া কিছুই নেই। তার বদলে যদি ঘরেই বানিয়ে নেওয়া যায় পুষ্টিতে ঠাসা দেশি শরবত? এবারের গরমের ট্রেন্ডিং ড্রিংক কালো জাম বা জামুনের শরবত।

কেন খাবেন কালো জামের শরবত? বিশেষজ্ঞরা বলছেন ৭টি বড় কারণ:
১. ডায়াবেটিস বান্ধব: জামের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুব কম। এর বীজ ও শাঁসে থাকা জ্যাম্বোলিন ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়। ফলে রক্তে হঠাৎ সুগার স্পাইক হয় না।
২. হজমের মহৌষধ: জামে প্রচুর ফাইবার আর ট্যানিন আছে। গরমে বদহজম, অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা বা ডায়রিয়া হলে এক গ্লাস জামের শরবত দারুণ কাজ দেয়।
৩. ওজন কমায়: এতে ক্যালোরি নগণ্য, কিন্তু ফাইবার বেশি। শরবত খেলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে, খাই খাই ভাব কমে। মেটাবলিজমও বুস্ট করে।
৪. রক্ত পরিষ্কার করে: জামে থাকা আয়রন হিমোগ্লোবিন বাড়ায় আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তকে ডিটক্স করে। ফলে ত্বকে ব্রণ, ফুসকুড়ির সমস্যা কমে।
৫. হার্ট ভালো রাখে: পটাশিয়াম থাকায় উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। খারাপ কোলেস্টেরল কমাতেও সাহায্য করে জাম।
৬. মুখের আলসার সারায়: জামের কষাটে স্বাদ মুখের ঘা বা মাড়ি ফোলা সারাতে খুব উপকারী।
৭. ইমিউনিটি বুস্টার: ভিটামিন সি, আয়রন, ক্যালসিয়ামে ভরপুর জাম গরমকালে সর্দি-কাশি ঠেকায়।
পারফেক্ট কালো জামের শরবত বানানোর সহজ রেসিপি:
উপকরণ: ১ কাপ পাকা কালো জাম, ২ চামচ বিটনুন, ১ চামচ ভাজা জিরে গুঁড়ো, ১ চামচ লেবুর রস, ২ চামচ মধু বা গুড়, পুদিনা পাতা ৮-১০টা, ঠান্ডা জল ২ গ্লাস, বরফ কুচি।
পদ্ধতি: প্রথমে জামগুলো ভালো করে ধুয়ে নিন। এবার একটা বাটিতে নিয়ে হাত দিয়ে চটকে শাঁস আর বীজ আলাদা করে নিন। বীজগুলো ফেলবেন না। মিক্সিতে জামের শাঁস, পুদিনা পাতা, বিটনুন, জিরে গুঁড়ো আর মধু দিয়ে একসাথে ব্লেন্ড করুন। এবার ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিন যাতে খোসা বা আঁশ না থাকে। গ্লাসে এই ঘন পাল্পটা ৩-৪ চামচ দিন। উপর থেকে ঠান্ডা জল আর লেবুর রস মেশান। বরফ কুচি দিয়ে ঝাঁকিয়ে নিন। উপরে পুদিনা পাতা আর একটা গোটা জাম দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
এক্সপার্ট টিপস
১. বীজ ফেলবেন না: জামের বীজ রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে রাখুন। ডায়াবেটিসের রোগীরা রোজ সকালে খালি পেটে এক চামচ গুঁড়ো জল দিয়ে খেলে দারুণ উপকার পাবেন।
২. চিনি নয়, গুড় বা মধু: ডায়াবেটিস না থাকলেও চিনির বদলে গুড় বা মধু দিন। স্বাদ আর গুণ দুটোই বাড়বে।
৩. কখন খাবেন: দুপুরে খাওয়ার ৩০ মিনিট পর বা বিকেলের দিকে খান। খালি পেটে জাম খেলে অনেকের অ্যাসিডিটি হয়।
৪. কারা খাবেন না: যাদের কিডনিতে স্টোনের সমস্যা আছে বা যাদের রক্তে পটাশিয়াম বেশি, তারা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।
বাজারে এখন ৮০-১২০ টাকা কেজি দরে কালো জাম মিলছে। এক কেজি জামে প্রায় ৮-১০ গ্লাস শরবত হয়ে যাবে। তাই পকেটসাশ্রয়ীও বটে। এবারের গরমে আম-লিচুর একঘেয়েমি কাটিয়ে ট্রাই করুন এই বেগুনি সুপারড্রিংক। শরীর ঠান্ডা থাকবে, মনও ভালো থাকবে।
